প্রবাস মেলা ডেস্ক: মাতৃভাষা বাংলা চর্চা ও তার রক্তাক্ত ইতিহাস অস্ট্রেলিয়াতে আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে একুশে একাডেমী অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে সিডনির অ্যাশফিল্ড পার্কের আন্তর্জাতিক মনুমেন্টের পাদদেশে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অনুষ্ঠিত হল ২৩তম একুশের বইমেলা।
তিন সপ্তাহ অতি বৃষ্টির পর এই মেলার সম্ভাব্যতাই হুমকির মুখে পরে। পরে কাউন্সিল এর কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে আয়োজকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মেলা সম্ভব হয়ে উঠে। মেলায় লোকসমাগম অন্য যে কোন বছরকে ছাড়িয়ে যায়।

সকাল ১০ টায় প্রভাত ফেরির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের মূল পর্বে একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়ার সম্মানিত সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসানের সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেন কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম, ফেডারেল পার্লামেন্টের সম্মানিত সদস্য Tony Burke, Jessica D’Arienzo ডেপুটি মেয়র Inner West Council, Karl Saleh কাউন্সিলর ক্যান্টারবেরি সিটি কাউন্সিল, Ronny Maroun রেডক্রস অস্ট্রেলিয়া, কবিতা চাকমা স্থপতি এবং মানবাধিকার কর্মী, আশিক আহমেদ সিইও এবং – প্রতিষ্ঠাতা Deputy.com। সভায় বক্তারা সব ভাষাকেই তা যত কম মানুষই কথা বলুক না কেন, তাকে সংরক্ষণ এর উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা উল্লেখ করেন যে প্রতিটি ভাষাই একেকটি সংস্কৃতির ধারক, কালের সাক্ষী।

সভায় একুশে একাডেমীর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয় যেমন রক্তদান কর্মসূচী, ‘Clean Up Australia day’ অংশগ্রহণ, ‘Organ and Tissue donation’ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, প্রখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকর্ম প্রদর্শনী ইত্যাদি। একুশে একাডেমির আর্ট স্কুল ‘Canvas Kids’ এর বাচ্চাদের চিত্রকর্ম সুধী জনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

এবারের একুশে বই মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল সিডনি থেকে প্রকাশিত স্বনামধন্য পত্রিকা ‘প্রভাত ফেরী’। সভাপতি আব্দুল মতিন এবং সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসান তাদের পৃথক বক্তব্যে প্রভাত ফেরীর প্রধান সম্পাদক শ্রাবন্তী কাজী আশরাফী কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
দিনভর মেলায় ছিল মহান ভাষা আন্দোলনের স্মরণে নানান আয়োজন। প্রতিবারের মতো এবারও মেলার মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু মেলার বিভিন্ন বইয়ের ষ্টলে দেশি-প্রবাসী প্রথিতযশা কবি সাহিত্যিকদের বইয়ের সমাহার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার পরপর শুরু হয় ছোট্ট সোনামণিদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া সারাদিন ব্যাপি চলে গান, কবিতা, নাচ দলীয় সঙ্গীত, নাটক ইত্যাদি। একুশে একাডেমীর শিল্পীরা ছাড়াও বিভিন্ন কমিউনিটির দলের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত। এদের মধ্যে কবিতা বিকেল, জুম্মা সাংস্কৃতিক দল, পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া এবং শখের থিয়েটার এর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
একুশের পত্রিকা ‘মাতৃভাষা’র লেখা এবং অঙ্গসজ্জা বিশেষ ভাবে পাঠক সমাদৃত হয়েছে।
১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানমালায় আরও ছিল নতুন প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, চিত্র প্রদর্শনী, ফটোগ্রাফী প্রদর্শনী এবং বাচ্চাদের জন্য রাইডস। মেলায় নানান জাতের মুখরোচক দেশীয় খাবারের সমাহার ছিল খাবার ষ্টলগুলোতে।
২০২৩ সালের মেলার আগাম তারিখ ঘোষণা করে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সবাইকে ধন্যবাদ পূর্বক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন একুশে একাডেমী অস্ট্রেলিয়ার সহ-সভাপতি ড. সুলতান মাহমুদ।