জুলি রহমান, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
বাঁশের ঝারে চুপিসারে বৌকে ডাকে মিলন।
‘এই বৌ, হইয়া গ্যাচে রে বৌ। আর দুঃখ নাই। আমার বিধবা মা ডারে দেইখ্যা রাহিস। কষ্ট দিস না। আমি গিয়াই ট্যাহা পাঠামো।’ সোনাবান ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে। ‘কেমনে থাকুম তোমারে ছাইড়া? একলা একলা?’
এট্টু কষ্ট কর বৌ।
হাসানের ডাকে মিলন বলে, ‘ঘরে যা বৌ। ওই যে আমার দালাল নিতে আইচে। মা রে ডাক দে।’ দালাল হাসান বলে, ‘কাল ভোরের ট্রেন ধইরা ঢাকা যাইবা। আমি অফিসে আছি। আমি না থাকলেও সমেস্যা নাইকা, সরাসরি বিমান বন্দরেও যাইবার পারো।’
হাসান বিদায় নিলে মা বলে, ‘ঘর বাড়ি বন্দক দিয়া যাইতাচছ বাপ। মন দিয়া কাম কইরো শইল্লের দিকেও নজর রাখবা। আমাগো লাইগা চিন্তা ভাবনা কইরো না। গরিবের তো আল্লাই ভরসা।’
মিলন বিদায় নিলো। মাত্র তিনটি মাসের বিবাহিত জীবন ওদের। স্বামী যখন ঘরের বার হয় সোনাবানের বুকটা করাতে কেউ যেনো কেটে নিয়ে যাচ্ছে। গাছপালা ঘর বাড়ি চড়কীর মতো ঘুরতে থাকে।
মিলন দৃষ্টির আড়াল হওয়ার আগেই ঘর ছাড়ে সোনাবান। পলকা হাওয়ার মতো বাতাসের কোষে কোষে মিশে দৌড়াতে থাকে স্বামীর পেছনে পেছনে। বৃক্ষলতা কাঁটা ঝোঁপঝার ছাড়িয়ে ছাড়িয়ে সে এগুতে থাকে। মিলন ট্রেনে উঠে বসে। সোনাবান ধপ্ করে মাটিতে বসে পড়ে। ট্রেনটি যেনো তাঁর বুকের উপর দিয়ে তাকে ছেঁচে রেখে গেলো।
তিন মাস অতিক্রম হয়ে যায় কোনো চিঠি পত্র টাকা পয়সা কোন কিছুর খবর নাই। বন্দকী বাড়ি দখল নিতে আসে মুনাফাখোর নজুমালী। নজর পড়ে তাঁর সুন্দরী সোনাবানের প্রতি। মিলনের মা-ও অসুস্থ হয়ে যায় নানা ভাবনায়।
মিলনকে বন্দী করা হয়েছে। গলাকাটা ভিসার দায়ে। সৌদি মাজরার বদু কফিল তাকে অতি সস্তা দরে কিনে নিয়ে যায় মরুভূমির মাজরায়। যেখানে শুধু ধূ ধূ বালুর চর। সেই চরে মিলনের চোখের স্বপ্নের হলো জ্যান্ত কবর। চারপাশে পাথর আর পাথর। সেই যে মালিক তাকে কিনে নিয়ে এলো আর কখনো তাকে জনবহুল এলাকায় বা শহরে নিয়ে যায় নি। সারাদিন মিলন উট ও দুম্বা নিয়ে কঠিন মরুর গরম বালুতে চষে বেড়ায়। না জানে সে আরবী ভাষা, না জানে ইংরেজী, না জানে হিন্দি। মা ও বৌটার জন্য তার পরান আকুলি বিকুলি করে। দেশের সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারে না। মাঝরাতে বিভিন্ন সব্জীর চাষ করে বলে রক্ষা। তা না হলে না খেয়ে মরতে হতো। চার মাসে মালিক তারে কোন বেতন দেয় নি।
নির্জন বাড়িতে নজুমালীর নজর দিন দিন বাড়তেই থাকে। একরাতে ঘটে গেলো ঘটনা। নজুমালী লোক দিয়ে পাট খড়ির ঝ্যালঝ্যালা বেড়ার ঘরে আগুন দিয়ে দেয়। সোনাবানকে ঘর থেকে বের করে মিলনের মাকে দরজা লাগিয়ে আটকে রাখে। চিৎকার হৈ চৈ এ লোক জড়ো হলে সোনাবান রাতের আঁধারে পালায়। পাশের গ্রামের ফজলের বাড়ির গরু ঘরে রাত কাটায় সোনাবান।
সারাদিন আজ বালুর ঝড় গ্যাছে। বালু উড়ে এসে মিলনের শরীরে পড়ার সংগে সংগে ফোসকা পড়েছে। সেই ফোসকা গলে যে ঘা এর সৃষ্টি হলো তাতে প্রচন্ড ব্যাথা। হারিকেনের আলোতে প্রায়ান্ধকারে মিলন পড়ে রইলো। জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। বেঘোর ঘুমে স্বপ্নে দেখলো তার সোনাবান তারে ডাকে। মা তাঁর ঘায়ে মলম দিয়ে দিচ্ছে। সোনাবান গরম দুধ নিয়ে তাকে টেনে তুলছে।
সোনাবান একটা নৌকার উপর। দূরে সরে যাচ্ছে। মিলন কাঁদছে আর বলছে-
‘ও মাঝি আমারে যাও লইয়া
ভিন দেশেতে থাকি আমি কান্দি রইয়া রইয়া
ঘরে আমার সোনাবিবি দেখি না তার মুখ!
তার বিহনে চোখের পানি গেলো শুকাইয়া–ঐ
চোখের পানি গাঙ্গের পানি কইরা দিলাম এ্যাক!
কইয়ো আমার প্রাণ বন্ধুরে খুইলা ব্যাবাক
উইড়া যায়রে উড়োয়া পঙ্খী নিচে পড়ে ছায়া
আমার মনে তেমন মায়া দ্যাখো পরাণ খুলিয়া–ঐ
সবাই থাকে কতো সুখে বধূটিরে লইয়া
আমার জীবন একলা কাটে কান্দিয়া কান্দিয়া
আরব মরু ধূ-ধূ বালু অথৈ নিরাকার
দুই চোখেতে
স্বপ্ন আনি তোমার মুখে চাইয়া–ঐ’
রিয়াদের মানফুহাতে মনির ঘরে রাতভর সাহিত্য আড্ডা চলছে। মনির বন্ধুরা বেশ উচ্ছল প্রাণবন্ত। আড্ডা শেষে এবার সিদ্ধান্ত হলো যে তারা দলেবলে বদুদের মাজরা দেখতে মরুভূমিতে যাবে। মরুভূমিও দেখা হলো, সেই সাথে কৃষি খামার বা মাজরাও দেখা হলো।
আজ মিলনের মনটা ভীষণ খারাপ। বার বার মা ও বউটার কথা মনে পড়ছে। মরুভূমিতে না আছে পোস্ট অফিস। না আছে টেলিফোন। না আছে কোন বাঙালি। মিলন শুনেছে তার মাজরা থেকে ১০০ মাইল দূরে আরেকটি মাজরা আছে। সেখানে সে গাড়ি ছাড়া কিভাবে যাবে? যতবার মালিক কে বলেছে ততবারই মালিক তাকে বকেছে। ‘ইন্তা খারবান। শুয়াইয়া শুয়াইয়া হানা সাগির হাদা মিসকিনা।’ চোখের জলে নদী করে মিলনের বালিশ ভিজিয়েই গেলো।
আজ শুক্রবার আরব বদুদের ছুটির দিন। তারা মাজরাতে থাকে না। থাকে শুধু পাকিস্তানী, ইন্ডিয়ান, ইন্দোনেশিয়ান অথবা বাঙালি শ্রমিকেরা। মালিক থাকলে ঢোকা যায় না। মনির অনেক ক্লোজ বন্ধু মনি সহ চার পরিবার ছুটলো, আগে পেছনে চার গাড়ি।
পাহাড়ি পথ। ওয়াদেল্যাবন। চিকন সরু পথ। সাপের মতো বেঁকিয়ে বেঁকিয়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে বেয়ে চারটি গাড়ি ছুটছে। প্রত্যেক গাড়িতে চারজন পাঁচজন বাচ্চাসহ মা বাবা। বাচ্চারা পেছনে ঘুমিয়ে গ্যাছে। উপরে তাকালে মনে হয় এখনই পাহাড় ধ্বসে গাড়িকে গুড়িয়ে দেবে। নিচে তাকালে মনে হয় এখনই ভূগর্ভস্থ তলদেশে গাড়ি পড়ে যাচ্ছে। সহ¯্র পথের চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে সটান বালুর ভেতর গাড়িটি যেনো শ্বাস নিতে পারলো। এবার মরু পথের ভেতর গাড়ি হামাগুড়ি দিয়ে চলতে থাকে। সমান্তরাল সুন্দর মসৃণ পথ। দুপাশে পাথর, কাকর আর বালুর গতর। মাইলের পর মাইল জনমানবহীন নিরবতা। গাড়ি চলছে তো চলছেই। এই নিয়ে তিনবার গাড়ি থামিয়ে খাওয়া দাওয়া, টয়লেট সেরে নিলো। দূরে, বহু দূরে। সেই অতি কাংখীত মাজরার শরীর ধীরে ধীরে উদয় হতে থাকে। ছোট্ট একটা ঘর। মাটির তৈরী। তার চারপাশে ঘন সবুজ। মরুতে উট, দুম্বা ধীর পায়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। গাড়িগুলো নিকটবর্তী হতেই এক লোক পাগলের মতো দৌঁড়ে আসতে লাগলো গাড়ির দিকে।
মিলনের যেনো নতুন জন্ম হলো। এতোগুলো বাঙালি মানুষ পেয়ে ওর বাঁধ ভাঙা অর্গল দ্বার উন্মোচিত হলো। ঝর্ণার মতো, নদীর কল স্রোতের মতো, পাখির মতো, সাগর নদীর উত্তাল ঢেউয়ের মতো।
মিলনকে দেখে তারা ত অবাক! তার কথা শুনে তারা আরো অবাক হলো। মনির বন্ধুরা কেউ লেখক বা সাংবাদিক নয়। তবুও ওরা মনিকে এ ব্যাপারে সাহায্য করলো। মনির হাজব্যান্ড ছবি তোলায় সাহায্য করলো।

মিলনের সমস্ত মুখ দাঁড়িতে ঢাকা। বয়সটা কতো হবে বোজার উপায় নেই। কতোদিনের অপরিচ্ছন্ন জামা কাপড় পায়ের গুড়ালি এমন ফেটেছে যে, অঝোর ধারায় বৃষ্টির পর নদীর চরে যেমন ফাটল ধরে মিলনের পা জোড়ায় তেমনি ফাটল। আর সেই ফাটলে আশ্রয় নিয়েছে মরুর নিষ্ঠুর বালু।
মিলন মনির পায়ের কাছে বসে দুইহাত জড়ো করে মিনতি করে- ‘আফা গো আমার একটা চিডি লেইখ্যা দেন। আমি ঠিকানা দিমু আপনে শহরে গিয়া ছাইড়া দিবাইন কইলাম। আজ দশ বছর আমি আমার বৌডার খবর
জানি না গো।’ মিলন পাগলের মতো দৌড়িয়ে মাটির ঘরের ভেতর থেকে তার জমানো রিয়ালগুলো এনে মনির হাতে তুলে দেয়। ‘আমার মা বৌয়ের জন্যি পাটাবিন। সাথে ঠিকানা।’
মনি এবং তার বন্ধুরা মিলনের সাথে কথা বলে অনেক কিছু জানতে পারে। সে কথা দেয় মিলনকে চিঠি ও টাকা ঠিকানামতো পাঠাবে। মনি ভাবছে লোকটিকে উদ্ধার করা যায় কিভাবে? হঠাৎ মনি প্রশ্ন করে আপনি এখানে আরো থাকবেন? দশটি বছর আপনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। এই কফিল আপনাকে খাটিয়ে নিচ্ছে।
মিলন এবার বাঁধ ভাঙা নদীর মতো আঁছড়ে পড়ে। ‘আমারে নিবাইন আপন গো লগে?’
মিলনের কথা শুনে মনি তার হাজব্যান্ড মিশুককে বলে লোকটার কী করা যায়? বাথায় কারো সংগে রাখতে পারবে? ব্যাচেলর। মিশুক বলে, একজন মানুষের জীবন বাঁচানো ফরজ। মনির বান্ধবীর বর মিজান ভাই বলেন, আমার একজন বিজনেসম্যান বন্ধু আছে। তার সাথে বিভিন্ন দেশি অসংখ্য শ্রমিক কাজ করে। মিজান ভাই বলেন, তাড়াতাড়ি গাড়ি ছাড়ো। গাড়ির পেছনে ফলমূল সব্জী খেজুর দিয়ে এ যাবৎ ডিকি ভরাট। ছুটলো গাড়ি রিয়াদ অভিমুখে।

সোনাবানের বাপ সোনাবানকে দ্বিতীয় বিয়ে দিতে বাধ্য করে। এতো রুপবতী সোনাবান শুধুই কুনজরে পড়ে। সোনাবানের হৃদয় জুড়ে শুধুই মিলন। আজ দীর্ঘ দশ বছর পরও সে ভাবে তার মিলন একদিন আসবেই তাঁর কাছে।
থাকো তুমি যতো দূরে আছো মোর হৃদয় জুড়ে।
আসুক যত ঝড় যাবো না তোমায় ছেড়ে।
নিয়তি আমার করে যদি নিষ্ঠুর খেলা তুমি ওগো তুমি মোর যাবে না দূরে সরে–ঐ
এ জীবনে মরনে তোমারেই করেছি আপন
সতীর দেবতা পতি জানে শুধু এই মন!
ভাগ্যের লেখা বুঝি মোছা যায় না
শত কান্নার জলে দুচোখ শুধু ঝরে–ঐ
সিঁদুর রাঙা মেঘ যতোই ঝড় ডাকে
সুরুয তবুও ঐ আকাশেই মিশে থাকে!
ঘনঘোর শ্রাবণেও জলে বাড়ে সুখ
বুকের পাঁজরে লেখা নাম আগুনে কী পুড়ে? –ঐ
দশটি বছর যে স্বামী খোঁজ রাখে না সে তো বাইচ্চা নাই। কতদিন অপেক্ষায় থেকেছে সোনাবানের বাপ যদি একটা চিঠিও আসতো তবুও তো আলোর মুখ দেখতে পেতি হতভাগী। তাছাড়া শরীয়তের বিধান দীর্ঘদিন স্বামী দূরে থাকলে তালাক হয়ে যায়।
তালাক শব্দটি শুনে সোনাবান কেঁপে ওঠে। চোখের জল ঝরিয়ে বলে, ‘বাবা আমার ভরণ পোষণে তোমার কষ্ট অইতাচে আমি জানি। আমি আমার ব্যবস্থা করতাচি বাবা এট্টু সোময় দাও বাবা।’
অসহায় পিতা জহির কান্নায় ভেঙে পড়ে। ‘কেমনে তোরে বোঝাই তোর সুখই আমার সুখ। তোর মা নাই। আমিই তোর মা বাপ। আমার বয়স হয়ে যাইতাচে। আমার কিচু অইলে তুই একলা কেমনে পথ চলবি’?
মিলন রিয়াদে যখন এলো মনে হলো তার নতুন জন্ম হলো। কিংবা এ যাবৎকাল সে মাটির নিচে ভিন্ন পৃথিবীর বাসিন্দা ছিলো। মিজানের সাব্বাকে সে কাজ পেলো। দেশে টাকা চিঠি পাঠালো।
কিন্তু মিলনের বাড়ি দখল করে আছে নজুমালি। পিয়ন খোঁজে সোনাবানকে! নজুমালির মাথায় কুমতলব, সে পিয়নকে বলে ‘চিঠি ট্যাকা পয়সা আমার কাছে রাইখা যাইতে পারেন। আমি পৌছাইয়া দিবো।’
পিয়ন বলে, ‘চিঠি দেবার নিয়ম নেই। ঠিকানাটা দিন! আমি নিজেই পৌঁছে দেবো।’
নজুমালি তো জানে না বানুর বাপের বাড়ির ঠিকানা। আমতা আমতা করে ঠোঁট কুচকিয়ে বলে, ‘পাশের গেরামেই তো থাকে।’ পিয়ন বলে, ‘ঠিক আছে আমি পাশের গেরামেও যাবো চিঠি নিয়ে।’
পিয়নকে দেখে সোনাবানু অবাক হয়। পিয়ন বানুর হাতে চিঠি দেয়। বানু চিঠি হাতে নিয়ে বাবা বলে চিৎকার করে জ্ঞাণ হারিয়ে ফেলে।
সোনাবানের বাবা জহির মেয়ের করুণ অবস্থায় মর্মাহত হয়। বানু চিঠিটা দশবার বিশবার পড়লো। বালিশের নিচে যতনে রাখলো। স্বামীর কষ্টের বর্ণনায় কেঁদে কেঁদে পাগল প্রায় অবস্থা সোনাবানের। সোনাবানের চিঠি পেয়ে আজ তাবৎ পৃথিবী মিলনের হাতে। সোনাবান মনিকেও চিঠি লিখেছে। অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে সোনাবান।
এভাবে কেটে গেল অনেক দিন। এবার মিলন তার দেশে ফিরছে। বিমানে বসেও তার শান্তি নেই। কতোক্ষণে সে বৌটির সোনামুখ দেখবে। বিমান বন্দরে মিলনকে এগিয়ে দিতে এলো মনি। ক্লীনসেভ করা মিলনকে দেখে সে আজ খুব অবাক হলো। এতো সুদর্শন অল্প বয়সী যুবককে সে মাজরায় দেখে বুঝতেই পারেনি তার বয়স এত কম। মনু ভেবেছিলো মিলন মধ্যবয়সী হবে।
সোনাবান জানে না তার মিলন আজ আসছে। আসছে তারই কাছে একযুগ পর।
মিলন পারেতো দৌড়াতে থাকে। তার আকুলি বিকুলি মন কতো কথা বলে-
ঘরে আমার সোনার ময়না একলা প্রহর গুণে।
কতোদিনের কতো স্মৃতি পড়ে যে আজ মনে।
ছোট্ট আমার মাটের ঘরে মটির পিদিম জ্বলে
শুকলা পক্ষের চাঁদটা আজো থাকে বাঁশের বনে–ঐ
ময়না আমার হায় অভাগী স্বামী বিহনে। চোখের জলে হইছে নদী মন পুড়ে আগুনে।
চৈতি দিনের নিষ্ঠুর খরা পোড়ায় যেমন মাটি
তেমনি দুজন অঙ্গার মন কঠিন রোদনে-ঐ
আমিও যে জ্যান্তে মরা জানে আমার মনে।
আর জানে সে যে আমাকে গড়লো সৃজনে।
এই পথ এই মাটি কতো যে রে খাঁটি
বুঝবে সে জন ঘর ছাড়ে যে জনে–ঐ
মিলনের ঘরে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেলো। বৌ তার শ্বশুড়ালয়ে। মিলন সোনাবানকে এমনি বাহুবন্ধনে তোলে যে, পৃথিবীর যাবতীয় শক্তিও তাদের আর আলাদা করতে পারবে না। তাদের স্বপ্নহীন চোখে আবার নতুন স্বপ্ন জাগে। শুকনো খরকুটো তন্তুতে বাবুই যেমন বাসা বোনে, তারাও স্বপ্ন দেখে নতুন জীবনের।