হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রবিবার কানেক্ট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পরিকল্পনা পরিষদের সভা
আখি সীমা কাওছার (ইতালি) এর সভাপতিত্বে, কাজী আসাদুজ্জামান (সুইজারল্যান্ড) এর সঞ্চালনায় লাইনআ্যাপ/ ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে গ্রীনিচ মান সময় বিকাল পাঁচটায় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংগঠনের পরিকল্পনা পরিষদের সম্মতিক্রমে সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের জন্য লুৎফা হাসীন রোজী, আব্দুন নুর দুলাল ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে সংগঠনের সকল দায়িত্ব থেকে এবং পরিকল্পনা পরিষদ, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমিটি এবং সাধারণ সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয় এবং আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় এজেন্ডাসমূহ সমর্থন করে উপস্থিত সদস্যগণ মোহাম্মদ ইলিয়াস মিঞা (কানাডা), সিকদার গিয়াসউদ্দিন (আমেরিকা), ফ্রান্সের সাদী রহমতুল্লাহ (রমু), মনসুর চৌধুরী (ফ্রান্স), জাফর আজাদী (ফ্রান্স), আলম শাহ্ (ইতালি), নূরুল আমিন (ইউকে), ডা: গিয়াস উদ্দিন আহমেদ (ইউকে), হারুনুর রশিদ (জার্মানি), আবু তাহের গিয়াসুদ্দিন আহমদ খিজির (ইউকে)। সভার এজেন্ডাসমূহ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক, আলোচনা ও মতবিনিময়ের পর সর্বসম্মতিতে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়:
এজেন্ডা-১ অনুযায়ী নিম্নলিখিত সংগঠনবিরোধী কর্মকান্ডের জন্য জনাবা লুৎফা হাসীন রোজী, আব্দুন নুর দুলাল ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে দায়ী করা হয়। কারণ সমূহ নিম্নরূপ:
১) গত ২১ জুলাই ২০১৯ পরিকল্পনা পরিষদে গৃহীত একটি সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করা যা গঠনতন্ত্রের ৫.৪.৫ উপধারার সুস্পষ্ট লংঘন।
২) পরিকল্পনা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক পরিষদের সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে লুৎফা হাসীন রোজী ও আব্দুন নূর দুলাল সংগঠনের বাংলাদেশ শাখাকে ব্যবহার করে ঢাকায় আগামী ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ এ ‘কেন্দ্রীয় বিশেষ সম্মেলন’ আহ্বান করেছেন এবং মোহম্মদ আলী জিন্নাহ তা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রচার করছেন যা গঠনতন্ত্রের ৫.৪.৬ ও ৬.২.১১ উপধারার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
৩) কানেক্ট বাংলাদেশকে বিভক্ত করার জন্য সংগঠনের ভেতর উপরোল্লিখিত তিনজন সদস্য একটি উপদল তৈরী করেন (৬.২.১০ উপধারা দ্রস্টব্য)। প্রমাণ স্বরূপ আপনারা ইতিমধ্যেই অবগত হয়েছেন যে গত ২ আগস্ট ২০১৯ সালে তাঁরা CB Central Coordinating Committee নামে ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ তৈরী করে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সদস্যদের নাম সেই কমিটিতে যুক্ত করার মাধ্যমে তাঁদেরকে প্রভাবিত করে সংগঠনে বিভক্তির সূচনা করে যা সংগঠনের গঠনতন্ত্রের বিরোধী বলে প্রতীয়মান হয়।
৪) জনাব মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ‘কানেক্ট বাংলাদেশ’র ফেইসবুকের অন্য পাঁচজন এডমিনকে অপসারিত করেন এবং নিজে এককভাবে কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন-যা সংগঠন বিরোধী তৎপরতা। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং তাঁর পছন্দের কয়েকজনের লেখাসহ অননুমোদিত ঢাকা সম্মেলনের বিভিন্ন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে পরিকল্পনা পরিষদের নামে অবৈধভাবে সম্প্রচার করেছেন ও করছেন।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ‘জনজীবন’ পত্রিকায় জনাব জিন্নাহ নিজেই স্বীকার করেছেন যে, সংগঠনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই তিনি ফেইসবুক পরিচালনার জন্য একা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।যা গঠনতন্ত্রের ৬.২.১১ উপধারার সুস্পষ্ট লংঘন।
৫) জনাব আব্দুন নুর দুলাল ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় প্রতিদিন এককভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং তা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পনা পরিষদের সিদ্ধান্ত বলে প্রচার করছেন। জনাবা লুৎফা হাসীন রোজী পরিকল্পনা পরিষদের বিনা অনুমতিতে কানেক্ট বাংলাদেশ’র লোগো, ২০১৮ সালের রোম সম্মেলনের স্মরণিকার প্রচ্ছদ ব্যবহার করে পোস্টার ও প্রচারপত্র তৈরী করেছেন। জনাব মোহম্মদ আলী জিন্নাহ তা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দিচ্ছেন।
৬) বিগত ২২ আগস্ট ২০১৯ সালে উপরোক্ত তিনজন সদস্য জনাব মোহম্মদ আলী জিন্নাহ’র মাধ্যমে CB পরিকল্পনা পরিষদ ও CB Central Coordinating Committee নামে আবারও দুটি ফেইসবুক গ্রুপ তৈরী করেন। বিদ্যমান একই নামে পরিকল্পনা পরিষদের অনুমোদিত দুটি গ্রুপের বিপরীতে। এতে সংগঠনে চরম বিশৃংখলার ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এমনকি বিশ্বব্যাপী কানেক্ট বাংলাদেশ’র সমন্বয়কদের ভেতর আতংকেরও সৃষ্টি হয় । শুধু তাই নয়-বর্তমানেও তাঁরা ঐ সব অননুমোদিত গ্রুপ ব্যবহার করে বিভ্রান্তি চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, পরিকল্পনা পরিষদের ২৫ আগস্ট ২০১৯ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপরোল্লিখিত তিনজন সদস্যকে তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য (৬.২.৯ উপধারা দ্রস্টব্য) e-mail এবং তাঁদের ব্যক্তিগত ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে সাংগঠনিক পত্র প্রেরণ করা হয়।৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সালের পরিকল্পনা পরিষদের মিটিং পর্যন্ত তাঁদের কাছ থেকে কোন প্রকার জবাব না পাওয়ায়-এমনকি এই মিটিংয়েও হাজির হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন না করার কারণে গঠনতন্ত্রের ৪.৪, ৫.৪.২ ও ৬.২.৫ উপধারা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জনাব সাদী রহমতুল্লাহ (জনাব সিকদার গিয়াস উদ্দিন ও সাদী রহমতুল্লাহ’র পক্ষ থেকে)।
উপরোল্লিখিত কর্মকান্ড বিশ্লেষণ করে উপস্থিত পরিকল্পনা পরিষদের সদস্যরা বলেন যে, জনাবা লুৎফা হাসীন রোজী, আব্দুন নুর দুলাল ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পরিকল্পিতভাবে সংগঠনকে বিভক্ত করা, সংগঠন পরিচালনার যৌথ নেতৃত্বকে অবজ্ঞা করা, ব্যক্তিগত উদ্যোগে গৃহীত বিভিন্ন কর্মকান্ড সংগঠনের নামে প্রচার করা, সাংগঠনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত অমান্য করা, সংগঠন বিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনের সকল স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বিঘ্নিত করা এবং সর্বোপরি বিশ্বব্যাপী সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা ইত্যাদি সংগঠন বিরোধী কাজ করেছেন।
অতএব, পরিকল্পনা পরিষদের (গঠনতন্ত্রের ৫.১ উপধারা মোতাবেক ক্ষমতা প্রাপ্ত) উপস্থিত (৬.৩ উপধারা মোতাবেক) সকলের সুদীর্ঘ আলোচনা ও যুক্তিতর্কের পর সর্বসম্মতিক্রমে নিম্নোল্লিখিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়:
জনাবা লুৎফা হাসীন রোজী, সর্বজনাব আব্দুন নুর দুলাল ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে সংবিধানের ৪.৪, ৫.৪.২ ও ৬.২.৫ উপধারা অনুযায়ী এবং তৎসহ সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের জন্য গঠনতন্ত্রের ৬.২.১০, ৬.২.১১ এবং ৬.২.১২ উপধারা অনুযায়ী সংগঠনের সকল দায়িত্ব থেকে এবং পরিকল্পনা পরিষদ, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমিটি এবং সাধারণ সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। সিদ্ধান্তটি e-mail এবং তাঁদের ব্যক্তিগত ফেইসবুক মাধ্যমে সাংগঠনিক পত্রের মাধ্যমে দফতর কর্তৃক জানানো হবে।
এজেন্ডা: ২) অনুযায়ী অননুমোদিত ঢাকা সম্মেলন বিষয়ে বিভিন্ন দেশের কতিপয় সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের বিভ্রান্তি দুর করা এবং সংগঠনের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে ভূমিকা উপস্থাপন করেন জনাব নূরুল আমিন। বিভিন্নভাবে সকল দেশের সমন্বয়কদের সাথে যোগাযোগও আলোচনা করা এবং তাঁদেরকে প্রকৃত বিষয় অবহিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এজেন্ডা:৩) অনুযায়ী বিগত ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা ও অনুমোদন করা হয়। এ বিষয়ে ভূমিকা উপস্থাপন করেন জনাব জাফর আজাদী ও মনসুর চৌধুরী।
এজেন্ডা: ৪) অনুযায়ী Line Apps এ মিটিং করা ও নতুন একটি Facebook পেজ তৈরী ও নামকরণের বিষয়টি উপস্থাপন করেন জনাব মনসুর চৌধুরী। (জনাব মনসুর চৌধুরী ও জনাব ডাক্তার গিয়াস উদ্দিন আহমেদের পক্ষে)। Line apps কে আরও কিছুদিন পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা এবং নতুনভাবে Facebook পেজ তৈরী করার পক্ষে সবাই মত দেন। উপস্থিত সকলে নতুন ফেসবুক পেজের নাম ‘Connect Bangladesh International’ নামকরণের পক্ষে সম্মতি দিলে তা গৃহীত হয়। প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা পরিষদের বারোজনকে Administrator রাখার সিদ্ধান্ত হয় এবং এটির নিরাপত্তা রক্ষার জন্য পরিকল্পনা পরিষদের সদস্য/ সদস্যাদের প্রত্যেককে একটি অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করাবার সিদ্ধান্ত হয়। জনাব আবু আহমদ খিজিরকে অঙ্গীকারনামা প্রস্তুতির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
এজেন্ডা: ৫) অনুযায়ী বিবিধ কিছু বিষয় নিয়ে মৌখিক আলোচনা হয়। উল্লেখ্য যে বিগত ২৫ আগস্ট ২০১৯ সালের পরিকল্পনা পরিষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কানেক্ট বাংলাদেশের ‘বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’কে ২০২০ সাল পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
শেষে, দীর্ঘস্থায়ী এ সভায় গৃহীত সকল সিদ্ধান্ত পুনরায় সবাইকে জানানোর পর পরবর্তী সভায় সবাইকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়ে সভার সভাপতি সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।