ওয়াসীম আকরাম, বৈরুত, লেবানন প্রতিনিধি: কোন জেল জরিমানা ছাড়া শুধুমাত্র এক বছরের জরিমানা ও বিমান টিকেট দিয়ে দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন লেবাননে বসবাসরত কাগজপত্রবিহীন অবৈধ প্রবাসী বাংলাদেশীরা। আগামী ১৫, ১৬, ১৭ সেপ্টেম্বর রবি, সোম ও মঙ্গলবার লেবাননের বাংলাদেশ দূতাবাসে অবৈধ প্রবাসীদের আবেদন গ্রহণকরা হবে। পুরুষদের জন্য ২৬৭$ মার্কিন ডলার ও মহিলাদের জন্য ২০০$ মার্কিন ডলার জরিমানা ও বিমান টিকেট সহ আবেদন ফরম জমা দিতে হবে। ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দূতাবাসে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার।
রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার বলেন, এই কর্মসূচী চালু থাকবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৩টি ধাপে প্রবাসীরা তাদের আবেদন করতে পারবেন। সেপ্টেম্বরে যারা আবেদন করতে পারবে না, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তারা এই সুযোগ ফের আবেদন করতে পারবেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরে যেহেতু অবৈধ বাংলাদেশী প্রবাসীদের বৈধ হবার একটি সুযোগের সম্ভাবনা রয়েছে, সে দিক চিন্তা করেই এই ৩ ধাপে আবেদন জমা নেয়া হবে। যাতে বৈধ হওয়ার সুযোগে যারা বৈধ হতে না পারবেন, তারাও যেন দেশে ফেরার সুযোগটি গ্রহন করতে পারেন।
তিনি বলেন, লেবাননে উচ্চ পর্যায়ে দীর্ঘদিন আলোচনায় অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দূতাবাস এই সুযোগ পেতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে প্রবাসীরা কোন রকম জেল ও বড় অংকের জরিমানা ছাড়াই দেশে ফেরতের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে যাদের নামে চুরি, মাদক ও ফৌজদারী মামলা বা লেবাননের কোর্টে গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে তারা এই কর্মসূচীর আওতায় পরবে না। তবে যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ রয়েছে তারা যদি দেশে ফেরত যেতে দূতাবাসের সাহায্য কামনা করেন, তাহলে হাতে নেয়া কর্মসূচী শেষ হলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের অবশ্যই সহযোগীতা দেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, লেবাননের আইন অনুযায়ী দূতাবাসের মাধ্যমে জেনারেল সিকিউরিটি থেকে ক্লিয়ারেন্স গ্রহণ করতে হয়। তাই যারা দেশে যাবার জন্য আবেদন করবেন, ক্লিয়ারেন্স পাবার পর তাদের অবশ্যই দেশে ফেরত যেতে হবে। অন্যথায় লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবে। সে ক্ষেত্রে দূতাবাসের করনীয় কিছু থাকবেনা বলেও তিনি যোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ এবং কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, এসময় তাদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার।