মো: মোস্তফা কামাল মিন্টু:
ছোটবেলা থেকেই গান ভালোবাসেন। গানের পাশাপাশি নাচ ও অভিনয় করেছেন। তবে এখন শুধু গানকেই পেশা হিসেবে নিয়েছেন। ইতোমধ্যে গান গেয়ে দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন। বলছি বর্তমান প্রজন্মের প্রতিশ্রুতিশীল ফোকশিল্পী তামান্না হকের কথা। সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় তিনি এসেছেলিন পাক্ষিক প্রবাস মেলা কার্যালয়ে। গানের জগতে আসা, করোনাকালীন গানের চর্চা এবং ভবিষ্যত স্বপ্ন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন প্রবাস মেলার সাথে। সেসবের চুম্বক অংশ নিচে তুলে ধরা হলো।

বেড়ে ওঠা: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্ম হলেও বেড়ে ওঠা ঢাকার মোহাম্মদপুরে। পড়াশোনার পাঠও এখানেই চলছে। চাইল্ড হ্যাভেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইসএসসি শেষ করে আলহাজ্ব মকবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ডিগ্রি করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বেশ কয়েক বছর ধরে গান চর্চা করে চলেছেন তামান্না।

গানের জগতে পথচলা: ‘আমার বাবার স্বপ্ন ছিল আমি শিল্পী হবো, বাবা ছোটবেলা থেকেই গানের ব্যাপারে খুব উৎসাহ দিতেন। বাবার সাথে ছোটবেলায় আমি নিজেও গান গাইতাম। সেই সাথে স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ ও অভিনয় করতাম। কিন্তু বাবা চাইতেন আমি শিল্পী হই। বলা যায় বাবার ইচ্ছাতেই গানকে পেশা হিসেবে নিয়েছি’। এভাবেই তিনি জানালেন গানের জগতে তার পথচলার শুরুর কথা। ২০১৭ সালে বিজয় টিভিতে ‘কুঁড়িয়ে পাওয়া’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া তামান্না হকের এরই মধ্যে প্রায় ৪০টিরও বেশি গান বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে। তার মধ্যে বেশকিছু গান দেশে এবং প্রবাসের শ্রোতাদের কাছে পেয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা। বর্তমানে বিটিভি, এশিয়ান টিভি, সিএনএস বাংলাতে নিয়মিত গান করেন তিনি।

গানের চর্চা: ওস্তাদ আবু সাইদ বিশ্বাসের কাছ থেকে গানের তালিম নিয়েছেন তামান্না। বতর্মানে ওস্তাদ আবু নাসির চৌধুরীর কাছে গান শিখছেন। একজন স্টেজ পারফরমার হিসেবে তামান্না সব ধরণের গানই পছন্দ করেন। ফোকগানের পাশাপাশি তিনি আধুনিক, নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, লালনগীতিসহ আরও অনেক গানেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মা-মাটি ও মানুষের গন্ধ শুকেই আমাদের জীবনের শুরু, আর ফোকগানের মাধমেই বাংলার ঐতিহ্য সবার সামনে ফুটিয়ে তুলতে চাই।’

‘ফোকগানের আবেদন শুধু ব্যক্তি বিশেষে শুধু আমার নয়, সবশ্রেণির শ্রোতাদের কাছেই জনপ্রিয়, কারণ এ গানে ভাবাবেগ বা স্পিরিচুয়ালিটি অন্য গানের চেয়ে বেশি বলে আমি মনে করি,’ বলেন নতুন প্রজন্মের এই শিল্পী।

স্টেজ পারফরমেন্স: নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পাওয়া তামান্না হক দেশে-বিদেশ নিয়মতি স্টেজ পারফরমেন্স করেন। কলকাতার দীঘায় পারফর্ম করে তিনি বিদেশি দর্শকদের টাইমলাইনে আসেন। এরপর কলকাতার বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি আসাম, ত্রিপুরা রাজ্যের বেশকিছু স্টেজ পারফরমেন্সে অংশ নিয়েছেন।

কৃতজ্ঞতা: গানের জগতে পথচলায় তামান্না বিশেষভাবে তার বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাবার উৎসাহেই আজ আমি তামান্না হয়েছি। বর্তমানে আমার স্বামী সার্বক্ষণিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। গীতিকার, সুরকার ও মিউজিক ডিরেক্টর মান্নান মোহাম্মদ, জেমিনি মিউজিক ওয়াল্ডের প্রেসিডেন্ট বেলাল আহমেদ, পপি মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান রাসেল খান, আপন সুরের চেয়ারম্যান মনির হোসেন মনির, এলেম মিউজিকের চেয়ারম্যান এইচ আর লিটনের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশেনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিএ তায়েবকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তামান্না। সর্বোপরি দর্শকশ্রোতাদের ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান বলে জানান।

ভবিষ্যত স্বপ্ন: বাংলার মাটির গানকে দেশে-বিদেশে তুলে ধরতে চাই।

প্রবাস মেলা: প্রবাস মেলা প্রবাসীদের পত্রিকা। এটা একটা ভালো উদ্যোগ। প্রবাসীরা অনেক দূরে থাকলেও প্রবাস মেলা দেশ-বিদেশের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করে। আমি পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য রইলো শুভ কামনা।