ওয়াসীম আকরাম, বৈরুত, লেবানন প্রতিনিধি: ২০১৯ সালে লেবাননে মৃত্যুবরণ করেন ৫৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশী। যার অধীকাংশ মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। আত্মহত্যা ও খুনাখুনের মত ঘটনাও ঘটেছে গত ২০১৯ সালটিতে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, প্রতারক দালালদের প্রতারণার শিকার, লিভ-টুগেদার ও টাকার অভাবে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়া এসকল মৃত্যর মূলকারণ বলে মনে করেন অনেকে।
লেবাননে ২০১৯ সালে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ও বিভিন্ন কারণে মৃত্যু হয়েছে ৫৮ প্রবাসী বাংলাদেশির। ৫৮ জনের ৩২জনই মারা গেছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, যাদের অধীকাংশেরই বয়স ২৫ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। দালাল ও লিভ-টুগেরদারের জেরে খুন হয়েছে ৫জন, গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা গেছে ৬জন ও আত্মহত্যা করেছে ৪জন প্রবাসী। এছাড়া ১১ জন বিভিন্ন কারণে মৃত্যবরণ করেন।
প্রবাসের মাটিতে কোন মৃত্যুই কাম্য নয় কোন প্রবাসীদের। লিভ-টুগেরদার ও খুনের মত ঘটনায় লেবাননে নষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশের অর্জিত সুনাম। এসব বন্ধ না করা গেলে আগামীতে সুনাম ধরে রাখাটাই কঠিন হয়ে যাবে বলে মনে করেন প্রবাসীরা। তাই অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠ সমাধান চান সাধারণ প্রবাসীরা।

তবে কিছু কিছু অপমৃত্য বেদনাদায়ক বলে মনে করেন তারা। অন্য দিকে লেবাননে চিকিৎসা খরচ অনেক ব্যয় বহুল হওয়ার অল্প আয়ের প্রবাসীরা যেমন ডাক্টারমূখী হতে পারেন না, আবার অনেক প্রবাসী বুকে ব্যথা অনুভব করলে স্বাভাবিক মনে করে চিকিৎসা নেয় না। অনেকের নেই ডায়াবেটিক এর মত রোগের কোন নিয়ন্ত্রন। ফলে সহজেই এরা আক্রান্ত হয়ে পরেন হৃদরোগে।
বাংলাদেশ দূতাবাস ও জাতিসংঘের অধীনে লেবাননের সমুদ্র সীমানায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহীনির উদ্যোগে মাঝে মাঝেই প্রবাসীদের সেবায় দেয়া হয় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা। প্রতিবার চিকিৎসা নেন ৪ শতেরও অধীক প্রবাসী। তাদের অনেকেই হৃদরোগ হওয়ার মত অনেক কারণ রয়েছে বলে জানান জাহাজ বিজয়ের চিকিৎসক অনুপ। তার মতে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নেয়াতেই ঘটে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা।
লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার জানান, প্রবাসে মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক। তবে অন্যান্য বছরের থেকে ২০১৯ সালে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমেছে।
রাষ্ট্রদূত জানান, রাস্তা পারাপারে অনেকেই সতর্কতা অবলম্বন করেন না বিধায় ঘটে অনাকাংখিত দূর্ঘটনা। সকল বিষয়ে তিনি প্রবাসীদের বিভিন্ন সভা-সেমিনারে সর্বক্ষণ সতর্ক করে যাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।