প্রবাস মেলা ডেস্ক: অভিনেত্রী শিমুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তার স্বামী। পুলিশ জানিয়েছে অভিনেত্রীর লাশ গুম করতে তার স্বামীকে বন্ধু (স্বামীর) ফরহাদ সহায়তা করেছেন।
বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ১৮ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার। এ সময় তিনি জানান, ঘটনার পর শিমুর স্বামী নোবেল ও বন্ধু ফরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সংশ্লিষ্টতা প্রতীয়মান হওয়ায় দুইজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হত্যার কারণ জানতে চাইলে জেলার পুলিশ সুপার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহ থাকায় তাকে (শিমু) হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় নোবেল। আর হত্যার পর লাশ গুমে সে বন্ধু ফরহাদের সহযোগিতা নেয়।

এদিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী রমজানুল হক বলেন, রাইমা ইসলাম শিমুর স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। পারিবারিক কলহের জেরেই তিনি এই হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন।
রাজধানীর কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ব্রিজের নীচ থেকে গতকাল ১৭ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার দুপুরে শিমুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী রমজানুল হক জানান, শিমুর বাসা ঢাকার গ্রিন রোড এলাকায়। তিনি গত ৩-৪ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের ঘটনায় কলাবাগান থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল বলেও জানান রমজানুল হক।
প্রসঙ্গত, শিমু চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্য ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে ১৮৪ জনের সঙ্গে তার সদস্য পদ স্থগিত করা হয়। এনিয়ে স্থগিত হওয়া অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে আন্দোলনে সরব ছিলেন।
সিনেমার পাশাপাশি নাটকে নিয়মিত অভিনয় করতেন শিমু। সাম্প্রতিক সময়ে ফ্যামিলি ক্রাইসিস নামে একটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করেছেন। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৯৯৮ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক হয়। এরপর ২৩টির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ৫০টিরও বেশি নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাও করেছেন তিনি।