প্রবাস মেলা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তবে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা পরবর্তী ধাপে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। খবর অ্যাক্সিওসের।
মার্কিন এক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো। যদিও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে মতভেদ রয়েছে।
প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা, যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদে বাড়ানো বা স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং পারমাণবিক আলোচনা পরবর্তী ধাপে শুরু করা।
বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রস্তাব কার্যকর হলে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা কমতে পারে। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের কৌশল দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি এখনই অবরোধ তুলে নিতে আগ্রহী নন। বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে চাপের মুখে ছাড় দিতে বাধ্য করার কৌশল অব্যাহত রাখতে চান তিনি।
রোববার (২৬ এপ্রিল) এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, অবরোধের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং এতে দেশটির ওপর চাপ বাড়ছে।
এদিকে সোমবার (২৭ এপ্রিল) ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে, যেখানে ইরান ইস্যুতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।
সম্প্রতি পাকিস্তানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সফর কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
পরে আরাঘচি ওমান হয়ে আবার ইসলামাবাদে ফেরেন এবং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশের সঙ্গে আলোচনা করেন। জানা গেছে, পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক ও কাতারের মাধ্যমে এই নতুন প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত- বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ ও মজুত সরিয়ে নেওয়া- কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে ঐকমত্য নেই।
এই প্রেক্ষাপটে ইরান প্রথমে হরমুজ সংকট সমাধান করে পরে পারমাণবিক আলোচনায় যাওয়ার কৌশল নিয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রস্তাবটি তারা পেয়েছে, তবে এখনও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল এমন কোনো চুক্তিতে যাবে, যা আমেরিকান জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না।
বর্তমানে পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকলেও, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী কয়েকদিন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।