হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: এজেন্ডা ২০৩০ অর্জনের জন্য জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ ধারণাটি কাজে লাগানোর আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ ধারণাটির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের ফোরামের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশ পর্যায়ের ভাষণ প্রদানকালে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। উচ্চ পর্যায়ের এই ইভেন্টটি আয়োজন করেন ৭৩তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মিজ্ মারিয়া ফার্নান্দে এস্পিনোসা গার্সেজ।
রাষ্ট্রদূত মাসুদ উল্লেখ করেন, আজ থেকে ২০ বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে ‘শান্তির সংস্কৃতি’র মতো আদর্শিক রেজুলেশনটি গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে বাংলাদেশ যা ছিল দেশের জন্য অত্যন্ত মর্যাদার বিষয়। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ ধারণাটি জাতিসংঘে উত্থাপন করেন এবং ঐ বছরই সাধারণ পরিষদ তা এজেন্ডা হিসেবে গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্তভাবে এটি (রেজুলেশন ৫৩/২৪৩) গৃহীত হয়; ভাবতে ভালো লাগে আজ আমরা যখন এই রেজুলেশনটির ২০ বছর পূর্তি উদযাপন করছি, এমন সময়েও তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশকে শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের”।
রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, “আমরা আনন্দিত যে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ আজ প্রণিধানযোগ্য একটি ধারণা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এবং এর সুর জাতিসংঘের বৃহত্তর পরিসরে অনুরণিত হচ্ছে। আর এটি লক্ষনীয় যে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এর আওতায় বেশ কয়েকটি নতুন রেজুলেশন গৃহীত হয়েছে”। তিনি আরও বলেন, “এজেন্ডা ২০৩০ এবং তৎপরবর্তী সময়ে আমরা আরও কীভাবে এই ধারণাটিকে কাজে লাগাতে পারি তা আমাদের ভেবে দেখতে হবে এবং এবিষয়ে সকলকে আরও এগিয়ে আসতে হবে যাতে কোনোভাবে শান্তির সংস্কৃতি ধারণাটি হারিয়ে না যায়”।
এসডিজি’র অন্যতম উদ্দেশ্য ‘কেউ পিছনে পড়ে থাকবে না’ তুলে ধরে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করেছেন। অসমতা ও সংঘাত সৃষ্টির উপাদানগুলো নির্মূলে তিনি দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আর প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে বজায় রেখেছেন শান্তিপূর্ণ সহবস্থান”।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মিজ্ মারিয়া ফার্নান্দে এস্পিনোসা গার্সেজ উচ্চ পর্যায়ের এই ইভেন্টটির সভাপতিত্ব করেন এবং এতে উদ্বোধনী ভাষণ দেন। অনুষ্ঠানটিতে অব্যাহত শান্তির প্রতি একাত্বতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মিজ্ লেইমা জিবোয়ি এবং কি-নোট বক্তব্য প্রদান করেন ঘানার আসান্তি জনগোষ্ঠীর রাজা ওতুম্ফুও ওসেই টুটু-২। উচাঙ্গ যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন নিউইয়র্ক প্রবাসী খ্যাতনামা বাংলাদেশী সেতার বাদক ওস্তাদ মোরশেদ খান ও তবলা বাদক তপন মোদক যা অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত সকলের প্রশংসা অর্জন করেন। প্লেনারি সেগমেন্টে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহের প্রতিনিধিগণ। বিকালে ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে এ উপলক্ষে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানটির সমাপনী বক্তব্যও প্রদান করেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি।
‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজুলেশনটির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে গতকাল ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট (আইপিআই)-এ অনুষ্ঠিত হয় “টেকসই উন্নয়ন অর্জনের পথে: ‘শান্তির সংস্কৃতি’র ২০ বছর পূর্তি উদযাপন” শীর্ষক সাইড ইভেন্ট। সাধারণ পরিষদের সভাপতি মিজ্ মারিয়া ফার্নান্দে এস্পিনোসা গার্সেজ, আইপিআই এর সহ-সভাপতি ড. আমিম লিউপেল, জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল করিম চৌধুরী এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন সাইড ইভেন্টটির আলোচনায় অংশ নেন।