ওয়াসীম আকরাম, বৈরুত, লেবানন প্রতিনিধি: লেবাননে বর্তমানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ডলার পাওয়া যেন এখন সোনার হরিণ পাওয়ার মত। চলমান করবিরোধী আন্দোলন থেকে রূপ নেওয়া সরকার বিরোধী আন্দোলনের কারণে ডলার সংকটে বিপাকে পড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশীরা।
ডলার সংকটের কারণে বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত প্রবাসীদের লেবানিজ মুদ্রায় বেতন দেওয়ার ফলে দেশে টাকা পাঠাতে না পারায় হতাশায় ভুগছেন বাংলাদেশিরা। বর্তমানে এক’শ ডলারের লেবানিজ মুদ্রায় এক লক্ষ আঁশি হাজার (১৮০) থেকে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার (২৫০) লিরা নিচ্ছে মানি লন্ডারিংয়সহ বিভিন্ন মহলে। যা আগে ছিল একশত ডলারে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার। এমনটা বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেকের চেয়ে বেশী। তারপরও মিলছেনা কোথাও সোনার হরিণ নামক সেই ডলারের সন্ধান।
লেবাননে গত ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ আন্দোলন প্রায় দুই মাস হয়ে গেলেও তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। দেশে জরুরি অর্থনৈতিক অবস্থা ঘোষণা, মার্কিন ডলারের সংকট, বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে দ্রব্যপণ্যের উপর মূল্য সংযোজন কর বৃদ্ধি, হোয়াটসঅ্যাপের কল রেট বৃদ্ধি ও বর্তমান সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে রাস্তায় নামে লাখো লেবানিজ।
এদিকে বিক্ষোভের ১৩ দিনের মাথায় গত ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি পদত্যাগ করার পর অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছিলো লেবাননের পরিস্থিতি। রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচলসহ সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে অফিস আদালতের কার্যক্রম। এতে করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলো প্রবাসী বাংলাদেশিরা। যদিও রাষ্ট্রপতিসহ মন্ত্রীপরিষদের সকলের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলো বিক্ষোভকারীরা।
তাছাড়া চলমান বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় দিনে দিনে ডলারের সংকট বেড়েই চলছে, এতে করে বিপাকে পড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিরা মাসিক বেতন লেবানিজ লিরায় পেয়ে থাকেন। কিন্ত অতিরিক্ত লেবানিজ মুদ্রা দিলেও কোনো ব্যাংক বা মানি গ্রাম, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নসে এ টাকা পাঠাতে না পেরে গভীর হতাশায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা।