প্রবাস মেলা ডেস্ক: বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রবাসীদের অধিকার এই স্লোগানকে সামনে রেখে কানেক্ট বাংলাদেশ এর বিশেষ অধিবেশন ও বাৎসরিক সাংগঠনিক সভা ২২ ও ২৩ অক্টোবর বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে কানেক্ট বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক সদস্যরাসহ বার্সেলোনার সাংবাদিক বিভিন্ন, সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন।
মূলত কানেক্ট বাংলাদেশ এর এই বিশেষ অধিবেশন ও সাংগঠনিক সভাটির প্রয়োজনীয়তা ছিল এই জন্যই যে কিছুটা ভুল ত্রুটি এবং বিশৃঙ্খলা কে সংশোধন করা এবং কানেক্ট বাংলাদেশ এর গঠনতন্ত্র কে কিছু নিয়ম নীতি বাদ দিয়ে নতুন কিছু নিয়ম নীতি সংযোগ করাই ছিল কানেক্ট বাংলাদেশের এই সভার মূল বিষয় ।

প্রথম অধিবেশন ২২ অক্টোবর স্থানীয় সময় সকাল ১১.৩০ বার্সেলোনা শহরে একটি স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেস্টুরেন্ট মধুর ক্যান্টিনে। একে একে কানাডা, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ইতালি ফ্রান্স, স্পেন, সুইজারল্যান্ড ও বার্সেলোনার সমন্বয়ক সদস্যবৃন্দের আনন্দ মুখর আগমনে সভা কক্ষটি কানায় কানায় এক আনন্দঘন পরিবেশ গড়ে উঠে, দেখে মনে হচ্ছিল এক টুকরো বাংলাদেশ। একে অপরকে কুশল বিনিময় এর পরে মূল অধিবেশনের শুরু হয়।
সকালের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন লন্ডন থেকে আগত কানেক্ট বাংলাদেশ’র সমন্বয়ক সৈয়দ মাহবুব সাঈদ। তিনি সভা পরিচালনা করার দায়িত্ব অর্পণ করেন কানাডা থেকে আগত কানেক্ট বাংলাদেশ’র অপর সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া কে। সঞ্চালনায় ছিলেন ফ্রান্স থেকে আগত সমন্বয়ক শেখ সাদী রুমু । কু
রআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত সমন্বয়ক সদস্যবৃন্দ তাদের পরিচয় ব্যক্ত করেন । প্রথমে সকালের অধিবেশন শুরু হয় কেন আজকে এই অধিবেশনে কানেক্ট বাংলাদেশের সকল সমন্বয়ক সদস্যগণ একত্রিত হলেন? একে একে সঞ্চালক সব তথ্য গুলো পড়ে শোনান ।
প্রথমে ছিল ২০১৮ এর ২২ ও ২৩ অক্টোবর রোম সম্মেলনে যেই গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়েছিল তার কয়েকটি ধারা বাতিল এবং নতুন কয়েকটি ধারা সংযোজন প্রসঙ্গে। দ্বিতীয়তঃ ছিল ,‘কানেক্ট বাংলাদেশ এখন কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল নামে কেন ? যেহেতু কানেক্ট বাংলাদেশ যৌথ নেতৃত্বে সংগঠন তাই এখানে নির্দিষ্টভাবে কে কোন কথা বলবে উত্তর দিবে তার কোনো বিধান ছিল না তাই অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী একজন সমন্বয়ক বললেন কেন কানেক্ট বাংলাদেশ আজকে ইন্টারন্যাশনাল হল সেটা ছিল এভাবে কানেক্ট বাংলাদেশের পুরনো ফেসবুক পেইজটি কানেক্ট বাংলাদেশের (সাবেক) কুয়েতের সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ সংগঠনবিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে পাঁচজন এডমিনকে সেই পেজ থেকে বের করে দিয়ে নিজেই একা কানেক্ট বাংলাদেশের নিজস্ব পেইজটি হ্যাক করে নিজের নামে নিয়ে যায়, যেহেতু কানেক্ট বাংলাদেশ তার প্রচার এর জন্য সকল কার্যক্রম করবে বা করছে তাই একই নামে কানেক্ট বাংলাদেশ পেজ না খুলে কানেক্ট বাংলাদেশের নামের পাশে ইন্টারন্যাশনাল নামটি সংযোগ করে নতুন একটি পেইজ করেন, যা গত তিন মাস থেকে কানেক্ট বাংলাদেশের প্রচারের স্বার্থে ।

একজন সদস্যের অন্য একটি প্রশ্ন ছিল কেন কানেক্ট বাংলাদেশের তিনজন সমন্বয়ককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে ? কানেক্ট বাংলাদেশের যে তিন জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তাদের সংগঠন বিরোধী বিভিন্ন রকম কার্যক্রমের জন্যই তাদেরকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে । যেহেতু কানেক্ট বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করে আসছে ইতিপূর্বে কানেক্ট বাংলাদেশের কয়েকটি দাবি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়াতে সে দাবিও পূরণ হয়েছে । কানেক্ট বাংলাদেশ’র দাবিদাওয়াগুলো সম্পূর্ণই প্রবাসীদের কল্যাণের জন্য তার মধ্যে অন্যতম হল প্রবাসীরা যেন তাদের নিজ দেশে সম্পূর্ণ অধিকার পায় প্রবাসীদের ছেলেমেয়েরা বাংলাদেশের উন্নয়নের সাথে কাজ করতে পারে ।
প্রবাসীরা যেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায় অংশগ্রহণ করতে পারে তার পরিবেশ সৃষ্টি করা, প্রবাসী বাংলাদেশীরা যেন প্রবাসী বসেই দূতাবাসের মাধ্যমে তার ন্যায্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তারও দাবি রাখেন কানেক্ট বাংলাদেশ। কানেক্ট বাংলাদেশ খুব শীঘ্রই প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করবে, কানেক্ট বাংলাদেশ চায় সকল গণতান্ত্রিক দেশের ন্যায় একটি সিলেট বা উচ্চকক্ষ সৃষ্টির মাধ্যমে ভোটার সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব দাবি করে । কানেক্ট বাংলাদেশ চায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের ছেলে মেয়েরা যেন বাংলাদেশের সাথে লেখাপড়া সহ খেলাধুলা, জাতীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানর সাথে একটা সম্পৃক্ততা থাকে যা দূতাবাসের মাধ্যমে কার্যকরী হবে।
প্রতিটি জেলা-উপজেলায় প্রবাসীদের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে প্রবাসীদের কল্যাণে , বিভিন্ন বক্তব্যের এক পর্যায়ে দুপুরের খাবার জন্য বিরতি দিয়ে বিকেল চারটায় চা চক্রের মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা শুরু হয়। সঞ্চালক একে একে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে গঠনতন্ত্র পড়ে শোনান এবং যেখানে কিছু কথাবার্তা বাদ দেয়ার দরকার ছিল তা উপস্থিত সবাই সম্মিলিতভাবে তা বাদ দিয়ে এবং যা সংযোজন করা প্রয়োজন ছিল তাও সম্মিলিতভাবে সবার মতামতের ভিত্তিতে সংযোজন করা হয় ।
কানেক্ট বাংলাদেশ’র সমন্বয়ক সদস্যরা সম্পূর্ণ আন্তরিক প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের উন্নয়নের সাথে অতীতেও যেমন সম্পৃক্ততা, হৃদ্যতা রাখছে ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে বলে জোর মত প্রকাশ করেন উপস্থিত বক্তাগণ ।
কানেক্ট বাংলাদেশ বাংলাদেশের এবং অবস্থানকারী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবে এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বার্থবিরোধী আইন বাতিলের জন্য বাংলাদেশ কর্মসূচি গ্রহণ করবে বলে মত প্রকাশ করেন উপস্থিত কানেক্ট বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও সদস্যবৃন্দ ।