বিধবা নারী কিংবা ডিভোর্সি নারী মানেই সংসারজীবনে মানিয়ে চলতে ব্যর্থ এমন নয়, লুকিয়ে আছে কঠিন সত্য। সেটা আমরা কয়জনে জানি? যে স্ত্রীটি এই কঠিন সত্যের মুখোমুখি হয়েছে সেই কেবল জানে আসল সত্যটা কি? কোন কষ্টে সে ডিভোর্স হতে চলেছে? সমাজের বিবেক আমরা কখনো জানতে চেয়েছি, মেয়েটির মনের কথা। কেন ডিভোর্স নিচ্ছে স্ত্রীটি এত বছর সংসারের পরেও? আমি মাঝে মধ্যে এটাও দেখতে পাই আমাদের সমাজে ৩০/৩২ বছর সংসার করার পরেও সেই সংসারের স্বামীটি পরকীয়াতে জড়িয়ে পরে, স্ত্রীর, অবর্তমানে অন্য নারীতে আসক্ত হয়ে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পরে, এটাও তো আমরা দেখি পত্র-পত্রিকায়। (আমি বলব না সকল ক্ষেত্রে পুরুষরা দায়ী, নারীরাও দায়ী, না হয় পরকীয়া হয় কি করে? বিবাহিত পুরুষটির সাথে যেই নারী পরকীয়া করে সেও জানে এই পুরুষটি বিবাহিত, তার সংসারে তার স্ত্রী আছে সন্তান আছে তারপরেও?)
এমনও হতে পারে, সে একজন ব্যর্থ, পরকিয়া জড়ানো পুরুষের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে, অথবা তার ব্যভিচারী, বিকৃত রুচির স্বামীর হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়েছে। তার পরকীয়া দেখতে দেখতে অসহ্য হয়ে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে দুশ্চরিত্র স্বামীর কাছ থেকে।
একজন পুরুষের চরিত্র এত খারাপ থাকার পরেও আমাদের সমাজ সেই পুরুষটির কুকীর্তির কথা ভুলে যায়। অথচ একজন মহিলা সামান্যতম দোষ, যেমন: কোন বয়ফ্রেন্ডের সাথে এক কাপ কফি খাওয়া, টেলিফোনে আলাপ করা ইত্যাদি যদি স্বামীর চোখে পড়ে তখনই মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়। প্রথমেই স্বামীর মুখ থেকে বের হয় তুমি আমার সংসার করার উপযুক্ত নয়। ব্যস শুরু হয়ে গেল তখনই কলঙ্কিত হয়ে যায় তার জীবন। একজন পুরুষ যেখানে তালাকের পরেও অবিবাহিতা কোনো নারীকে বিয়ে করতেই পারেন, অথচ সেখানে ডিভোর্সি মেয়ের জন্য অবিবাহিত পুরুষ যেন কল্পনাই করা যায় না। বাড়ির লোক অথবা প্রতিবেশী একটি বৃদ্ধ বয়সের পুরুষকে ধরিয়ে দিলেই যেন তাদের জান বাঁচে। তাদের কথা ডিভোর্সি মেয়ের বিয়ে হবে ডিভোর্সি পুরুষের সাথে, বড়জোর স্ত্রী মারা গেছেন এমন কারো সাথে, হোক না সে স্ত্রীটির থেকে ২০ গুন ৩০ গুন বয়সে বড়। মাঝে-মধ্যে দেখা যায় একটি বয়স্ক টাকাওয়ালার সাথে জোর করে মেয়েটিকে বিয়ে দেয়া হয়। তাহলে কি পেলো মেয়েটা? সব দিক দিয়ে পুরুষরা সব কিছু পায়। (একটি হাস্যকর কথা উচ্চারণ করি এখানে আমাদের হাদিসে আছে, বড় বড় মৌলবীদেরকে ওয়াজ করতে শুনি বেহেশতে নাকি পুরুষদের জন্য ৭০টি হুর আছে? তাহলে সেখানেও নারীর জন্য কিছু নেই?) আমাদের সমাজের এই নীতি ভাঙ্গতে হবে নারীদেরকেই।
সমাজ এবং মানসম্মানের ভয়ে এমন একাধিক বিধবা বা ডিভোর্সি স্ত্রী আছে এমন কারো সাথে বিয়ে দিতেও আপত্তি করেনা। মনের কষ্ট মনে চেপে রেখে মেনে নেয় সমাজ এবং আত্মীয় স্বজনের এই নিষ্ঠুরতা। সামাজিক এই নীতি, নিয়মকে মেনে নেয় তার পাশে তার থেকে ২০ বছরের বড় একজন পুরুষকে। হায়রে নিয়তি? কেন ভাই একটা মেয়ের অধিকার নেই সপ্ন দেখার? অতীতের কষ্ট ভুলে নতুন করে বাঁচার অধিকারও নেই?
আমি বলবো আছে অবশ্যই আছে, যদি নারী ভাবে না আমাকে রুখে দাঁড়াতে হবে এই নিয়ম নীতির বিরুদ্ধে আমিও নারী। আমিও মানুষ, অমিও বিয়ে করতে পারি একজন অবিবাহিত, কম বয়সী ছেলেকে। আমারও অধিকার আছে আমার কম বয়সের একটি ছেলেকে বিয়ে করার। এ অধিকার তো শুধু পুরুষদের হতে পারেনা। নারীকে বলতে হবে আমি ডিভোর্সি আমি বিধবা তাতে কি হয়েছে? আমার জীবনের দায়িত্ব আমি নেব, আমি আমার জন্য আমার ভবিষ্যৎ ঠিক করবো। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে আমাদের সমাজে বিয়ের আগে ২/৩ টা পুরুষের সাথে গভীর রিলেশানে থাকা মেয়েগুলোকে অনেকেই বিয়ে করতে পারে। কিন্তু ডিভোর্স বা বিধবা মেয়েকে বিয়ে করতে পারে না। কিন্তু কেন?
মাঝেসাজে যদিও কোন অবিবাহিত, সু-পুরুষ ভুলে ডিভোর্সি নারীকে ভালোবেসেও ফেলেন সমাজ ও পরিবারবর্গ তখন তিরস্কার করে তেড়ে আসে। বিশেষ করে মা। তখন চারপাশ থেকে একটাই প্রশ্ন ডিভোর্সি মেয়েকে বিয়ে? এটাতো অসম্ভব ব্যাপার কেন এই হিপোক্রেসি আমাদের সমাজে? আর কারো জানা আছে কিনা জানিনা। তবে আমার জানা নেই। সমাজের রীতি এই নিয়ম কিভাবে বদলাবে জানা নেই সেটাও? পরিশেষে বলবো বদলাতে হবে আমাদেরকে। বদলাতে হবে সমাজের মান্ধাতা আমলের নিয়ম-নীতিকে তার জন্য এগিয়ে আসতে হবে নারী সংগঠনগুলো এবং ডিভোর্সি বিধবা মেয়েদেরকে।
বিশেষ কথা ….
সব পুরুষ মহিলা একরকম না, আমাদের সমাজে এখনও ভালো মানুষ আছে, ভালো হাসবেন্ড ওয়াইফ জুটি আছে। যারা একে অপরের জান। একজনের মধ্যে আরেকজনের নিঃশ্বাস বাঁচে। আসুন আমরা বদলে দেই আমাদের মানসিকতাকে আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানদের কথা ভেবে।
আঁখি সীমা কাউসার
লেখক হতে পারিনি
তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি।
সব সময় সমাজের ভালো হবে সেই ধরনের বিষয়ের পক্ষ নিয়ে থাকি।
পৃথিবীর কোন ধন-দৌলত আমার ঈমানকে কিনতে পারবেনা। আমার অবস্থান সব সময় ভালোর জন্য মানুষের পক্ষে কথা বলে। এককথায় আমাকে প্রতিবাদী নারী বলতে পারেন।
নারীর জয় হোক পৃথিবীতে নারী মাথা উঁচু করে দাঁড়াক, প্রতিবাদ হোক নারীর মুখে ‘আমি নারী আমি মানুষ আমিও সব পারি।