কোলকাতা, ভারত প্রতিনিধি: মহানগরী কলকাতার অভিজাত প্রেক্ষাগৃহ কলামন্দিরের কলাকুঞ্জে রাজ্যের অন্যতম এক সাংস্কৃতিক পরিবার ‘ব্যঞ্জনা’ আয়োজিত ‘ব্যঞ্জনা’ উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মহা সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হল। এরকম আঁটোসাঁটো অখন্ড রঙ-বেরঙের অনুষ্ঠান বহুদিন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মনে গেঁথে থাকবে। অনুষ্ঠানের সূচনায় নৃত্য-গীত-শায়রী ও বাদ্যের সূচনায় ‘শাম-এ সঙ্গীত’ শরীর শিউরে দিয়েছিল। শাস্ত্রীয় নৃত্যে কস্তুরী রাঢ়ী, রাজনন্দিনী ঘোষ, অভিলিকা ধারা, তৃণা গুপ্ত, অনুষ্কা সাউ সকলেই তাঁদের মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। কণ্ঠনাটকে যুগলবন্দী শৌভিক সেন ও সুস্মিতা রায়ের পরিবেশনা মুগ্ধ করে শ্রোতাদের। নৃত্য ও কবিতা কোলাজ ‘তোমার সুর মোদের সুর’ মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছেন শ্রোতারা। বিভিন্ন প্রাদেশিক মেলবন্ধন ছিল গানে কথায়। সায়ন্তনী কুন্ডু, অর্পিতা মজুমদার, পূজা ব্যানার্জি, সৌম্যরীত মোদক, মধুরিমা ঘোষ, তৃণা গুপ্ত, ও সানন্দা পাল এই অনুষ্ঠানটিতে তাঁদের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। ‘ব্যঞ্জনা’র একটি অনন্য অভিনব অনুষ্ঠান ছিল দুই কবিকে নিয়ে একটি সাক্ষাৎকার ভিত্তিক অনুষ্ঠান। এপার বাংলা-ওপার বাংলার জনপ্রিয় কবি শ্রদ্ধেয় জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় এবং সমকালীন কবি ফুল্লরা মুখোপাধ্যায় কবিতা পাঠ করেন। সুললিত কণ্ঠে এই অনুষ্ঠানের অন্যমাত্রা আনেন সুস্মিতা দাস। এদিনের বহু অনুষ্ঠান পর্বের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান ছিল বিশিষ্ট নাট্যকার চন্দন সেন রচিত কথানাটক ‘সে এসেছিল’। কথানাটকে সমকালের সেরা বহুমুখী প্রতিভাবান দুই বাচিকশিল্পী শর্মিষ্ঠা দত্ত রায় ও দেবাশিস

মৌলিক তাঁদের কণ্ঠমাধুর্যে শ্রোতাদের মন জয় করেন। টান টান রোমাঞ্চকর এই নাটক শুনতে শুনতে শ্রোতারা স্মৃতির ক্যানভাসে হারিয়ে গিয়েছিলেন। সানির আবহসঙ্গীত অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল অনুষ্ঠানটিতে। ‘জলসাঘর’ ছিল ‘ব্যঞ্জনা’র আরেক অনবদ্য মৌলিক পরিবেশনা। দেবাশিস মৌলিকের কণ্ঠে হারিয়ে যাওয়া আধুনিক গান ও রবীন্দ্রসঙ্গীত, সায়ন্তন চক্রবর্তীর কণ্ঠে পুরাতনী ও রাগপ্রধান, ইন্দ্রানী রায়ের কণ্ঠে ভজন ও লোকগান শ্রোতা- দর্শকদের বসিয়ে দিয়েছিল কোনো জমিদার বাড়ির বৈঠকখানার বৈঠকীতে। সঙ্গে প্রতিভাময়ী বাচিক শিল্পী ও নাট্যকার শর্মিষ্ঠা দত্ত রায়ের টুকরো টুকরো কথা স্বপ্নময় করে তুলেছিল ‘জলসাঘর’কে। তবলা ও যন্ত্রানুষঙ্গে দীপক ভট্টাচার্য ও দেবব্রত মুখার্জি সুন্দর সঙ্গত করেছেন। অলোকেশ দে সরকার আবহ দিয়েছেন অনুষ্ঠান জুড়ে। সান্ধ্য এই অনুষ্ঠানে গল্পকার ও সুলেখক শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে পুষ্পস্তবক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। পুষ্পার্ঘ্য তুলে দেন বিশিষ্ট কবি জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়। ‘ব্যঞ্জনা’র কর্ণধার তথা নাট্যকার ও বাচিকশিল্পী শর্মিষ্ঠা দত্ত রায় ‘ব্যঞ্জনা’ অনুষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত ভাষণে ‘ব্যঞ্জনা’র বিভিন্ন কাজের ধারা ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন। তিনি জানান ‘ব্যঞ্জনা’ একটি সাংস্কৃতিক সামাজিক বন্ধন। একটি পরিবার। আগামী দিনে আরও সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দেবে ‘ব্যঞ্জনা’। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী শ্রী আশীষ হাজরা। ‘ব্যঞ্জনা’র সুন্দর মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের জন্য উপস্থিত সকল দর্শক-শ্রোতাদের কাছে প্রশংসিত হয় ‘ব্যঞ্জনা’-র শিল্পীরা।