আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধি: ইতালিতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কোনো প্রকার এপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই রি-এন্ট্রি ভিসার আবেদন জমা নেয়া শুরু করেছে ঢাকাস্থ ইতালীয় দূতাবাস। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, রবিবার থেকে তাদের একমাত্র অফিসিয়াল এজেন্সি ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে আবেদন জমা নেয়া হচ্ছে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, কোনো দালালের মাধ্যমে নয়, রি-এন্ট্রি ভিসা জমা দিতে হবে নিজেকেই, অর্থাৎ যার ভিসা লাগবে তাকে স্ব-শরীরে গিয়ে ঢাকাস্থ ভিএফএসের ওয়েবসাইটে নির্ধারিত ফি দিয়ে।
করোনাকালে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে, এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়, যে ইতালি প্রবাসী যারা বাংলাদেশে এখন আটকা পড়েছেন, মূলত যখন থেকে চাটার ফ্লাইট চালু হয়েছে এবং ইতালির গভারমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী কোয়ারেন্টাইনে না থাকার কারণে করোনাভাইরাস বাংলাদেশিদের মাধ্যমে ইতালিতে ছড়িয়ে যাওয়ায়, নতুন নিয়ম করেছিল যে, বাংলাদেশের কোন ফ্লাইট ইতালিতে আসবে না এবং ইতালি থেকে বাংলাদেশের ফ্লাইট যাবেনা । আজকে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী নিজ দেশে আটকা পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে, তাদের চাকরি হারাচ্ছে, সৌজন্যের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে ,পাসপোর্ট রিনিউ করতে হবে ইত্যাদি সমস্যাগুলো এগুলোর দায়ভার নিতে হবে যারা চাটার ফ্লাইট শুরু করেছিল ইতালিতে।
এটার দায়ভার ইতালি দূতাবাসও এড়াতে পারে না । যেহেতু দূতাবাসের সহযোগিতা ছিল চার্টার ফ্লাইট ইতালিতে চালু হওয়ার জন্য। ভুক্তভোগীদের মতে, তাদেরকেই জবাবদিহি করতে হবে, কেন তারা ইতালির সরকারের নিয়ম না মেনে চারটার ফ্লাইট ইতালিতে নিয়ে এসেছিল? এখন ইতালি সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আটকেপড়া প্রবাসীদের, যাদের ইতালিয়ান স্টে-পারমিট (পেরমেসসো দি সোজ্জর্নো) মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের ইতালি ফিরতে বাধ্যতামূলক রি-এন্ট্রি ভিসা প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস তথা চেকলিস্ট থেকে যেকোনো বিষয়ে ছাড় দেয়া কিংবা চেকলিস্টের বাইরে যেকোনো বাড়তি ডকুমেন্টস চাওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে ইতালীয় দূতাবাস।
নিয়ম অনুযায়ী প্রসঙ্গত, ইতালির পুলিশ অফিস (কস্তূরা) থেকে ক্লিয়ারেন্স পেতে বিলম্ব না হলে, প্রচলিত নিয়মে রি-এন্ট্রি ভিসা ২১ দিনে ইস্যু হয়ে থাকে। ইতালির যেসব প্রবাসীর রি-এন্ট্রি ভিসা দরকার তাদের আবেদনের আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।
তাই যারা ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশে আটকা পড়েছেন, তারা বাংলাদেশ ভিএফএসের অফিসে সরাসরি গিয়ে খোঁজখবর নিতে পারেন।