রাশেদ কাদের, আম্মান, জর্ডান থেকে: ২৬ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার বাংলাদেশ দূতাবাস আম্মান , জর্ডান আগামী দিনগুলোতে জর্ডানে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার জন্য দূতাবাসের অর্থনৈতিক কূটনীতির আলোকে যৌথভাবে কাজ করার জন্য ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এর সাথে একটি ভার্চুয়াল সভা (জুম ভিত্তিক) অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় জর্ডানে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর মান্যবর রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান, বাংলাদেশ দূতাবাস জর্ডানের প্রথম সচিব মো: বশির এবং বাংলাদেশ দূতাবাস ও ডিসিসিআই’র সংশ্লিষ্ট কর্মকতাবৃন্দ যোগদান করেন। এ সভায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি একসাথে কাজ করার জন্য একমত পোষণ করে অভিন্ন কৌশল নির্ধারণ করে।
ডিসিসিআই’র পক্ষ থেকে একটি অনলাইন প্রশিক্ষণের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এই সভা আয়োজন করা হয়। মান্যবর রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বেগবান করার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে । মুজিববর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকে সামনে রেখে দূতাবাস জর্ডান সরকারের সাথে বিভিন্ন সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে গতিশীল করার উপর জোর দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জর্ডানে তৈরি পোষাক, চামড়াজাত পণ্য, কৃষি পণ্য, ঔষধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল দ্রব্যাদি সহ অসংখ্য সম্ভাবনাময় খাত রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভবান হতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন , অর্থনৈতিক কূটনীতিকে জোরদার ও সফল করার জন্য বেসরকারি খাতের অবদান খুবই জরুরী। এ প্রেক্ষিতে মান্যবর রাষ্ট্রদূত অর্থনৈতিক কূটনীতিকে কার্যকর করার জন্য বেসরকারি খাত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে একত্রে কাজ করার জন্য অঙ্গীকার করেন। রাষ্ট্রদূত আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে সকল পণ্য রপ্তানিতে জর্ডান শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে থাকে। তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এ সুযোগ গ্রহণের লক্ষ্যে জর্ডানে আরো বেশি হারে বিনিয়োগের আহ্বান জানান ।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ঢাকা চেম্বার ইতোমধ্যে প্রথমবারের মতো ‘ডিসিসিআই বিজনেস কনক্লেভ’- এর আয়োজন করেছে, যেখানে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের উদ্যোক্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন এবং আগামীতে এ ধরণের আয়োজনে জর্ডানের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস, ডিসিসিআই এবং জর্ডানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংস্থাগুলির মধ্যে কিছু ভার্চুয়াল বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে, যেখানে দুদেশের উদ্যোক্তাদের সম্পর্ক উন্নয়ন হবে এবং সম্ভাবনময় খাতসমূহে বিনিয়োগের সম্ভবনা বৃদ্ধি পাবে। ডিসিসিআই সভাপতি কোভিড জনিত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলে জর্ডানে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ করার লক্ষ্যে ঢাকা চেম্বার হতে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল প্রেরণে দূতাবাসকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের প্রস্তাব করেন। এছাড়াও তিনি দু’দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিনিময়ের উপর জোর দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি দু’দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক বন্ধন আরো সুদৃঢ় করা সম্ভব হলে তা ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। ডিসিসিআই সভাপতি জানান, মুজিববর্ষ উদযাপনকে সামনে রেখে ডিসিসিআই এর পক্ষ হতে এ বছর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘ডিসিসিআই ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাস আম্মান, জর্ডান ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এর যৌথ উদ্যোগে জর্ডানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হবে। ডিসিসিআই কর্তৃক আগ্রহী জর্ডান নাগরিকদের জন্যও একই ধরণের কর্মশালার আয়োজনের বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করা হয়। উক্ত জুম সভায় মুজিববর্ষ পালনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।