অঞ্জন কুমার দে, মাস্কাট, ওমান প্রতিনিধি: ২৯ অক্টোবর ২০২১, শুক্রবার রূই আল মাসা হলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে সোশ্যাল ক্লাবের উদ্যোগে মিলাদ মহফিলের আয়োজন করা হয়। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এন আমিনের সঞ্চালনায় মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সম্মানিত চেয়ারম্যান সিরাজুল হক। হাফেজ ক্বারী আবদুল রহিম কতৃক পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া মাহফিলে নাথে রসুল ও গজল পরিবেশন করেন মোহাম্মদ ওসমান ও মুজাহিদ বিন আলী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মহসীন আলী সরকার সাথে ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বশর সরকার ও আবদুল রহিম। এরপর ক্লাবের সম্মানিত ট্রেজারার মাওলানা আবদুল ছালাম আল কদরী মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন গাল্ফ এক্সচেঞ্জ এর সিইও ইফতেখার উল হাসান চৌধুরী।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে সিরাজুল হক বলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস, সারা বিশ্বের মুসলমানরা এই দিনকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন আমরাও প্রতিবছের ন্যায় এবার এই দিনটি পালন করছি। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশাল আয়োজন সম্ভব না হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করছি সল্প পরিসরে।
তিনি আরও বলেন এই দিনে আরবের মরু প্রান্তরে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ৬৩ বছর বয়সে ১২ রবিউল আউয়ালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে এসেছিলেন তাওহিদের মহান বাণী নিয়ে। প্রচার করেছেন শান্তির ধর্ম ইসলাম। তাঁর আবির্ভাব এবং ইসলামের শান্তির বাণীর প্রচার সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। আরব সমাজ যখন পৌত্তলিকতার অন্ধকারে ডুবে ছিল, তখন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে সারা বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছিলেন সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ। ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন মহানবী (সা.)। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানান। সব ধরনের কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অন্যায়, অবিচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তির বার্তা বহন করে এনেছিলেন তিনি। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দীর্ঘ ২৩ বছর এই বার্তা প্রচার করেন।
আহ্বায়ক কমিটির ও ক্লাবের সকল কার্যকরী সদস্য এবং আর্থিক ভাবে যারাই সহযোগীতা করেছেন এবং আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তিনি বলেন সকলের সহযোগীতা আগামীতে ও থাকবে বলে আশা রাখি।
মাহফিলের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি। মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আবদুল ছালাম আল কাদরী। সবশেষে সবাই নৈশভোজে অংশ নেন।