জাহাঙ্গীর আলম শিকদার, লন্ডন, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: ২২ শে জুন ২০২৩ বিকাল ৬.৩০টা স্থানীয় একটি হলে ‘Dada bhai Commemorations ‘এর ব্যানারে আয়োজন করা হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী স্মরণ অনুষ্ঠান। যে অনুষ্ঠানে কোন সভাপতি ও মঞ্চ ছিল না। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন সিরাজুল আলম খানের আপনজন ডা. নাজমা জুমা, মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন যুক্তরাজ্য জেএসডি’র সভাপতি ও কোন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ছমির উদ্দিন।
সভার শুরুতে একে একে উপস্থিত হতে থাকেন, বীর-মুক্তিযোদ্ধা ও নিউক্লিয়াসের সদস্য সৈয়দ মাবুদ, বেতার বাংলা’র সিইও নাজিম চৌধুরী ও তার পরিবার, ডা. নাজমা জুমা দম্পতি, তোফায়েল চৌধুরী (মুক্তা) দম্পতি, কাউন্সিলার শেরওয়ান চৌধুরী, কাউন্সিলার সাদ চৌধুরী, প্রখ্যাত আইনজীবী নুরুল ইসলাম এমবিই, এডভোকেট শিব্বির আহমদ ও তার পরিবার, দাদার ভাতিজা শরীফুল আলম খান মিশু ও তার পরিবার, মাহের আহমদ মিশু, সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব নজরুল ইসলাম বাসন, বাসদের আহ্বায়ক গয়াছুর রহমান গয়াছ, জাসদ নেতা মতিউর রহমান, মিস ফারদিয়া রাজা চৌধুরী, মিস আরফুমান রাজা চৌধুরী, মিস আলিয়া রাজা চৌধুরী, মিস শিখা, বাবুল তালুকদার, জাসদের রেদওয়ান খান ও মাহমুদুর রহমান, জনাব সোলায়মানসহ আর ও অনেকে।
অনুষ্ঠানের শুরু হয় মওলানা আব্দুল কুদ্দুছের কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে। দোয়াতে তিনি সিরাজুল আলম খান দাদা ও স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মার মাগফেরাতের জন্য দোয়া কামনা করা হয়। সিরাজুল আলম খানসহ সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
তারপরই দাদার প্রিয় দেশাত্ববোদক গান ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’ গান দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। সে সাথে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন জনের সাথে সিরাজুল আলম খানের বিভিন্ন স্মৃতি দেখানো হয়। রবীন্দ্র সংগীত ‘যদি তোর ডাক শোনে কেউ না আসে তবে একলা চল’ সহ অনেক গান পরিবেশন করা হয়।
আলহাজ্ব ছমির উদ্দিন, নাজিম চৌধুরী ও ডা. নাজমা জুমাসহ অনেকেই দাদার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। অনেকেই উপস্থিত ছিলেন যারা দাদা যখন লন্ডনে আসতেন, তারা দাদার সেবা- করতেন। অনেকের সাথে তার আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
সকলেই তাদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন- দাদা আমরা তোমাকে অনেক মিস করছি। জনাব আব্দুল মাবুদ দাদা কেমন করে কিভাবে আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফকে নিয়ে নিউক্লিয়াস গড়ে তুলেছিলেন তা তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, নিউক্লিয়াস গঠন করে তারা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ১০ বছরের মধ্যে তারা বাংলাদেশকে স্বাধীন করবেন। তাদের সেই প্রতিজ্ঞা সত্যিই বাস্তবায়িত হয়েছিল এবং ১০ বছরের ভিতরে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। ১৯৬৯ এর গণআন্দোলন শুরু হয়েছিল ছাত্রলীগের ১১ দফার মাধ্যমে এবং তারাই পাকিস্তানের স্বৈরশাসককে বাধ্য করেছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে। ৭০ এর নির্বাচনের বিজয় তাদের আন্দোলনের ফসল। তারা বঙ্গবন্ধুকে নেতা মেনেই সব আন্দোলন করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন, দাদার অমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার মাধ্যমেই দাদার আত্মা শান্তি পাবে। তার ঘোষিত ১৪ দফাকে সমাপ্ত করার আহ্বান জানান।
বক্তব্য ও স্মৃতিচারণ শেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।