মাহবুবুর রহমান, কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক থেকে: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুজিবনগর সরকার গঠন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয় এবং ১৭ এপ্রিল তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের সাথে মিল রেখে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ মুজিবনগর করে মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করা হয়।
মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহম্মেদ। এছাড়াও এই সরকারের সাথে যুক্ত ছিল আরও অনেকে।
১৯৭০ সালে সরাসরি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়েই মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয় যেটি ছিল সম্পূর্ণ বৈধ সরকার। সেই সময় জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে যে কোন ধারণের পদক্ষেপ গ্রহণ করার আইনানুগ ক্ষমতা ছিল এই সরকারের।
মুজিবনগর সরকার গঠিত না হলে বাঙালীদের স্বাধীনতা আন্দোলন আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্নবাদী অথবা বিদ্রোহী হয়ে পড়ার সুযোগ হয়ে উঠতো। তাই মুজিবনগর সরকার গঠন ছিল অত্যন্ত সঠিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের এক অসাধারণ সাংবিধান প্রণয়নের ভিত্তি ছিল স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণাপত্র যা ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল ঘোষিত হয়।
মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূর প্রসারী। এই সরকার যুদ্ধকালীন মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করেন এবং বাংলাদেশকে ১১টা সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং সশস্ত্র বাহিনী সহ মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়।
মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে বাঙালীদের সদ্য শুরু হওয়া সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ লাভ করে বিশাল ব্যপকতা এবং শুরু হয় বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতার পক্ষে জনসর্মথন অর্জনে ব্যাপক সাড়া অর্থাৎ স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বব্যাপী জনমত গঠনে মুজিবনগর সরকার গঠন ছিল একটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
সর্বপরি ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা ছিল একটা বাস্তাবসস্মত ও সময় উপযোগী এবং সাংবিধানিক পদক্ষেপ। যা বাঙালী জাতীয় জীবনে অন্যতম ও উজ্বল ঘটনা এবং একটা বিশেষ গুরূত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে মুজিবনগর সরকার পূর্ণতা লাভ করে এবং বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি হিসাবে স্বাধীন বাংলাদেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
তাই মুজিবনগরকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাজধানী ঘোষণার করার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর কর্মকে পৃথিবীর মানুষের কাছে আরও বিশাদভাবে তুলে ধরা সম্ভাব হবে বলে মনে করি।