প্রবাস মেলা ডেস্ক: ২১ ডিসেম্বর ২০২২, বুধবার প্রবাস মেলা অফিসে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন ফ্রান্স প্রবাসী সাংবাদিক মার্ক রায়। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশে বেড়াতে আসলে তাকে প্রবাস মেলা’র পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেসুবাদে তিনি প্রবাস মেলা অফিস পরিদর্শনের আসেন। এসময় তিনি প্রবাস মেলা’র কলা-কুশীলবদের সাথে চা-চক্রে অংশ নিয়ে আড্ডায়-আলোচনায় তার প্রবাস জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। আলোচনার এক ফাঁকে তার হাতে প্রবাস মেলা’র সৌজন্য কপি তুলে দেন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শহীদ রাজু।
উল্লেখ্য, মার্ক রায়ের জন্ম ১৯৭২ সালে ঢাকা জেলায়। তার গ্রামের বাড়ি খুলনার দাকোপ থানার চুনকুড়ি গ্রামে। তার পিতা প্রভুদান রায় ও মাতা দানকুমারী রায়। দু’জনই প্রয়াত। তারা ৫ ভাই ১ বোন। তিনি ১৯৮৭ সালে খুলনা রূপসা হাই স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৮৯ সালে রাজুয়া সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে ঢাকার তেজগাঁও কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে বি.কম পাশ করে ১৯৯৫ সালে এম.কম ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি পড়াশোনা শেষ করে বেসরকারি এনজিও কনসার্ন বাংলাদেশের কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। ভ্রমণের নেশা থেকে তিনি ইতালি, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, মালটা, স্পেন, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, চায়না, ভারত, নেপাল সহ বহু দেশ ভিজিট করেন। ২০০৮ সালে ফ্রান্সে গমণ করেন। বর্তমানে সেখানেই বসবাস করছেন। চাকরির পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা এবং সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
তিনি ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রবাস মেলা পত্রিকার তুলুজ, ফ্রান্স প্রতিনিধি। বিদেশ বিভূঁয়ের প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও তিনি সাংবাদিকতা এবং সমাজসেবায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। ইউরোপে বাংলাদেশ থেকে যে সমস্ত ব্যক্তি ইউরোপে স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য যায় তিনি তার সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকেন। এছাড়া পিছিয়ে পড়া মানুষদের নানাভাবে সাহায্য করা, নতুন প্রজন্মকে দেশীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করানোর জন্য প্রবাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করে থাকেন। এছাড়া ইউরোপে বসবাসরত খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়ে দেশে এবং বিদেশে দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকেন। এজন্য তিনি দেশে-বিদেশে একজন ‘মানবিক মার্ক রায়’ হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে তিনি ১ সন্তানের জনক। তার স্ত্রীর নাম প্রণতি ক্রুশ। তার মেয়ে ক্ষমা রায় ফ্রান্সের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।