রাসেল আহমেদ, প্যারিস, ফ্রান্স থেকে: ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে নির্মিত প্রথম স্থায়ী শহীদ মিনারে প্রথমবারের মতো ৫২’র ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। স্থায়ী সময় বিকেল ৩টায় প্যারিসের বিখ্যাত সেইন্ট ডেনিস ইউনিভার্সিটির বার্নার্ড মারি স্কয়ারে নির্মিত শহীদ মিনারে এসোসিয়েশন ছিকানো বাঙ্গালী নানা আয়োজনে এ দিবসটি উদযাপন করেছে।
১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে ফ্রান্সে প্রবাসী বাঙ্গালীরা অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় এ দিবসটি পালন করলেও প্রথমবারের মতো স্থায়ী শহীদ মিনারে পালন করলো প্যারিস প্রবাসীরা। বিকাল তিনটায় সেন্ট ডেনিসের সহকারী মেয়র বাংলাদেশ যুগ্ম সচিব মাফুজা আক্তের সচিব স্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। এরপর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় এসোসিয়েশন ছিকোয়নো বাঙ্গালী, একুশ উদযাপন পরিষদ ফ্রান্স, ফ্রান্স আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফ্রান্স বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ফ্রান্স, অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন আয়েবা, ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ এসোসিয়েশন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, ফ্রান্স সংসদ, ফ্রান্স বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বার স্বরলিপি শিল্পীগোষ্ঠী ফ্রান্স বরিশাল বিভাগীয় সমিতি ফ্রান্স, দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন, নরসিংদী জেলা কমিউনিটি ইন ফ্রান্স, দোহার নবাবগঞ্জ এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন, ইপি এস বাংলা, যুব ইউনিয়ন ও বাংলা গোলাপগঞ্জ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা জকিগঞ্জ ঐক্য পরিষদ, ফ্রান্স সুন্দরবন কল্যাণ সমিতির খুলনা বিভাগ অ্যাসোসিয়েশন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠনসহ প্যারিসের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সব বয়স আর শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণে মুখরিত হয়ে ওঠে। এই সময় উপস্থিত ছিলেন অল ইউরোপীয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের মহসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ, ছিকানো বাঙ্গালী এসোসিয়েশনের সভাপতি সরুপ সদিওল, বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কাশেম, ফ্রান্স বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সালেহ আহমেদ চৌধুরী, একুশ উদযাপন পরিষদ ফ্রান্সের আহবায়ক সুব্রত ভট্টাচার্য শুভ ও সদস্য সচিব এমদাদুল হক স্বপন সহ ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালি সংগঠন এবং বিভিন্ন সংগঠন ও ফরাসিরাও এতে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরও এতে অংশগ্রহণ করেন।
বিশেষ আকর্ষণ ছিল বইমেলা এবং শিশুদের চিত্রাংকন।