প্রবাস মেলা ডেস্ক: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আকাশপথে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ করছে।
বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সময়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি বগুড়ায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি ইতোমধ্যে করা হয়েছে। মন্ত্রীর মতে, এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
তবে বোয়িং কোম্পানির তৈরি উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি দ্রুত করা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে FAA International Aviation Safety Assessment (IASA) Category-1 Status গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক (JFK) রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
পর্যটন খাত নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ। বিগত সরকার পর্যটন খাতের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে বলে জানান তিনি।
সাক্ষাতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে ওঠার অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে আছে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রদূত।
ক্রিস্টেনসেন আরও বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী। ঢাকা–নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে রাষ্ট্রদূতের নিজ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পট সফরের বিষয়েও সাক্ষাতে আলোচনা হয়।