মুহাম্মদ ইউসুফ খাঁন, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম: সীতাকুণ্ডের বড় কুমিরায় হাইওয়ে রোডের পার্শ্ব থেকে পুলিশ স্থানীয় এক চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত চিকিৎসক ছোট কুমিরা বাজারের বেবি কেয়ারের মালিক ডাঃ শাহ আলম(৫৭) । তাঁর বাড়ী ছোট কুমিরা বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে বলে জানা যায়।
প্রতিদিনের মত তিনি রোগী দেখে রাত ৯টার দিকে ক্লিনিক থেকে চট্টগ্রাম শহরে নিজ বাসায় যাচ্ছিলেন। ডাঃ শাহ আলম ছোট কুমিরার আজিজুল হক মাস্টারের ছেলে।
শুক্রবার ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা দুষ্কৃতিকারীরা তাঁকে খুন করে সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়েছে।
জানা যায় যে, সীতাকুণ্ড উপজেলার বড়কুমিরা ফেরিঘাটস্থ বাইপাস ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্বে সকালে এক অজ্ঞাত ব্যাক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী সীতাকুণ্ড থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। সীতাকুণ্ড মডেল থানার (তদন্ত কর্মকর্তা) শামীম শেখ বলেন, লাশের খবরটি পেয়ে আমরা ধারণা করেছিলাম হয়তো বা সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিটি মারা গেছেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর এবং লাশের সুরুতহাল দেখে এটি মনে হয়েছে যে দুর্ঘটনা নয় এটি একটি হত্যাকাণ্ড। কিভাবে ডাঃ শাহ আলমের মৃত্যূ হল কিংবা দুর্বৃত্তের হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন কি না তা জানার জন্য আমরা সিআইডিতে খবর দিলে তারা এসে লাশের সুরুতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেয়া হয়। রিপোর্ট আসার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তা শামীম শেখ।
উল্লেখ্য যে, সুদীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ডাঃ শাহ আলম সৌদিআরবে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরতঃ ছিলেন। ইতিমধ্যে দেশে এসে নিজ এলাকার মানুষের সেবায় বেবী কেয়ার ক্লিনিক স্থাপন করে স্থানীয় জনসাধারণের সেবা করে আসছিলেন। প্রতিদিন নিজ এলাকায় এসে রোগী দেখা/ সহযোগীতা করা অতঃপর শহরে নিজ বাসায় ফেরা তাঁর দৈনন্দিন রুটিন ওয়ার্ক ছিল। এত ভালো একজন মানুষ, সুচিকিৎসককে এভাবে হত্যা করা কোনভাবেই মানতে পারছেন না এলাকার সাধারন মানুষ। এলাকাবাসী এটি হত্যাকাণ্ড কি না এবং যদি হত্যাকাণ্ড হয় দ্রুত অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছেন।