শ্যামলী আক্তার, পিয়াতকর টাইবুনালস্কি, পোল্যান্ড থেকে: পোল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মোঃ মইনুল ইসলাম, এনডিসি, বিপিএম-এর সঙ্গে ‘Meet and Greet’ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে পোল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। ১৮ জুলাই ২০২৫, শুক্রবার দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পোল্যান্ডসহ লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও ইউক্রেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা অংশ নেন।
দিনের শুরুতে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রদূত জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে দূতাবাসে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবের পটভূমি ও তাৎপর্য তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, “বর্তমান সরকারের তিনটি মূল কর্মসূচি হলো—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। এই সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করা হবে, যেখানে সকল কর্মকাণ্ড হবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।”
রাষ্ট্রদূত প্রবাসীদের সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময় করেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা করেন। পোল্যান্ডে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুবিধা, ভবিষ্যতে পোল্যান্ডে আরও শিক্ষার্থীর সুযোগ তৈরিসহ দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি, বাংলাদেশে পুনরায় পোল্যান্ডের দূতাবাস খোলার বিষয়ে আলোচনার অগ্রগতি নিয়েও মত প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত ঢাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোলিশ ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান। একই সঙ্গে তিনি প্রবাসীদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অব্যাহত অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আগত প্রবাসীরা রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং আয়োজনের জন্য দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান। উপস্থিত সবাই অনুষ্ঠানটির প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।