প্রবাস মেলা ডেস্ক: ৪ জানুয়ারি ২০২১, সোমবার প্রবাস মেলা অফিসে সম্মানিত অতিথি ছিলেন কবি রুকসানা রহমান ও আবৃত্তিশিল্পী মাহ্জাবীন মিতি। এসময় তারা প্রবাস মেলা’র কলাকুশীলবদের সাথে শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতির নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আড্ডা-আলোচনা আর চা-চক্রের মধ্য দিয়ে ওঠে আসে শিল্প-সংস্কৃতির নানা দিক। দু’জন অতিথিই মনে করেন, বাঙালি সংস্কৃতির লালন-পালন এখন অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে তা এখনো তেমনটি অবারিত নয়। তাই সকল বাধা উপেক্ষা করে নারীদের একটি সুষম সমাজ গঠনে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা জরুরী।
উল্লেখ্য, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা রুকসানা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার প্রথম লেখা প্রকাশ হয় স্কুলের বার্ষিক ম্যাগাজিনে। ছড়া-কবিতা লেখার পাশাপাশি তিনি কত্থক নাচ শিখেছেন। গার্লস গাইড ছাড়াও রাইফেল ক্লাবে শ্যুটিং শিখতেন। বাবার কিনে দেয়া বই পড়া ছাড়াও অবসর পেলেই ছুটে যেতেন লাইব্রেরিতে। লেখালেখির পাশাপাশি স্বপ্ন দেখতে থাকেন সেনাবাহিনীর চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু সবই হঠাৎ ধোঁয়াশায় ঢেকে যায়। তারপরও তার লেখা থামেনি। লিখতে থাকেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস। তার প্রথম কবিতার বই ‘স্বপ্ন পুরুষ’ বের হয় অনেক আগেই। ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয় ‘বাবার কাছে ঠিকানাবিহীন চিঠি’ উপন্যাসটি। আজ সন্তানরা যখন নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত তখন বাবা-মায়ের শৈশবে দেখানো স্বপ্ন পূরণে চরম উদ্যমী এই কবি। রুকসানা রহমান নাম দিয়ে প্রবেশ করেন কাব্য জগতে। এছাড়াও তিনি জাপানিদের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে হয়ে উঠলেন বিউটি এক্সপার্ট। হেয়ার স্টাইল আর কাটিং এর ওপর দেশে প্রথম সিলেবাস প্রণয়ন করেন। ব্যাংগালোর আর্ট অফ লিভিং থেকে ইয়োগার ট্রেনিং নিয়ে প্রশিক্ষক হন। এর মাঝেই রুকসানা চৌধুরী নামে অনন্যা ম্যাগাজিনে রূপচর্চা বিষয়ে লেখা শুরু। ‘দেখে এলাম হিরোশিমা’ নামে ভ্রমণকাহিনিও লেখেন। জাতীয় দৈনিক মানবজমিনে ফ্যাশন অ্যান্ড গ্ল্যামার নিয়ে পাঠকদের উত্তরও দিতে। দৈনিক ইত্তেফাকসহ অন্যান্য দৈনিকে রূপচর্চা বিষয়ক তার লেখা প্রকাশ হতে থাকে। তিনি সাহিত্য সংগঠন ‘ম্যাজিক লন্ঠন’ এর সম্পাদক হিসেবে যুক্ত আছেন ১৮ বছর ধরে। বাল্যবিয়ের শিকার এই কবি মনে করেন, কোনো পুরুষের পায়ে ভর না করে সবার আগে দরকার নারীর পায়ের তলার ভিতটা শক্ত করা। তবেই সম্মান আর মর্যাদা নিশ্চিত হবে নারীর। এমন সুরই ধ্বনিত হয় তার লেখায়।
মাহ্জাবীন মিতি একজন প্রতিশ্রুতিশীল আবৃত্তিশিল্পী। কবিতা, গল্পও লেখেন। আবার তিনি একজন সৌখিন ফটোগ্রাফার। এছাড়া তিনি একজন মিনিয়েচার আর্টিস্ট। তার সুক্ষ্ম হাতে তিনি অসংখ্য মিনিয়েচার সামগ্রী তৈরি করে যাচ্ছেন। তিনি একজন আবৃত্তিশিল্পী এবং মিনিয়েচার আর্টিস্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। আলোচনার এক ফাঁকে তিনি বলেন, ‘শিল্প-সংস্কৃতির চর্চার পাশাপাশি সবকিছু ছাপিয়ে আমি একজন ভালো মানুষ হতে চাই।’
পরে অতিথিরা প্রবাস মেলার নির্বাহী সম্পাদক শহীদ রাজুর সাথে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন।