প্রবাস মেলা ডেস্ক: নিউজার্সিতে বসবাসরত সাবেক ছাত্রনেতা, বিশিষ্ট সংগঠক, রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিকুর রহমান সালু আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। ৫ ডিসেম্বর ২০২৩, মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে নিউজার্সির একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা, নাতিসহ বহু আত্নীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মী-ভক্ত রেখে গেছেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবরে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির চেয়ারম্যান ও ফোবানা’র সাবেক চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান সালুর চলতি বছরের মাঝামাঝি শরীরে মরণব্যাধি ক্যান্সার রোগ ধরা পড়ে। এরপর থেকেই তার চিকিৎসা চলছিল এবং তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মতি কেমো নিচ্ছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে ৩০ নভেম্বর শনিবার তাকে নিউজার্সির প্যাসাইক সিটির একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মূলতঃ তিনি লাইফ সাপোর্টেই ছিলেন।
আতিকুর রহমান সালুর বিদেহী আত্নার মাফফেরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসী ও সকল প্রবাসী বাংলাদেশির দোয়া কামনা করা হয়েছে। ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের পর জামাইকা মুসলিম সেন্টারে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন ইমাম মির্জা আবু জাফর বেগ। এসময় মরহুম আতিকুর রহমান সালু সম্পর্কে কথা বলেন ডা. মোহাম্মদ বিল্লাহ, হামিদ রেজা খান, মোহাম্মদ হোসেন খান, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান ও সেক্রেটারি আফতাব মান্নান।
এদিকে ৬ ডিসেম্বর বুধবার নিউজার্সির প্যাটারসনে আরেকটি জানাজার নামাজ শেষে জালালাবাদ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, আতিকুর রহমান সালু’র জন্ম টাঙ্গাইলে ১৯৪৮ সালে। শৈশব ছাড়িয়ে কৈশোরের দিনগুলো কেটেছে দূরন্তপনায়। হাইস্কুলের শেষ প্রান্তে নিউ ক্লাশ টেনে পড়াকালে সমগ্র হাই স্কুলের জেনারেল ক্যাপ্টেন এবং পরবর্তীকালে মধ্য ষাট দশকে টাঙ্গাইল জেলার ঐতিহ্যবাহী করটিয়া কলেজ (বর্তমানে সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ) ছাত্র সংসদের এজিএস এবং সেখান থেকে গ্র্যাজুয়েশন ও পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন ও পরবর্তীতে আইনে ডিগ্রি লাভ। এর মাঝে ১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ সনের টাঙ্গাইলের প্রতিটি ছাত্র আন্দোলনে তথা ঢাকাসহ তৎকালীন সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী ছাত্র-গণ আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান ও কারাবরণ। ক্রমান্বয়ে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের তৎকালীন টাঙ্গাইল মহুকুমা-তথা টাঙ্গাইল জেলার সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি পদ ও পরবর্তীকালে অবিভক্ত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পরবর্তীকালে সংগঠনের (মেনন গ্রুপ) সাংগঠনিক সম্পাদক, পর্যায়ক্রমে পূর্ব বাংলা বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন তথা বাংলাদেশ বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির পদ অলংকৃত করেন।