প্রবাস মেলা ডেস্ক: দুবাইয়ে এনআরবি ওয়ার্ল্ড বিজনেস সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে পৃথিবীর ৩৫ দেশের এনআরবি বিজনেসম্যানদের নিয়ে। ২২-২৪ ডিসেম্বর ২০২৩ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এনআরবি ওয়ার্ল্ড ও বিজনেস আমেরিকান ম্যাগাজিনের আয়োজনে মেলানিয়াম প্লাজা (Melanium Plaza) হোটেলের বলরুমে জমকালো আয়োজনে এই সামিট অনুষ্ঠিত হয়। তিনদিনব্যাপী গ্লোবাল এনআরবি বিজনেস সামিটটে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন দুবাইয়ের শেখ ড. জুমা মাদানী। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশী বিজনেস আইকনদের এই মহাসম্মেলন দেখে আমি সত্যিই অভিভূত হয়েছি।
তিনি বাংলাদেশী বিজনেসম্যানদের দুবাইতে বিনিয়োগ করবার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বিনিয়োগকারীদের সকল ধরনের সাহায্য করবেন বলেও ঘোষণা দেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের এম্বাসেডর ড. মুহাম্মদ আবু জাফর। বিশেষ অতিথি ছিলেন কনসাল জেনারেল জামাল হোসেইন। দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন গ্লোবাল এনআরবি বিজনেস এসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা বিলিনিয়ার ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবক ড. কালি প্রদিপ চোধুরী।
অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের ডাইরেক্টর জেনারেল আবুল হায়াত নুরুজজামান, আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের (এবিসিসিআই) এর সভাপতি গিয়াস আহমেদ, ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেইন, সিংগাপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাহিদুজজামান, এম ডি এস ইসলাম নান্নু জাপান, ব্রিটিশ বাংলাদেশ এসোসিয়েশন (সামারসেট) সভাপতি করিম মিয়া শামিম, একাউন্টেট নোমান রোহিদ, জাপান চেম্বার এন্ড কমার্সের ডা. শেখ আল্মুজজামান, অস্ট্রেলিয়া চেম্বার অব কমার্সের জাফর হায়দার, বাংলাদেশ ডেফোডেন্ট ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চান্সেলর আবু বকর হানিফ।
উক্ত সামিটটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কালি প্রদিপ চোধুরী বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে গ্লোবাল এনআরবি বাংলাদেশী বিজনেসম্যানদের দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত হয়েছি। আমাদের মধ্যে যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান থাকলে সারা বিশ্বেই আমরা ব্যবসা করতে পারবো। তিনি অর্গানাইজারদের ধন্যবাদ জানান। আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী এবং আমেরিকান পলিটিশিয়ান গিয়াস আহমেদ বলেন- বহিঃবিশ্বে আমাদের অর্জন অনেক। আমাদের নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরাও ভালো-ভালো ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছে, ভালো চাকরি এবং বিজনেস করছে অথচ তারা আমাদের দেশের কথা ভাবছেনা। বিদেশে আমাদের নতুন প্রজন্মের সুস্থ মস্তিষ্ক, সৃজনশীল শিক্ষায় শিক্ষিত, স্বাধীন রাজনৈতিক চেতনা সবই তাদের মধ্যে আছে। এই নতুন প্রজন্মকে যদি বাংলাদেশমুখী না করা যায়, নতুনদের দেশ পরিচালনায় দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো না যায়, ভবিষ্যতে আমাদের এই প্রজন্ম বাংলাদেশবিমুখ হয়ে যাবে। তাই ভাবতে হবে সুশিক্ষিত বিদেশে বেড়ে উঠা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব ছেলে মেয়েকে এ ধরনের সামিটে সংযুক্ত করা অতীব জরুরী। তাতে তারা আমাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ সম্বন্ধে জানতে পারবে, বাংলাদেশে যাবার জন্য আগ্রহ সৃষ্টি হবে। আমাদের নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশে যাবার জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। অনেক ছেলে মেয়ে বাংলা ভাষা বুঝে বাংলা বলতে পারে, তারাও আমাদের সাথে সাথে টেলিভিশনের পর্দায় বাংলাদেশের রাজনীতির খবর শুনে আহত হয়, বিরক্ত হয়।
কিন্তু বাংলাদেশের হিউম্যান রাইটস লঙ্ঘন, বিরোধী রাজনীতিবীদদের হত্যা, দুর্নীতি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং সুষ্ঠ নির্বাচনের অভাবে বহিঃর্বিশ্বে বাংলাদেশের দূর্নাম, প্রবাসীদের মান-সন্মান ভুলুন্ঠিত হচ্ছে। তেমন নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশের রাজনীতি সম্বন্ধে চিন্তাভাবনায় আছে, মাঝে-মধ্যে তাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় আমাদেরকে। তিনি সরকারের সমালোচনা করে আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের কোন পরিবেশ নেই। গ্লোবাল বিজনেস কনফারেন্সে এনআরবি ওয়ার্ল্ডের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ শাহিদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে উপস্থাপন করতে আমরা ঐক্যমতে পৌঁছেছি৷ কিন্তু বাংলাদেশে সেই পরিবেশ নেই।
এই সামিটে আরো উপস্থিত ছিলেন, আল হারমাইন পারফিউম গ্রুপ এর এমডি মাহতাবুর রহমান নাসের, আল মাতিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান জুমা মাদানি, গোল্ডেন এইজ হোমকেয়ারের মালিক শাহ নেওয়াজ, এনআরবি ওয়ার্ল্ডের সেক্রেটারি আইয়ুব আলী বাবুল, বিজনেস আমেরিকার এডিটর এনামুল হক এনাম। অধিবেশনে ৩৫ দেশ থেকে প্রায় ২ শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি ও কূটনৈতিক, কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সেক্টরের শতাধিক বিনিয়োগকারী এবং সারা বিশ্বের ব্যবসায়ী সংগঠন ও তাদের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিকসহ দুবাই প্রবাসী অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আমিরাত, আগত অতিথি ব্যবসায়ীদের ও বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে আসা নতুন প্রজন্মদের কয়েকজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয় ৷ ফোবানা চেয়ারম্যান গিয়াস আহমেদ এনআরবি ওয়ার্ল্ড ও বিজনেস অ্যাওয়ার্ড পান। সম্মাননা পান ইতালি ব্যবসায়ী, সাংবাদিক দম্পতি আঁখি সীমা কাউসার এবং খলিল কাউসার শাহিনের একমাত্র কন্যা (la sapienza University) মেডিকেল স্টুডেন্ট, শাধমা কাউসার পূর্ণতাও এই অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন। সম্মেলন শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সামিটের মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষের পরে মাহতাবুর রহমান তার নিজ বাস ভবনে অতিথিদের আপ্যায়িত করেন। শেষ দিনে সমুদ্র ভ্রমণের মাধ্যমে সম্মেলনের পরিসমাপ্তি ঘটে।