রনি মোহাম্মদ, লিসবন, পর্তুগাল প্রতিনিধি: পর্তুগালের বাংলাদেশ দূতাবাস, লিসবনে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে।
১৫ আগস্ট ২০২১ সকালে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নিয়ে রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে শোক দিবসের কর্মসূচীর সূচনা করেন।
বিকেলে দূতাবাস চত্বরে রাষ্ট্রদূত পর্তুগাল আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের সাথে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছাত্রাবস্থা থেকে শুরু করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত সময়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের যুগান্তকারী ঘটনাবলীর উপর ‘আলোকচিত্রে সংগ্রামী বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

পরে দিবসটি উপলক্ষ্যে এক স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। এতে দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, পর্তুগাল আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশিগণ অংশগ্রহণ করেন। এ পর্বের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ, পর্তুগাল আ’লীগ, ছাত্রলীগ, পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দগণ জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। এরপর জাতির জনক ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান, আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মহসিন হাবিব, উপদেষ্টা মাহবুব আলম, সা: সম্পাদক শওকত ওসমান, ইমরান হোসেন ভূঁইয়া, জামাল ফকির, দেলোয়ার হোসেন, জাকির হোসেন, তানভীর আলম জনি, আনসার আলী, লিসবন মহানগর ছাএলীগের সা: সম্পাদক আকাশ প্রমুখ। আলোচকগণ এসময় জাতির পিতার অতুলনীয় অবদান ও তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরেন এবং ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এর বর্বর হত্যাকান্ড স্মরণ করে এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত জনাব তারিক আহসান তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এর অভিশপ্ত রাতে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির নীল নক্শায় শাহাদাৎ বরণকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যগণসহ সকল শহিদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রাণনাশের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীরা শুধু ব্যক্তি মুজিবুর রহমান-কে হত্যা করেনি, তারা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নিশ্চিহ্ন করতে। কিন্তু ঘাতকেরা বাঙ্গালির মন থেকে যেমন বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবিকে মুছে ফেলতে পারেনি; তেমনই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চিরন্তন শিখাকেও নিভিয়ে দিতে পারেনি। তবে, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর বারবার আক্রমণের কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্র কখনো থেমে থাকেনি। প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের এই হুমকী মোকাবেলা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রেখে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে বাস্তবে রূপান্তর করার কাজে সবাইকে সংকল্পবদ্ধ হবার জন্য আহবান জানান।

আলোচনা পর্ব শেষে, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্র/সরকার প্রধান হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব’ এবং ‘বঙ্গবন্ধুর শাহাদৎ’ বিষয়ের উপর নির্মিত দু’টি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
সবশেষে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তাঁর পরিবারের অন্যান্য শহীদ সদস্য ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং দেশের অব্যাহত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।