আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধি: ইতালির খবর মাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে- ইউরোপের প্রবেশ দ্বার বলে খ্যাত ইতালির লাম্পেদুসা বন্দরে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে স্পেনের দাতব্য সংস্থার একটি জাহাজ শতাধিক শরণার্থী নিয়ে প্রায় গত ২১ দিন ধরে উপকূলে ভাসছে। এদের মধ্যে কয়েকজন শরণার্থী জাহাজ থেকে লাফিয়ে পড়ে সাঁতরে তীরে পৌঁছানোর চেষ্টাও করেছেন বলে খবর মাধ্যমগুলো জানিয়েছে স্পেনের দাতব্য সংস্থা ‘ওপেন আর্মস’ জানায়, তাদের জাহাজে থাকা শরণার্থীদের বেশিরভাগই আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা।
ইউরোপমুখী শরণার্থীদের ঢল সামাল দিতে ইতালি শরণার্থীদের নিয়ে আসা বেসরকারি জাহাজ লাম্পেদুসার বন্দরে ভেড়ার ওপর আগেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপের দেশগুলো,আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা শরণার্থীদের বেশিরভাগই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি হয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। ইউরোপমুখী আফ্রিকার শরণার্থীদের সামাল দিতে অনেক বেশি দায়িত্ব পালন করছেন জানিয়ে ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দাতব্য সংস্থাগুলোর জাহাজ এখন মানবপাচারকারীদের ‘ট্যাক্সিতে’ পরিণত হয়েছে। ওপেন আর্মসের জাহাজ ইতালির জলসীমায় প্রবেশের পর এখন পর্যন্ত সেটি থেকে বেশ কয়েকজন অসুস্থ ব্যক্তি ও শিশুদের তীরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাকিরা জাহাজের ডেকে গাদাগাদি করে অবস্থান করছেন।
যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির দাবি, দাতব্য কর্তৃপক্ষ কৌশল করে জাহাজে নানা সমস্যা সৃষ্টি করছে। মাত্তেও সালভিনি স্থানীয় এক রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজনের কথা বলে সোমবার রাতে আটজন শরণার্থীকে তীরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দেখা যায় তাদের মধ্যে মাত্র দুইজন সত্যিই অসুস্থ ছিলেন। তারা যাই করুক আমি আমার অবস্থান (নিষেধাজ্ঞা) থেকে সরে আসব না’।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টার মাত্রা কমেছে বলে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সেখানে দেখানো হয়েছে ২০১৮ সালে যে পরিমাণ শরণার্থী ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ২০১৯ সালে এসে তা কিছুটা কমে এসেছে ।
জানা গেছে, ইউরোপ কমিশনগুলোর মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে কিভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ইউরোপগামী শরণার্থীদের আরো কঠোরভাবে প্রতিহত করা যায় ।