রানা সাত্তার,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: আনোয়ারার গহিরা উপকূলীয় এলাকাসহ চট্টগ্রামের জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। ইলিশের বড় বাজার নামে পরিচিত চট্টগ্রামের মাছঘাটগুলিতে বেড়েছে ইলিশের আমদানি। মাছঘাটগুলোতে ৬০০-১০০০ টাকা কেজি দরে ইলিশ মাছ বিক্রি হতে দেখা গেছে।আবার ঝাটকা বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২০০টাকা কেজি ধরে।আবার অধিকাংশ মাছেই রয়েছে পেটে ডিম।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার বাজারে ইলিশ এসেছে প্রায় এক হাজার মণ।চট্টগ্রামের আশেপাশে উপকুলীয় এলাকায় জেলেরা গহিরা,পারকি,কাটগড়,সাগরিকা, ফিশারী ঘাট,কুমিরা ঘাটে চট্টগ্রামের বহু জেলে মাছ বিক্রি করে থাকেন।এদের মধ্যে জাটকা জেলে বা নদীর ওপর নির্ভরশীলদের মধ্যে রয়েছেন বেশ সংখ্যক জেলে। সরেজমিন কয়েকটি ঘাট ঘুরে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে এ তথ্য।
সাগরিকা ঘাটের এক মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, ভারতে মাছ রফতানির অনুমতি দেওয়ায় ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের কয়েকটি মাছঘাট থেকে ঢাকার ব্যবসায়ীরা মাছ কেনা শুরু করেছেন। সে কারণে মাছের দাম তুলনামূলক এখনো বেশি।তবে কয়েকদিনের মধ্য আরো একটু দর কমে আসতে পারে।
বাজারে বর্তমানে ৪০০-৭০০ গ্রামের উপকূলীয় ইলিশ প্রতি মণ ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা (সর্বোচ্চ ৫৭০ টাকা কেজি), ৭০০-৮০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি মণ ২৫ হাজার থেকে ৩০-৩২ হাজার টাকায় (সর্বোচ্চ ৮৫০ টাকা কেজি) এবং এক কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ৪০ হাজার থেকে ৪২ হাজার টাকা (সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা কেজি) বিক্রি হচ্ছে।

সাগরিকা মাছ বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, গত বছর একই সময়ে এক কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে। তবে এবার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে ৩৪০-৪৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশের প্রতি কেজি ৬০০ টাকা, ৬০০-৭০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ৯০০ টাকা, ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১০০০ টাকা এবং এক কেজির ওপরের ইলিশ প্রতি কেজি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মেরিন ফিশারীজ একাডেমীর সিনিয়র নাবিক মোহাম্মদ নাহিদ বলেন, মাসের হয়তো ২০ দিন বাজারে ইলিশ কম এসেছে, কিন্তু মাসের বাকি ছয় দিনে যে পরিমাণ ইলিশ আসবে তা পুরো মাসের চাহিদা পূরণ করবে। ইলিশের ক্ষেত্রে এমনটিই হয়। কাজেই হতাশ হওয়ার কিছু নেই।এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। তাই প্রচুর ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। পুরো অক্টোবর এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করি।