প্রবাস মেলা ডেস্ক: এখনো দর্শক তার মাঝে বাকের ভাইকেই খুঁজে বেড়ায়। তার অভিনয় জীবনের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র হুমায়ূন আহমেদের ‘কোথাও কেউ নেই’ ধারাবাহিক নাটকের বাকের ভাই। বাংলাদেশের টিভি নাটকের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক এটি। তিন দশক পরেও এই নাটকের কথা দর্শক ভোলেনি। তিনি সবার প্রিয় আসাদুজ্জামান নূর।
বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গণের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূরের ৭৬তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৬ সালের এই দিনে নীলফামারী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। অভিনয়, রাজনীতির পাশাপাশি আবৃত্তিশিল্পী ও সংগঠক হিসেবে নন্দিত এই ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নব্বইয়ের দশকে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে বাকের ভাই চরিত্রে অভিনয় করে আসাদুজ্জামান নূর ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ধারাবাহিকটির জন্য মিছিল হয়েছে। বাকের ভাইয়ের ফাঁসি কেন, কুত্তাওয়ালী জবাব চাই, বাকের ভাইয়ের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে- এসব স্লোগান দিয়ে হয়েছে মিছিল।
শুধু বাকের ভাই নয়, নাটকের ক্লাইমেক্স আর ঘটনার কারণে বদি আর মজনুও যেন একটা সময়ে শহরের চেনা মুখে পরিণত হয়। হাতে চাবির রিং ঘুরানো বাকের ভাইয়ের প্রিয় গান- ‘হাওয়া মে উড়তা যায়ে’ হয়ে ওঠে চায়ের দোকানের নিত্যদিনের গান। বাকের ভাইয়ের জেলে ঢোকার পরিণতি কাঁদায়, ভাবায় দেশবাসীকে। যতদিন বাংলা নাটকের দর্শক বেঁচে থাকবে, ততদিন বাকের ভাই হয়ে থাকবেন গলির মোড়ের সুপার হিরো।
আসাদুজ্জামান নূরের অভিনয় জীবনের শুরু হয় ১৯৭২ সালে ‘নাগরিক’ নাট্যদলের মাধ্যমে। এই নাট্যদলের ১৫টি নাটকে তিনি ৬০০ বারের বেশি অভিনয় করেছেন। অভিনয় দিয়ে মুগ্ধ করেছেন টেলিভিশন ও সিনেমায়ও। টেলিভিশনে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘এইসব দিনরাত্রি’ (১৯৮৫), ‘অয়োময়’ (১৯৮৮), ‘কোথাও কেউ নেই’ (১৯৯০), ‘আজ রবিবার’ (১৯৯৯) ও ‘সমুদ্র বিলাস প্রাইভেট লিমিটেড’ (১৯৯৯)। রেডিওতে প্রচারিত তাঁর নাটকের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। টেলিভিশনের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো ‘শঙ্খনীল কারাগার’ (১৯৯২) ও ‘আগুনের পরশমণি’ (১৯৯৪)।
আসাদুজ্জামান নূর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে পর পর চারবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন আসাদুজ্জামান নূর। তিনি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সদস্য। সুদীর্ঘ অভিনয় ও রাজনৈতিক জীবনে বরেণ্য এই মানুষটি পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা।