প্রবাস মেলা ডেস্ক: দেড় দশক পর দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে ১৪ ঘণ্টা পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাংবাদিক আব্দুল্লাহ ইউসুফ শামীম। অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র বাংলা সংবাদপত্র ‘সুপ্রভাত সিডনি’র প্রধান সম্পাদক আব্দুল্লাহ ইউসুফ শামীম। দেড় দশক পর সিডনি থেকে চায়না এয়ারওয়েজে বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামলে ইমগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। আটকের ব্যাপারে তিনি আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে জানতে চাইলে সিআইডি পুলিশের দায়ের কারা ২০১৮ সালের মামলায় তাকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে বলে জানায়। কিন্তু অ্যারেস্টের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন শামীম। আটকের পর তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাদের সাথেও যোগাযোগ করেন। এসময় অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশন মন্ত্রী টনি বার্ক, ক্যান্টবরি ব্যাংকটাউন মেয়র বিলাল আল হ্যায়েক (Bilal El Hayke), অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিএনপি নেতা, অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, বিভিন্ন উপদেষ্টা ও সচিবদের সাথেও যোগাযোগ করেন। অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশন মন্ত্রী টনি বার্ক সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার সাথে কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া, বিভিন্ন উপদেষ্টা, বিভিন্ন সচিবদের হস্তক্ষেপে শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টায় ১৪ ঘন্টা পর সাংবাদিক শামীমকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বিমানবন্দর পুলিশ।
শামীমের ভাষ্যমতে, মামলার চার্জশীট বা আটকের স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। হয়রানির সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ দম্ভোক্তি দেখিয়ে বলেন, মাহামুদুর রহমানের মত সাংবাদিককে আটক করেছি। আপনি তো কোন..।
এছাড়া তারা জানিয়েছেন, ‘ঢাকা ত্যাগ করার সময় মামলার কাগজ দেখাতে না পারলে আপনাকে বিমানে উঠতে দেয়া হবে না।’ ‘যেখানে তারাই মামলা’র কোন কাগজপত্র দেখাতে পারছে না, সেখানে একজন সাংবাদিক কিভাবে দেখাবে এমন প্রশ্ন করলে পতিত সরকারের দোসর পুলিশ সদস্যরা কোন উত্তর দিতে পারেনি। এভাবে আটকের কোন আইনগত ভিত্তি নেই বলে আমার আইনজীবী জানিয়েছেন। এভাবে হয়রানি করলে তার দায়ভার কে নেবে সেটা আমার প্রশ্ন।’
আব্দুল্লাহ ইউসুফ শামীম অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী সাংবাদিকদের অনুরোধ করে বলেন- ‘আপনারা যারা ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের পদত্যাগ বা অপসরণের দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন, মিছিল মিটিংসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তারা দেশে আসার আগে অবশ্যেই আইনশৃংখলা বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করে আপনার বিরুদ্ধে ফ্যাসিষ্ট হাসিনা কোন মামলা দিয়েছে কিনা, নিশ্চিত হয়ে আসবেন। নতুবা আমার মত পুলিশী হয়রানি শিকার হতে হবে।’