প্রবাস মেলা ডেস্ক: প্রবাস মেলা অফিসে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন কানাডা প্রবাসী কবি, বাচিকশিল্পী ও আন্তর্জাতিক সংগঠক মৌ মধুবন্তী। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশে আসলে তাকে প্রবাস মেলা অফিস পরিদর্শন করতে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরিদর্শনকালীন সময়ে তিনি প্রবাস মেলা’র কলা-কুশীলবদের সাথে চা-চক্রে অংশ নিয়ে আড্ডায়-আলোচনায় তার প্রবাস জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। আলোচনার এক ফাঁকে তার হাতে প্রবাস মেলা’র সৌজন্য কপি তুলে দেন পত্রিকার অনলাইন রিপোর্টার আশরাফুল আলম মাসুদ।
উল্লেখ্য, কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি কবি মৌ মধুবন্তী’র মোট ১৬টি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে, ১টি কাব্যগ্রন্থ বাংলা, ইংরেজী ও স্প্যানিশ ভাষায় প্রকাশিত হয়। বাংলায় এর নাম ‘আমি এক খন্ড বাংলাদেশ’ ইংরেজীতে Bangladesh My soil My Soul, আর স্প্যানিশ এ Bangladesh Mi Tierr.
Mi Alma. শহুরে আবহ নিয়ে গল্প সংকলন রয়েছে ১টি। দু’টো অনলাইন কবিতা-পত্রিকা-কবিতা উৎসব ও হৃদবাংলা এর সম্পাদনার পাশাপাশি তিনি আবৃত্তি, নাটকে অভিনয়, উপস্থাপনা করেন। তিনি ললিতকন্ঠ স্বরশৈলীর নন্দন বন্ধনীর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর। তিনি চালের গুড়া পিঠা উৎসব, বিসিসিএস, টরন্টোতে আহবায়ক হিসাবে কাজ করছেন। তিনি বেঙ্গলি ইন্টারন্যাশনাল লিটারারি সোসাইটির সম্মানিত উপদেষ্টা৷ বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব কানাডার সভাপতি ও ওয়ার্ল্ড রাইটার্স ইউনিয়ন (রোমানিয়ার) একজন এক্সিকিউটিভ সদস্য, প্যানোরমা ইন্টারন্যাশনাল লিটারারি ফ্যাস্টিভাল এর নর্থ আমেরিকান এম্বাসেডর হিসাবে ৩ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।

কবি ও লেখক হিসেবে তিনি অনেক আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০২৩ সালে ভারত থেকে ২টা অ্যাওয়ার্ড, রোমানিয়া থেকে এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। কবিতা চর্চা অ্যাওয়ার্ড-২০১৭, ডিস্টিংগুইসড গেস্ট অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ (মুনির মেইজিদ ফাউন্ডেশান অফ আর্টস এন্ড কালচার, বুখারেস্ট, রুমানিয়া), হানান আওয়াদ পীচ অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ (পেন প্যালেস্টাইন ইন্টারন্যাশানাল)।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে মৌ মধুবন্তী’র কাব্যগ্রন্থ ‘রক্ত নদী একা’ থেকে সবগুলো কবিতার যুগলকণ্ঠে আবৃত্তি করেন, আবৃত্তিকার মামুন ইমতিয়াজ ও সঙ্গীতা চৌধুরীর এবং একটি আবৃত্তির ক্যাসেট লেজার ভিশন থেকে প্রকাশিত হয়।
মৌ মধুবন্তী আগস্ট মাসে ইউরোপের ভলকান অঞ্চলের রোমানিয়া, সার্ভিয়াতে পোয়েট্রি উৎসবে যোগ দিয়ে বাংলা কবিতাকে বিশ্বের দরবারে সমুজ্জ্বল প্রদীপের শিখার মতো জ্বালিয়ে রাখছেন। তারপর তিনি লন্ডন ১৪তম বাংলা বইমেলায় যোগদান করেন আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি হিসাবে। সাথে ছিলেন বিশিষ্ট ছড়াকার ড. ধনঞ্জয় সাহা। লন্ডনের মঞ্চে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করে মৌ মধুবন্তী বিশেষভাবে সমাদৃত হন।

বাংলাদেশে এসেছিলেন পারিবারিক শোক পালনের উদ্দেশ্যে। কবিতার প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসার কারণে তিনি ২০টি কবিতার রেকর্ডিং করেছেন আবৃত্তিগুরু মাহিদুল ইসলাম মাহির নির্দেশনায়।
সার্ভিয়াতে তিনি তার রচিত গান, এ কোন বাঁধনের মিউজিক ভিডিও তে শ্যুটিং করেন। আগামিতে বিশ্বের সব দেশের মঞ্চে বাংলা কবিতা আবৃত্তির এক দু:সাহসিক পরিকল্পনা নিয়েছেন সাথে তিনি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট এর পিএইচডি করছেন।