প্রবাস মেলা ডেস্ক: তীব্র খরার কবলে আফ্রিকা। বৃষ্টি না হওয়ায় ফলানো যাচ্ছে না কোনো ফসল। এতে কেনিয়া, সোমালিয়া ও ইথিওপিয়াসহ ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বলছে, অঞ্চলটিতে এরই মধ্যে দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে এক কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ। জরুরি ভিত্তিতে তাদের সহায়তা করা না গেলে অঞ্চলটিতে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
একদিকে যখন সাইক্লোন, তুষারঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল, তখন তীব্র খরার কবলে আফ্রিকা মহাদেশ। খাদ্যের অভাবে শুধু মানুষ নয়, পশু-পাখিও আছে চরম কষ্টে। পানির অভাবে মাইলের পর মাইল ধু ধু মরুভূমি।
স্থানীয়রা বলেন, ২ বছর ধরে এখানে বৃষ্টি হচ্ছে না। শুধু ধূলিঝড়। এটা আমাদের প্রথম অভিজ্ঞতা। চরম কষ্টের মধ্যে আছি।
আফ্রিকার সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও কেনিয়ার পরস্থিতি সবচয়ে খারাপ। ১৯৮১ সালের পর এই প্রথম এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়ছে দেশগুলো। খাদ্য ও পানির অভাবে কঙ্কালসার অবস্থা শিশুসহ বেশিরভাগ মানুষের।
খরার কারণে বেশি কষ্টে আছে ইথিওপিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব, কেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলসহ মধ্য সোমালিয়ার জনগোষ্ঠী। এসব অঞ্চলে অপুষ্টিজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে বেশিরভাগ মানুষ।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) তথ্য বলছে, আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ চরম দুর্ভিক্ষের মুখে। তাদের সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে ৩২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি।
ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি শাউন হিউগেস বলেন, আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় দেখছি। ঠিক একই সময়ে করোনার কারণে অর্থ সংকটে আছে বিশ্বের বিভিন্ন দাতা সংস্থা। এসব অঞ্চলের জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে সহায়তার জন্য বলেছি।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানায়, আগামী ৬ মাসের মধ্যে ইথিওপিয়ার ৬০ লাখ এবং পার্শ্ববর্তী সোমালিয়ার ৭০ লাখ মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা না হলে আগামীতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এসব দেশ।