প্রবাস মেলা ডেস্ক: পাক্ষিক প্রবাস মেলা অফিসে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। ১৬ অক্টোবর (রবিববার) সন্ধ্যায় প্রবাস মেলার কলাকুশলীদের সাথে তিনি চা-চক্রে অংশ নিয়ে দেশের বর্তমান রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। আলোচনার এক ফাঁকে সাবেক এই সংসদ সদস্যের হাতে প্রবাস মেলার সৌজন্য কপি তুলে দেন পত্রিকার সম্পাদক শরীফ মুহম্মদ রাশেদ এবং নির্বাহী সম্পাদক শহীদ রাজু।
রাজনৈতিক ও কর্মজীবন
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের জন্ম দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বরিশালে। তিনি বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আলাল একজন স্পষ্টভাষী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। যে কারণে বর্তমান সরকারের আমলে অনেক হামলা-মামলার স্বীকার হয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে দুই শতাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি টিভি টকশোতে খুব সাবলীল, প্রাঞ্জল ও যৌক্তিক ভাষায় সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে থাকেন।
রাজনীতিতে কিভাবে এলেন এক প্রশ্নে জবাবে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ছাত্রাবস্থায় ইচ্ছে ছিল ফরেন সাভির্সে চাকরি করবো। এক পর্যায়ে ১৯৮২ সালে ওমান দূতাবাসে চাকরিও হয়েছিল, কিন্তু জীবনের মোড় ঘুরে যায় একই বছর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তারই সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়া দলটির নেতৃত্বে এলে।
আলাল বলেন, আমি ছাত্র অবস্থাতেই রাজনীতি করতাম। আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনীতিতে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। বরিশাল জেলা যুবদলের প্রথম ব্যালটে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলাম। ১৯৮২ সালে একদিন বিএনপির বর্তমান স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন। তখন আমার ওমান দূতবাসে চাকরি হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া আমাকে দেখে বললেন আপনাদের মতো লোকেরা যদি দলের হাল না ধরেন তাহলে বিএনপিকে কে এগিয়ে নেবে। সত্য বলতে বেগম জিয়ার এই কথাই রাজনীতিতে আমার মোড় ঘুরে যায়।
যুবদলের কমিটিতে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল বিএনপির যুব অঙ্গসংগঠন। জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর যুবদল নামে বিএনপির যুব সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০২ সালে যুবদলের চতুর্থ কাউন্সিলে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১০ সালের ১ মার্চ পঞ্চম কাউন্সিলে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সংগঠনটির সভাপতি নির্বাচিত হন। বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে তাকে দলের যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আলাল
এক সময় পুরোদস্ত সাংস্কৃতিক কর্মী ছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী থিয়েটার বরিশাল নাটকের ফাউন্ডার সেক্রেটারি ছিলেন। বরিশাল বিএম কলেজে পড়ার সময় বার্ষিক সাহিত্য, নাটক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন।
দেশের বর্তমান রাজনীতি প্রসঙ্গে
দেশের বর্তমান রাজনীতি প্রসঙ্গে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, প্রায় ১৬ বছর বিএনপি ক্ষমতার বাইরে, দলটির শীর্ষ নেতারাও বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, তারপরও দলটি সম্প্রতি বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে মাঠের আন্দোলনে জনমত তৈরি করছে। আমরা চাই দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে দলটির অবস্থান কেমন হবে?এই প্রশ্নের জবাবে বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগুতে হবে, দেশটা আমাদের সকলের, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতার একটা কৃষ্টি আমরা প্রচলন করতে চাই। রাজনীতিকে সকল কুলষতা থেকে মুক্ত করতে হবে। সত্য , ন্যায় ও সুন্দর প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ আমরা সে পথেই এগুতে চাই।