প্রবাস মেলা ডেস্ক: সীমান্তে অভিবাসীদের ঠেকাতে একজোট হলো যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। এ বিষয়ে একযোগে পদক্ষেপ নিতে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে দেশ দুটির সরকার। শিগগিরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।
২৩ মার্চ ২০২৩, বৃহস্পতিবার দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কানাডার রাজধানী অটোয়া পৌঁছান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ২৪ মার্চ ২০২৩, শুক্রবার দুই নেতার শীর্ষ বৈঠকে চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।
চীনা প্রেসিডেন্টের রাশিয়া সফর ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাত নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সস্ত্রীক কানাডার রাজধানী অটোয়া পৌঁছান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সফরের প্রথম দিনেই কানাডীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।
এরপর দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, সীমান্তে অবৈধ অভিবাসীদের ঢল এরইমধ্যে একটি চুক্তিতে পৌছেছেন দুই নেতা।
বিবিসি জানায়, চুক্তি অনুযায়ী অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে এক দেশ থেকে আরেক দেশে প্রবেশের সময় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দিতে পারবেন উভয় পাশের কর্মকর্তারা। সম্প্রতি কানাডা থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য এবং কানাডার কুইবেক প্রদেশের মধ্যে অনুমোদনহীন বেসরকারি সীমান্ত ক্রসিং রক্সহ্যাম রোডে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানান দুইদেশের কর্মকর্তারা।
এছাড়াও চুক্তির একটি অংশ হিসেবে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকায় নিপীড়ন ও সহিংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে আসা ১৫ হাজার অবৈধ অভিবাসীর জন্য কানাডা সরকার নতুন একটি শরণার্থী কর্মসূচি তৈরি করবে বলেও জানানো হয়।
মূলত এটি ২০০৪ সালে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া ‘সেফ থার্ড কান্ট্রি এগ্রিমেন্ট’ নামে একটি চুক্তির সংশোধনী। ওই চুক্তি অনুযায়ী এতদিন অবৈধ অভিবাসীদের উদ্ধার করে প্রথমে একটি ‘নিরাপদ’ দেশে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার বিধান থাকলেও, তাদেরকে নিজ দেশে ফিরিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে বাধা ছিল।
নতুন এই সংশোধনীর ফলে আগের চুক্তির সীমাবদ্ধতা দূরে করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দিতে পারবেন সীমান্তের উভয় পাশের কর্মকর্তারা। শুধু তাই নয়, নতুন এই চুক্তি কার্যকরে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের কোন প্রয়োজন নেই বলেও জানায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।