হাকিকুল ইসলাম খোকন,নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন জেতার পর তাঁর জনপ্রিয়তা যেন আরও উর্ধ্বগামী। নির্বাচনের প্রাথমিক পর্বে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হওয়া এই তরুণ রাজনীতিকের সাফল্য নিয়ে কেউ কেউ উচ্ছ্বসিত, কেউ কেউ ক্ষুব্ধ—যা অনেকটাই স্বাভাবিক। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতির বাইরে থাকা একজন অভিবাসী যখন এভাবে অপ্রত্যাশিতভাবে জয় ছিনিয়ে নেন, তা অনেকের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ভালোভাবে অধ্যয়ন করলে দেখা যাবে, দেশটির মূল ভিত্তিই গঠিত হয়েছে বৈচিত্র্য, সাম্য ও মানবাধিকারের ওপর। কারও গায়ের রঙ, ধর্ম, পোশাক, ভাষা কিংবা খাওয়ার অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে তাঁকে হেয় করার অধিকার কারোরই নেই।
উগান্ডার পিতা ও ভারতীয় মায়ের সন্তান জোহরান মামদানি একজন সত্যিকারের উদারপন্থী ও মানবতাবাদী নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর পিতা ও অস্কার নমিনেশনপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা মায়ের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও মামদানি সবসময় সাধারণ মানুষের কাতারে থেকেছেন। বয়স মাত্র ৩৩। প্রথমবারের চেষ্টায় কুইন্স থেকে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হয়ে রাজনীতির মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
নিউইয়র্কের মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে তিনি হারিয়ে দিয়েছেন সাবেক গভর্নর ও ক্লিনটন প্রশাসনের প্রভাবশালী সদস্য অ্যান্ড্রু কোমোসহ একাধিক হাই-প্রোফাইল প্রার্থীকে। র্যাংকড চয়েস ভোটিং ব্যবস্থায় তিনি পেয়েছেন ৫৬ শতাংশ ভোট, যা একটি বড় অর্জন।
জোহরানের প্রচারণা ছিল পুরোপুরি স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে পরিচালিত। কোনো করপোরেট অর্থ নয়, বরং জনগণের সাথে সরাসরি সংযোগেই ছিল তাঁর জয়ের মূলমন্ত্র।
তবে তাঁর জনপ্রিয়তা দেখে কট্টর ডানপন্থীরা তাকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যা দিয়েছেন। রিপাবলিকান নেতারা কটাক্ষ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা, কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, ইলহান ওমর এবং রাশিদা তলিবের মতো তিনিও হয়েছেন ঘৃণাভিত্তিক মন্তব্যের শিকার।
তবে এসব নেতিবাচক প্রচারণা থামাতে পারেনি জনগণের আস্থা। বরং সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্ক সিটির আসন্ন মূল নির্বাচনে জোহরান মামদানি ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। একই জরিপে অ্যান্ড্রু কোমোর ভোটের সম্ভাব্য হার ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ, রিপাবলিকান প্রার্থী সিলওয়া কার্টিস ১৬ শতাংশ এবং বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস পাচ্ছেন মাত্র ১৪ শতাংশ ভোট।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬২ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা এরিক অ্যাডামসকে অপছন্দ করেন। অ্যান্ড্রু কোমোর ব্যাপারে এমন মন্তব্য করেছেন ৫২ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে, ৪৭ শতাংশ ভোটার জোহরান মামদানিকে পছন্দের প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং মাত্র ৪২ শতাংশ তাঁকে অপছন্দের কথা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কবাসীর হৃদয়ে জোহরান মামদানি জায়গা করে নিতে পেরেছেন তাঁর সততা, মানবিকতা এবং বদলে দেওয়ার প্রত্যয়ে। সামনের নির্বাচনে তাঁর জয় যে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা—তা-ই বলছে সর্বশেষ জরিপ।