রফিক আহমদ খান:
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক প্রিয় মানুষের নাম মোস্তফা ইমরান রাজু। তাঁর প্রবাস জীবন তেমন দীর্ঘ নয়। দীর্ঘ নয় বলার কারণ হলো– আমরা যাঁরা দশ-বিশ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কাটিয়ে দিচ্ছি, তাঁদের কাছে পাঁচ-সাত বছরটা অল্প সময়ই মনে হয়। সময়ের হিসেবে মোস্তফা ইমরান রাজু মালয়েশিয়ায় আছেন অর্ধযুগ ধরে। সময় কম-বেশি যা-ই হোক, মোস্তফা ইমরান রাজু মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন খুব অল্প সময়েই। সম্ভবত ২০১৪ সালের শেষ দিকে তিনি মালয়েশিয়ায় আসেন।
দক্ষিণ বঙ্গের জেলা খুলনার কয়রা উপজেলার সন্তান মোস্তফা ইমরান খুলনার বিএল সরকারি কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক( অনার্স) ডিগ্রি এবং ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন। মোস্তফা ইমরান রাজুর পিতা মোস্তফা শফিকুল ইসলামও দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার পেশার সাথে জড়িত। তিনি কয়রা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি।
মোস্তফা ইমরান রাজু মালয়েশিয়ায় আসার পূর্বে দেশেও সাংবাদিকতা পেশায় ছিলেন। কাজ করতেন আরটিভির নিউজ রুম এডিটর হিসেবে। আরটিভিতে নিউজ রুম এডিটর হিসেবে কাজ করেছেন ২০১১ সালের আগস্ট থেকে ২০১৪ সালে মালয়েশিয়া আসার আগ পর্যন্ত। মালয়েশিয়া এসেই শুরু করেন যথারীতি সাংবাদিকতা; তাঁর পুরোনা কর্মস্থল আরটিভির মালয়েশিয়া প্রতিনিধি হিসেবে। ঢাকায় অনুবাদক হিসেবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে মোস্তফা ইমরানের।

শুরু থেকে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের সুখ-দুঃখের নানা খবরাখবর আরটিভিতে প্রচার করার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির আচার-অনুষ্ঠানের খবর আরটিভিতে নিয়মিত প্রচার করে মালয়েশিয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেন সাংবাদিক রাজু। কমিউনিটির সবার কাছে তিনি সাংবাদিক রাজু নামে সুপরিচিত এখন। কারো কাছে সাংবাদিক রাজু, কারো কছে সাংবাদিক রাজু ভাই। আমাদের কাছে তিনি প্রিয় রাজু ভাই।
রাজু ভাইয়ের বড় গুণ তিনি সবার সাথে মিশতে পারেন সহজেই। প্রবাসে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠক, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ প্রবাসীদের সাথে দারুণ সখ্যতা গড়ে তুলেছেন তিনি। প্রবাসে অল্প সময়ে এতো পরিচিতি লাভ করা মানুষ মালয়েশিয়ায় খুব কমই আছেন। এই করোনাকালে বাংলাদেশি অনেক ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা সাধারণ প্রবাসীদের নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা দিতে চেষ্টা করছেন। ত্রাণ বিতরণসহ সহযোগিতার নানা খবর বাংলাদেশি মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে তাঁদেরকে সামাজিক কর্মকান্ডে উৎসাহিত করে আসছেন মোস্তফা ইমরানসহ প্রবাসী সাংবাদিকেরা। সব প্রবাসীর উপকার করাতো কারো পক্ষেই সম্ভব নয়, প্রবাসী রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী যাঁরা এই লকডাউনে কষ্টে থাকা প্রবাসীদের সহযোগিতা করছেন তাতে অন্তত কিছুকিছু প্রবাসীর তো উপকার হচ্ছে। কেউ না কেউ সহযোগিতা পাচ্ছেন। এই সহযোগিতাকারীদের নানাভাবে উৎসাহিত করেন সাংবাদিকেরাই।
বিদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়া সরকারের নতুন নতুন নিয়মকানুন, পলিসির খবরাখবর পাওয়ার জন্য এক সময় সাধারণ প্রবাসীদের দ্বারস্থ হতে হতো শুধু এজেন্টদের। এখন আর সে দিন নেই। প্রবাসীদের কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়া সরকারের নেওয়া যে কোনো নতুন উদ্যোগের কথা অল্প সময়ে জানতে পারেন প্রবাসীরা। এখন প্রবাসের যে কোনো খবর দেশের মিডিয়ায় প্রচার হয় এবং অনলাইনে সে খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে প্রবাসীদের কাছে। স্মার্টফোনে ফেসবুক চালু করলেই নিউজফিডে খবর দেখা যায়, পড়া যায়।
খবরের পাশাপাশি ভুয়া খবরেরও ছড়াছড়ি, তাই সঠিক খবরের জন্য প্রবাসীদের আস্থা থাকে যে সব মিডিয়ায় মালয়েশিয়া প্রতিনিধি আছেন। শুধু মালয়েশিয়া প্রতিনিধি হলেও হয় না, সঠিক খবর জেনে-বুঝে প্রচার করেন এমন প্রতিনিধি চাই। সকল প্রবাসীর জন্য সঠিক খবর প্রচারকারী সাংবাদিকদের অন্যতম একজন হলেন মোস্তফা ইমরান রাজু। তাই তো তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসীদের প্রিয় মুখ হয়ে উঠেছেন। প্রবাসী কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়া সরকারের নিয়মনীতিগুলো বিনা নোটিশেই দ্রুত বদলে ফেলেন, নতুন সিস্টেম চালু করেন। এসব খবর প্রবাসীদের সঠিকভাবে জানানোটাই ব্রত হিসেবে নিয়েছেন মোস্তফা ইমরান রাজুসহ প্রবাসী কয়েকজন সাংবাদিক।

বিনয়ী মানুষ সাংবাদিক মোস্তফা ইমরান রাজু একজন ভালো সংগঠকও বটে। তিনি মালয়েশিয়ায় প্রবাসী সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন ‘বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেস ক্লাব-মালয়েশিয়া’র সভাপতি। এর পূর্বে তিনি প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রেস ক্লাব ছাড়াও তিনি আরো বেশ কয়েকটি সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন।
রাজু ভাইকে আমার ভালো লাগার কারণ, তিনি ‘আসল’ চিনেন; মেধাবী ও গুণী মানুষের সমঝদার তিনি। কাকে কতোটুকু মূল্যায়ন করতে হবে তা ভালোই বুঝেন তিনি।
২৯ জুলাই সাংবাদিক মোস্তফা ইমরান রাজুর জন্মদিন। মালয়েশিয়া প্রবাসীদের পক্ষ থেকে মোস্তফা ইমরান রাজু ভাইকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা- শুভ জন্মদিন। প্রত্যাশা করি কর্মের মাধ্যমে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে আগামীতে আপনি আরো বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠবেন। করোনাকাল কেটে গেলে আবারো আমরা হাঁটবো একসাথে। কাদের ভাই ( সময় টিভির মোহাম্মদ আবদুল কাদের), হান্নান ( এনটিভির কায়সার হামিদ হান্নান) ভাই, আমিন ভাই, শাহাবুদ্দিন, সাঈদ ভাই, আবু সুফিয়ান ভাই, বাপ্পি ও জিন্নাত আপুকে নিয়ে প্রিয় সংগঠন বিসিপিএম (বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেস ক্লাব-মালয়েশিয়া) এগিয়ে নিয়ে যান। অশেষ শুভ কামনা রইলো।
রফিক আহমদ খান : সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক।