প্রবাস মেলা ডেস্ক: বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোনীত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, আগামী বছরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নতুন পথ খুঁজে নিতে এই নির্বাচন হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে অনুষ্ঠিত শুনানিতে তিনি আরও বলেন, একটি উজ্জ্বল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের এই অভিযাত্রায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার আগে তিনি বৃহস্পতিবার সিনেটের শুনানিতে অংশ নেন।
সিনেটে অংশ নিয়ে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ঢাকা-ওয়াশিংটন অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে কাজ করবেন।
সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর পিট রিকেটস বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, বিশেষ করে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা নিয়ে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে প্রশ্ন করেন।
পিট রিকেটস বলেন, বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত হলে কীভাবে আপনি বাংলাদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, যাতে তারা চীনা সমরাস্ত্রের ওপর আরও নির্ভরশীল না হয়, তাদের প্রতিরক্ষা ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হয়?
জবাবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে আপনার উদ্বেগের সঙ্গে আমি একমত। আমার মনোনয়ন নিশ্চিত হলে বাংলাদেশের সরকার ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলব—চীনের কর্মতৎপরতা, তাদের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা, সামুদ্রিক এলাকায় তাদের কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় চীনের ভূমিকার ঝুঁকি স্পষ্টভাবে তুলে ধরব। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের সুযোগ ও সুফলগুলোও তুলে ধরব, বিশেষ করে আমাদের দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আরও নিবিড় সহযোগিতার বিষয়টি।
সিনেটর পিট রিকেটস জানতে চান, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের অস্ত্র বিক্রির প্রভাব মোকাবিলায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন।
এ প্রশ্নের জবাবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, আমাদের মার্কিন সামরিক সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে আমরা মিত্রদেশগুলোর জন্য এমন কিছু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুলে ধরতে পারি, যা বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হতে পারে—যারা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি প্রিমিয়াম অস্ত্রসামগ্রী কিনতে পারে না। পাশাপাশি আমরা যৌথ সামরিক মহড়ার মাধ্যমে এসব প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে তাদের আন্তকার্যক্ষমতা বাড়াতে পারি।
গত ২ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেন।