প্রবাস মেলা ডেস্ক: নানা বৈরী প্রতিকূলতার পরবাসী জীবনে বহুজাতিক ভাষাভাষীর সম্পৃক্তায় হররোজ অতিবাহিত করা যে সব ডায়াসপোরা লেখক বুকের গভীরে মাতৃভাষাকে পুষে বেড়ান, ফরহাদ হোসেন তাঁদের অন্যতম একজন। প্রবাস জীবনে শত কর্মব্যস্ততার মধ্যেও তিনি লেখালেখির মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। বাংলা শিল্প-সাহিত্য সম্পর্কে ফরহাদ হোসেন এর আগ্রহ বহুদিনের। দীর্ঘসময় প্রবাসে থেকেও তিনি এ চর্চা অব্যাহত রেখেছেন।

ফরহাদ হোসেনের জন্ম ১৬ই ডিসেম্বর। জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফরিদপুর শহরে। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি একাধারে একজন লেখক, চিত্রনাট্যকার, নির্মাতা, প্রযোজক, সঞ্চালক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক। শিকাগোর বিখ্যাত ডিপল ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার ম্যানেজমেন্ট এবং ইনফরমেশন সিস্টেমস-এ স্নাতকোত্তর, আমেরিকার একটি প্রখ্যাত কোম্পানীতে আইটি কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত শশব্যস্ত ফরহাদ হোসেনের পেশাগত কাজের বাইরের সিংহভাগ সময় কাটে লেখালেখি, মিডিয়া এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে।

উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন ধারার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবাধ বিচরণকারী ফরহাদ হোসেন মূলত নিরীক্ষাধর্মী চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যমে তার লেখালেখির জগতে পদচারণা শুরু করেন। তাঁর লেখায় প্রবাসীদের জীবিকা ও জীবনের টানাপোড়েন, সুখ-দুঃখ, সমসাময়িক বিষয়গুলো বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়। একইভাবে গল্পের অদেখা স্থান-কাল-পাত্রগুলো পাঠকবৃন্দের মনোজগতে প্রতিফলন ঘটিয়ে নতুন মাত্রা যোগ করে।

প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ছটি। স্বপ্নজাল তাঁর প্রথম উপন্যাস। তার বইগুলো হলো- নীল ধ্রুবতারা (উপন্যাস ২০২৩), যোজন যোজন দূর (উপন্যাস ২০২২), স্বপ্নজাল (উপন্যাস – ২০২১), তৃতীয় পক্ষ (গল্পগ্রন্থ – ২০২০), এবং একদিন হঠাৎ (উপন্যাসিকা – ২০২১), ধূসর বসন্ত (গল্পগ্রন্থ – ২০২০)। ২০২২ সনে রকমারি বেষ্ট সেলার যোজন যোজন দূর তার দ্বিতীয় উপন্যাস। তৃতীয় উপন্যাস নীল ধ্রুবতারা। তার প্রতিটি গ্রন্থই পাঠক সমাদৃত হয়েছে এবং সুসমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
ফরহাদ হোসেনের বাবার নাম আমিন উদ্দিন আহমেদ, মা ফজিলাতুন্নেসা। স্ত্রী মডেল ও অভিনেত্রী সালমা রোজী। তাদের এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ে হৃদিতা হোসেন ছেলে হৃদভিক হোসেন। প্রায় দুই যুগ যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে থেকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে বসবাস করছেন।