আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ দূতাবাস, রোম Embassy Adoption Programme (EAP) এর প্রথম ধাপ ‘Meet the School’ এর অংশ হিসেবে ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ সারদিনিয়ার ম্যাকোমার শহরের লিচিও গ্যালেলিও গ্যালেলেই (Liceo Galileo Galilei School) বিদ্যালয়ে একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়। যদিও Global Action নামক একটি ইতালীয় সংস্থার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ২০২১ সাল থেকে এই Diplomacy Education Programme এ অংশগ্রহণ করে আসছে। এই প্রথমবারের মতো রোম বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ স্বশরীরে অংশগ্রহণ করেন এবং রোমের বাহিরে সারদেনিয়ার (Sardegna) একটি বিদ্যালয় নির্বাচন করে।
প্রথমেই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশনায় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তাদেরই পরিবেশনায় দুই দেশের জাতীয় পতাকা, বর্ণমালা, মোটিফ বা ভাবধারায় সুসজ্জিত ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে। রোম বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান তার মূল্যবান বক্তব্যের শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি চলমান বাংলাদেশ ও ইতালির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দূতাবাস কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচীর কথাও উল্লেখ করেন। এরপর, দূতাবাসের প্রথম সচিব মিস আয়েশা আক্তার একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশকে তুলে ধরেন।

এরপর, রাষ্ট্রদূত তরুণ ও উৎসুক ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সফলতার গল্প তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান ছাত্র-ছাত্রীদের বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন শোনেন এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে আগ্রহ দেখে অভিভূত হন। তিনি বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মিস গাভিনা কাপাই (Gavina Cappai) এবং Global Action এর Project Coordinator মিস এলিসা গুইসিও (Elisa Ghuisio) কে অনুষ্ঠান সমন্বয়ের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ম্যাকোমারের শহরের প্রিফেক্ট জনাব জিয়ানকারলো দিওনিসি (Giancarlo Dionisi) এবং মেয়র ড. এন্তোনিও অনোরাতো সুকু (Dott. Antonio Onorato Succu) উভয়েই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে আরও বলেন, বাংলাদেশ দুতাবাসকে ইতালির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশকে তুলে ধরার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। তারা মনে করেন উক্ত কর্মসূচীর মাধ্যমে দুই দেশের বোঝাপড়া এবং বন্ধুত্ব আরো প্রখর হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের বিশাল অডিটোরিয়ামে অসংখ্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের উপর নির্মিত এই প্রেজেন্টেশনটি উপস্থিত উৎসুক শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগায় এবং তারা ব্যাপক করতালির মাধ্যমে তা প্রকাশ করে। ইতালির জনসাধারণের মাঝে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবধারা ফুটিয়ে তুলতে দূতাবাসের আয়োজিত জনকূটনীতি প্রকল্পের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়েছে। ইতোপূর্বে কোভিড মহামারির সময়ে বাংলাদেশ দূতাবাস Embassy Adoption Programme (EAP) এর অংশ হিসেবে দুইবার ইতালির রোমের দুইটি বিদ্যালয় ডিজিটাল মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেছে।

প্রবাস মেলা’র এই প্রতিনিধি টেলিফোনে ইতালির রোম বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসানের সাথে বাংলাদেশকে নিয়ে এই প্রেজেন্টেশনের ব্যাপারে ইতালির ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে যে মেলবন্ধন হয়েছে, এবং ইতালিতে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের সাথে এধরনের কোন প্রোগ্রাম ভবিষ্যতে করবে কিনা? সে ব্যাপারে জানতে চাইলে তার উত্তরে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা চিন্তা করছি আগামীতে এ ধরনের আরও বেশি বেশি প্রোগ্রাম করার চেষ্টা করবো।
উল্লেখ্য, প্রবাস মেলা’র প্রতিনিধির অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, ইতালিতে স্কুল ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া এবং এদেশে বেড়ে ওঠা ছেলে মেয়েরা অনেক ভালো রেজাল্ট করছে এবং ইউনিভার্সিটি’র টপ ডিগ্রি নিয়ে তারা ভালো ভালো সেক্টরে জব করছে। তিনি দূতাবাসের সাথে আলোচনা করে প্রস্তাব রাখেন যে, ইতালিতে বেড়ে ওঠা আমাদের ছেলেমেয়েদের সাথে যেন বাংলাদেশের সম্বন্ধে ওদের সাথে ডিসকাস করে যারা এখানে বিভিন্ন সেক্টরে গ্রাজুয়েশন নিয়ে বের হচ্ছে। বাংলাদেশ নিয়ে তাদের চিন্তা ধারা কি, বাংলাদেশকে তারা কতটুকু ভালবাসে, বাংলাদেশ নিয়ে তাদের পরিকল্পনার নানান দিক নিয়ে যদি তাদের সাথে আলোচনা করা হয় বা বাংলাদেশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর সাথেও ডিজিটাল প্লাটফর্মে আলোচনা করে তাহলে বাংলাদেশ সম্বন্ধে তাদের যেটুকু ভুল ধারণা রয়েছে সেগুলো অনেকটুকুই মুছে যাবে। তাদেরকে যদি বাংলাদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন সেক্টরে কাজে লাগানো যায় তাহলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। তার অনুসন্ধানে আরও ওঠে আসে, অভিভাবকরাও ইতালিতে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের নিয়ে দূতাবাস কর্তৃক এ ধরনের প্রোগ্রামের আয়োজন করার অনুরোধ জানান।