জয়দীপ চট্টোপধ্যায়, কোলকাতা, ভারত প্রতিনিধি: চন্দ্রযান তিন এর উৎক্ষেপণে গর্বিত দেশ। বিজ্ঞান প্রযুক্তির হাত ধরে এগিয়ে চলেছে বিশ্ব। সমান্তরালে চলছে সীমাহীন দুর্নীতি, হিংসা, ক্ষমতা দখল, মনুষ্যত্বের অবমাননা। সামাজিক স্খলনের এই নগ্নতায় আমাদের চিরায়ত মূল্যবোধ, ঐতিহ্য-পরম্পরা বুঝি আজ গভীর সঙ্কটে। এই বিপন্ন দিনের প্রেক্ষাপটে ‘পোয়েট্রি ওয়ার্ল্ড ‘ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির জীবনানন্দ সভাঘরে আয়োজন করেছিল এক ‘মননশীল কবিতাসন্ধ্যা’। পরিপূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে গাছে জল সিঞ্চনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পরিবারের পঞ্চম প্রজন্ম কবি জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়। তিনি শীর্ষশিল্প কবিতা তথা যে কোনো শিল্প মাধ্যমের মুক্তচিন্তার মানুষকে এই বিপন্ন সময়ে একজোট হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘অক্ষর আমাদের অমরত্ব দিতে পারে, তাই চলমান সাধনায় ব্রতী হই যার অভিমুখ থাকবে নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষের মুক্তি ও মানবিক কল্যাণ’। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন সংস্থার প্রাণপ্রতিমা সাহিত্যপ্রেমী শ্রাবন্তী বিশ্বাস।
প্রধান অতিথি হিসেবে উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল বিশিষ্ট কবি ও স্বনামধন্য গীতিকার পরাশর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই অবক্ষয়িত সমাজে শিল্পী-সাহিত্যিকদের অগ্রণী ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি হিসেবে গৌরবোজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল বিশিষ্ট কবি ও সম্পাদক শ্রী সদ্যজাত। তিনি আধ্যাত্মিক চেতনার আকরভূমি ভারতবর্ষের সাম্প্রতিক মূল্যবোধের স্খলনে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শান্তিনিকেতন থেকে এসেছিলেন ‘এবং ভরসা’ পত্রিকার সম্পাদক, কবি ও সমাজসেবী প্রতিভা গাঙ্গুলী। তিনি তাঁর সামাজিক কাজকর্মের ও কবিতাযাপনের কথা তুলে ধরেন, পত্রিকার সংখ্যা তুলে দেন পোয়েট্রি ওয়ার্ল্ডকে। এ দিনের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঙালির ঐতিহ্য সংরক্ষক, সুবক্তা ড. পার্থসারথি মুখার্জী। তিনি এই অস্থির সময়ে মানুষকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান। বাঙালির গৌরবদীপ্ত অতীত এবং পরম্পরাকে জানার ও তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবার কথা বলেন।

কাটোয়া বর্ধমান থেকে এসেছিলেন বাচিকশিল্প-দাঁইহাট এর শিল্পীরা। পরিচালনায় ছিলেন প্রদীপ্ত রায়। অংশগ্রহণে তৃষিতা চক্রবর্তী, শ্রীপর্ণা ব্যানার্জী, রিমি পাল। কলকাতার প্রখ্যাত সংস্থা ওষ্ঠকোণ- এর নিবেদনে ছিল রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতার ওপর আধারিত সংকলন ‘শব্দ ভেজা দিনে’। অংশগ্রহণে ছিলেন সায়ন্তনী বসু, প্রসূন চট্টোপাধ্যায়, সঙ্গীতে সুপ্রতিম ঘোষ, আবহ প্রক্ষেপণ ঈশান রায় ও সমগ্র প্রযোজনাটির পরিচালনায় বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী প্রসূন চট্টোপাধ্যায়। দুটি সংস্থার অসাধারন উপস্থাপনা দর্শকনন্দিত হয়।
এছাড়া যাঁদের উজ্জ্বল উপস্থিতি ও নিবেদনে অনুষ্ঠানটি প্রাণময় হয়ে ওঠে তারা হলেন- খ্যাতিমান বাচিকশিল্পী দেবাশিস ভট্টাচার্য্য (শিলিগুড়ি), কবি পিনাকী বসু, প্রভাত চ্যাটার্জী (বাচিক), সুস্মিতা খুটিয়া (বাচিক), কবি সেনজিৎ বোস (ঋষি ), বচিকশিল্পী কুমকুম চৌধুরী, হিমাদ্রী মান্না (বাচিক), কবি সঞ্চিতা চট্টোপাধ্যায়, কবি জয়া ঘটক, কবি জিতা লাহিড়ী, দেবাশিস চক্রবর্ত্তী (বাচিক), কবি জয়দেব চক্রবর্ত্তী, অভিজিৎ গোস্বামী, সুদীপ মুখোপাধ্যায়, পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়, সুতপা দাস, শচীন হালদার, পত্রালি গুহ, রঞ্জিব চক্রবর্ত্তী (কবি ও সংগঠক), সুদক্ষিণা মুখার্জী, চন্দ্রা দাস প্রমুখ।
সূচনা সঙ্গীত পরিবেশনায় ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী জয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে নিপুণভাবে সঞ্চালনা করেন কবি শ্রাবন্তী বিশ্বাস। তাঁর কবিতাপাঠ ও সমাপ্তি ভাষণের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানটির পরিসমাপ্তি ঘটে।