সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় প্রবাস মেলা অফিসে বেড়াতে আসেন দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার জাকির হোসেন রাজু। তার সঙ্গে প্রবাস মেলা’র মিডিয়াকর্মীরা চা-চক্রে অংশ নিয়ে তার চলচ্চিত্র জীবনের গল্প শোনেন। এক ফাঁকে তার হাতে প্রবাস মেলা’র সৌজন্য কপি তুলে দেন পত্রিকাটির অনলাইন রিপোর্টার আশরাফুল আলম মাসুদ।
উল্লেখ্য, জাকির হোসেন রাজু ১৯৬৪ সালের ১৫ জানুয়ারি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার খুনেরচরে জন্মগ্রহণ করেন। শুরুতে তিনি শরীয়পুরের গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে মাদারীপুরের কালকিনির খাসের হাট বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসএসি পাশ করেন। ছোটবেলা থেকেই অনেক মেধাবী ছিলেন জাকির হোসেন রাজু। প্রাথমিকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছেন তিনি। পরে মাদারীপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করেন। এরপর ঢাকায় এসে তেজগাঁও কলেজে বিএতে ভর্তি হন। এরইমধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনে (বিআইডব্লিউটিসি) চাকরি পান জাকির হোসেন রাজু। চাকুরিরত অবস্থায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ধ্যাকালীন কোর্সে ভতি হন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিভাগেও মাস্টার্স করেন।
চলচ্চিত্রে জাকির হোসেন রাজু
জাকির হোসেন রাজু চলচ্চিত্রে আসেন ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ চলচ্চিত্রের পরিচালক তোজাম্মেল হক বকুলের সহকারী হিসেবে। এছাড়া চলচ্চিত্রকার দিলীপ সোমের সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন দোলা চলচ্চিত্রে। জাকির হোসেন রাজু মূলত নাট্য ও রোমান্টিকধর্মী চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। পরিচালক হিসেবে তার প্রথম কাজ সালমান শাহ-শাবনূর জুটির ‘জীবন সংসার’। ১৯৯৭ সালে পরিচালনা করেন ‘এ জীবন তোমার আমার’। এতে অভিনয় করেন রিয়াজ ও পূর্ণিমা। ২০০১ সালে তার নিজের লেখা গল্প নিয়ে নির্মাণ করেন ‘মিলন হবে কত দিনে’ ও ‘নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি’। এ দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন জনপ্রিয় জুটি রিয়াজ ও শাবনূর। ২০০৭ সালে পরিচালনা করেন শাকিব খান ও পূর্ণিমাকে নিয়ে ‘মা আমার স্বর্গ’।
এছাড়া একই বছর শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস জুটিকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘স্বামীর সংসার’ (২০০৭) এবং ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’ (২০০৮)। ২০০৯ সালে পরিচালনা করেন শাকিব খান-বিদ্যা সিনহা সাহা মীমকে নিয়ে ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’। চলচ্চিত্রটি ইউরো-সিজেএফবি পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ডে ‘সেরা চলচ্চিত্রের’ পুরস্কার পায়। ২০১০ সালে নির্মাণ করেন শাকিব খান-অপু বিশ্বাস-রুমানাকে নিয়ে ত্রিভুজ প্রেমের ছায়াছবি ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’। এই চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার ও শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
পরে ২০১২ সালে নিজের লেখা ‘জ্বী হুজুর’ চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন অভিষিক্ত দুই অভিনেতা ও অভিনেত্রী সায়মন সাদিক ও সারা জেরিন। ২০১৩ সালে নির্মাণ করেন ‘পোড়ামন’ ও ‘এর বেশি ভালোবাসা যায় না’। সায়মন সাদিক-মাহিয়া মাহী জুটির ‘পোড়ামন’ চলচ্চিত্রটি দর্শক সমাদৃত হয়। পরের বছর ২০১৪ সালে নির্মাণ করেন ‘দবির সাহেবের সংসার’ ও ‘অনেক সাধের ময়না’। কমেডি ধাঁচের দবির সাহেবের সংসার ছায়াছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন আলীরাজ ও অন্যান্য ভূমিকায় অভিনয় করেন মাহি, বাপ্পি ও ইমরোজ।
২০১৬ সালে মুক্তি পায় চার্লি চ্যাপলিনের সিটি লাইট্স চলচ্চিত্রের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত ‘অনেক দামে কেনা’। আবদুল্লাহ জহির বাবু রচিত এ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন বাপ্পি, মাহী ও ডিপজল। একই বছর আরও পরিচালনা করেন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র ‘নিয়তি’। এতে অভিনয় করেন আরিফিন শুভ ও ফাল্গুনী রহমান জলি। এটি প্রথম যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র যেখানে পরিচালক এবং প্রধান চরিত্রে অভিনেতা-অভিনেত্রী বাংলাদেশি। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পায় শুভ-ফারিয়া জুটির ‘প্রেমী ও প্রেমী’। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুভ-তানহা-ইমরোজকে নিয়ে নির্মিত ‘ভালো থেকো’।
এদিকে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত সরকারি অনুদানে ‘চাদর’ চলচ্চিত্রটি এরইমধ্যে সেন্সর হয়ে গেছে। এটি এখন মুক্তির অপেক্ষায় আছে বলে জানিয়েছেন এই গুণী চলচ্চিত্রকার।
পুরস্কার: ২০১২ সালে ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার, শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা ও শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী হন। এছাড়া একই চলচ্চিত্রের জন্য ২০১৪ সালে জাকির হোসেন রাজু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।