প্রবাস মেলা ডেস্ক: গত এক সপ্তাহে ইতালি ১৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। যদিও সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে কম, কিন্তু এটি ইউরোপে অভিবাসন ব্যবস্থাপনার জটিলতা ও ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে ধরা দিচ্ছে।
ইতালির ডানপন্থী মেলোনি সরকার আলবেনিয়ার সঙ্গে একটি আলোচিত চুক্তি করে, যেখানে অভিবাসীদের আটক ও প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া আলবেনিয়ায় সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল। এ লক্ষ্যে ৭৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে দেশটির গজাদের শহরে একটি বিশাল কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়, যার ধারণক্ষমতা প্রায় ৪০০ জন।
সরকারি তথ্যমতে, এই কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েক ডজন অভিবাসীকে আটক রাখা হয়েছে। যাদের মধ্যে, অনেককেই ফের ইতালিতে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। কারণ, ইতালির আদালত তাদের আটকাদেশ বৈধ বলে স্বীকৃতি দেয়নি।
অনেক সময় আদালত নির্ধারণ করতে পারে না, কোনো দেশকে নিরাপদ বলা যায় কিনা। বাংলাদেশসহ কিছু দেশের ক্ষেত্রে এই বিতর্ক থাকায় অভিবাসীদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো আইনত জটিল হয়ে পড়ে।
এই ১৭ জন বাংলাদেশি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন নাকি জোর করে পাঠানো হয়েছে এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি। ইতালিতে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা দাবি করছে।
প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ার জন্য নির্মিত কেন্দ্রের প্রতিটি শয্যার পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৫৩ লাখ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড় কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে ব্যবহারের হার খুবই কম, ফলে পুরো পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। ইতালিতে বাংলাদেশের অভিবাসী প্রবেশের হার যেভাবে বাড়ছে, প্রত্যাবাসন তত দ্রুত হচ্ছে না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে চাপ ও প্রশাসনিক জটিলতা।
ইতালি থেকে ১৭ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হলেও, এর পেছনে রয়েছে একটি ব্যয়সাপেক্ষ, জটিল এবং অকার্যকর অভিবাসন ব্যবস্থার চিত্র। আলবেনিয়ার সঙ্গে ইতালির অভিবাসন চুক্তি নিয়ে ইউরোপজুড়ে উঠছে প্রশ্ন। এটি সতর্ক সংকেত বৈধ পথে বিদেশে যাওয়া ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা এখন আগের চেয়ে বেশি জরুরি।