প্রবাস মেলা ডেস্ক: অভিবাসন বিষয়ক অধিকারকর্মীদের উদ্বেগের পর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের দুর্দশা লাঘবে ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেছে দেশটির সরকার। সম্প্রতি বাংলাদেশ বহু কর্মী মালয়েশিয়ায় এসেছে। এর মধ্যে অনেকেই এখনও কর্মহীন রয়েছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে এসব বাংলাদেশি। আয় না থাকায় ধারদেনা করে চলছে তারা। তাদের এই দুর্দশা লাঘবে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়কে (ওএইচসিএইচআর) চিঠি লেখেন অভিবাসী অধিকারকর্মী ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অভিবাসন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডি হল। চিঠিতে মালিয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন তিনি। ব্রিটিশ এই অধিকারকর্মীর ওই চিঠির পরই নড়েচড়ে বসেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।
এরই প্রেক্ষিতে কর্মহীন বাংলাদেশি কর্মীদের দুর্দশা লাঘবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী ভি শিবকুমার। তিনি বলেছেন, কর্মহীন বাংলাদেশিদের খুঁজে বের করতে দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করবে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (এমওএইচআর)।
স্থানীয় সময় রোববার (৫ নভেম্বর) গোম্বাকের দেওয়ান রায়ায় গ্রাম্য কমিউনিটি ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিলের (এমপিকেকে) তৃতীয় সিরিজ বৈঠকে যোগদানের পর তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মন্ত্রী শিবকুমার বলেন, ‘আমি চাই যে কেউ এর সাথে জড়িত এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করুক এবং আমরা আমাদের দেশে জোরপূর্বক শ্রমের ঘটনা এড়াতে চাই এবং এই দেশে বাংলাদেশসহ কোনও বিদেশী কর্মী যাতে ঋণের বন্ধনে আটকা না পড়ে বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে না পড়ে তা নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আমি এই বিষয়গুলি নিয়ে সিরিয়াস কারণ আমি আইনের বাইরে যা কিছু ঘটছে তা এড়াতে চাই।’
মানবাধিকার হাইকমিশনকে দেয়া ওই চিঠিতে সংকীর্ণ বাসস্থান, দুর্বল স্যানিটেশন, সীমিত খাবার এবং ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে অতিরিক্ত নিয়োগ ব্যয়ের কারণে কীভাবে তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, তার বিশদ বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের পাশাপাশি খারাপ পরিবেশ, পাচার, অভিবাসী, দারিদ্র্য এবং ব্যবসা ও মানবাধিকার সম্পর্কিত ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অভিবাসন ও মানবাধিকার বিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা পিয়া ওবেরয়ের কাছেও তিনি এসব নথিপত্র পাঠিয়েছেন।
তাতে অ্যান্ডি হল বলেছেন, ‘মালয়েশিয়া সরকারের মতে দেশটিতে উৎপাদন ও পরিষেবা খাতে বর্তমানে প্রয়োজনের চেয়েও আড়াই লাখ বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন। কেস স্টাডি এবং মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে, আমি ইউএনএইচআরসিকে অবিলম্বে মালয়েশিয়ার পরিস্থিতি সমাধানে বিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।’
নথিপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি কীভাবে ঘটতে পারে, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব মালয়েশিয়ান সরকারের। তাছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়োগ আবেদনগুলো যদি সঠিক হয়, তাহলে দেশটিতে অতিরিক্ত শ্রমিক থাকার কথা নয়। সেক্ষেত্রে এমন মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হতো না। শ্রমিকদের স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে তাদের সম্পূর্ণ মজুরি পাওয়া উচিত এবং শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের সব সুযোগ-সুবিধা দেয়া উচিত।’
এছাড়াও নথিভুক্ত একটি অভিযোগের উদ্ধৃতি দিয়ে অ্যান্ডি হল জানান, অভিযোগ করা হয়েছে ৪০০ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের থাকার ও খাবারের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান না থাকায় তারা নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
অ্যান্ডি হল আরও জানিয়েছেন, একটি ঘরে প্রায় ১৪ জন আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছ থেকে ভিডিও পাওয়া গেছে। যেখানে তাদের প্রত্যেককে খাবার কেনার জন্য ২০০ রিঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে; যা দিয়ে মাত্র কয়েকদিন চলবে। আবার কোনো কোনো শ্রমিকের কাছে পাসপোর্ট অথবা কাজের ভিসা না থাকায় তারা কাজ করতে পারছে না। তারাঅভিবাসন পুলিশের আতঙ্কে দিন পার করছে।