জাহাঙ্গীর আলম শিকদার, লন্ডন, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: প্রবাসের কর্মময় জীবনে সবাই খুঁজে বেড়ায় একটু আনন্দ ও বিনোদনের দিনক্ষন। আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণটির আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ সমিতি নিউহ্যাম ইউকে ।
২১ জুলাই নিউহ্যাম থেকে ৫ টি বড় বড় বাস এবং একাধিক প্রাইভেট কারে প্রায় ৩০০ জন যাত্রী নিয়ে জমজমাট পিকনিকের যাত্রা শুরু হয় সকাল ৯ টায়। গন্তব্য লন্ডন থেকে ৮২ মাইল অদূরে ক্ল্যাকটন অন সি সমুদ্র সৈকত। অংশগ্রহণকারী ভ্রমণসংগীরা যাত্রা এবং ফিরতি পথে বাসের মধ্যে গান-কৌতুক এবং চুটকি পরিবেশনের মাধ্যমে ভ্রমণের ক্লান্তিকে বিন্দুমাত্র অনুভব করতে দেননি। মনে হয়েছে সময়টা নিমিষেই কেটে গেল ।
পিকনিক স্পটে যাওয়ার পর পরিবেশন করা হয় দুপুরের খাবার। এর পর কয়েক ঘন্টা ছিল যে যার মত পরিবার-পরিজন এবং বন্ধু-বান্ধবসহ সমুদ্রের লোনা পানিতে সাঁতার কাটা এবং সমুদ্রের বিরাট-বিরাট ঢেউয়ের মধ্যে নিজের মধ্যকার উন্নাষিক ভাবাবেগে হারিয়ে যাওয়ার ।
দুপুর গড়িয়ে বিকাল। শুরু হয় নানা প্রতিযোগিতা ও রাফেল ড্র। এতে ছোট বড় মহিলা পুরুষ সবাই অংশগ্রহণ করেন। বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় উপহার তুলে দেন বাংলাদেশ সমিতি নিউহ্যাম ইউকে’র সভাপতি রাব্বি হাসান। এসময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাধারণসম্পাদক নুরুল আফসার হিরণ, উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জামান কবির, জয়েন্ট সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, কোষাধক্ষ সওয়াব মিয়া, এক্সেকিউটিভ মেম্বার শামসুল আলম, উপদেষ্টা জাকির হোসাইন, কাজী মিল্লাত, রফিকুল ইসলাম, কমিউনিটি সেক্রেটারি একরামুল হক প্রমুখ।
পিকনিক মানেই আনন্দ উল্লাস আর সীমাহীন ফূর্তি। কর্মব্যস্ত জীবন থেকে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে প্রবাসে পিকনিকের বিকল্প নেই। পড়ন্ত বিকেলে সূর্য তার বিদায়ের বার্তা জানিয়ে ক্রমশ পশ্চিমে ঢলে পড়ছে। সূর্যদেবী আকাশের ইশান কোণে আবীর ছড়িয়ে পরিণত হয়েছে গোলাকার বৃত্তে। বৃত্তটি ধীরে ধীরে দৃষ্টিসীমার বাইরে হারিয়ে যাবে। এবার বাড়ি ফেরার পালা।
বাস ও প্রাইভেট কারে সবাই আবারো ছুটে চলেছে যন্ত্র দানব লন্ডনের পথে। পিছনে রয়ে গেল স্মৃতিবিজড়িত ক্ল্যাকটন অন সি সমুদ্র সৈকতে।