আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধি: ইতালিয়ান সহ ইতালিতে বসবাসকারী সকলের কাছে মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিতি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে। তিনি সকলের কাছে একজন মানবিক সু-পুরুষ হিসেবে পরিচিত। তার দুরন্ত মেধা, দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা এনে দিয়েছে এই জনপ্রিয়তা।
গত বছর শেষের দিকে ‘চীনের উহানে’ শুরু হওয়া করোনা ভাইরাস সারা পৃথিবীতে দাবিয়ে বেড়াচ্ছে এখনও। দ্বিতীয় ধাপে শুরু হওয়া কোভিড- ১৯, যাকে আমরা এক নামে করোনা হিসেবেই চিনি, যার নিষ্ঠুরতায় অনেক প্রাণ অকালে ঝরে গেছে। ইতিমধ্যে কয়টি দেশ করোনার ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে পুশ করছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে ২১ ডিসেম্বর ২০২০, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে এক জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে জনগণের ভালোর জন্য এবং করোনা পরিস্থিতিকে আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ করবার জন্য জরুরী অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আগামী ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার থেকে ইতালির সবকটি শহরে কারফিউ জারি থাকবে। অর্থাৎ কেউ কোন শহরে ঘোরাঘুরি করতে পারবেনা। মোটকথা যার যার শহর থেকে বের হওয়া যাবেনা, জরুরী প্রয়োজনে যদিওবা বের হতে হয় সে ক্ষেত্রে যার যার মিউনিসিপ্যাল অফিসের ওয়েবসাইটে দেয়া ফরম ফিলাপ করেই বের হতে হবে। তাও একজনের বেশি নয়। কারো বাসায় মেহমান এলাও করা নিষেধ আছে। বাহিরে খাবারের দোকান এবং ওষুধের দোকান ব্যতীত সব দোকানপাট রেস্টুরেন্ট বার, ডিসকোবার বন্ধ থাকবে। ২৪ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ৬ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত এই জরুরি অবস্থা চালু থাকবে।
ইতালির সাথে প্রায় সবকটি দেশের প্লেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে লন্ডন এবং ইতালির সাথে ২০ ডিসেম্বরে এক জরুরী বার্তায় সমস্ত ফ্লাইট ক্যানসেল করা হয়। যে ফ্লাইটগুলো ইতালি টু লন্ডন ছিল। এতে অনেক যাত্রী অসুবিধায় পড়ে। কারও কারও লন্ডনে যাওয়া খুবই জরুরী ছিল বলে জানা গেছে। যেহেতু লন্ডন ব্রেক্সিট ইস্যুতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেছে। ইউরোপে বসবাসরত লাল পাসপোর্টধারীদের লন্ডনে বসবাস করবার জন্য সমান সুবিধা ছিল, যা ব্রেক্সিট পাস হবার পর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শেষ সময় ছিল। যেহেতু লন্ডনের করোনার পরিস্থিতি ভয়াবহ এবং নতুন আরেকটি ভাইরাস ধরা পড়েছে, যা কিনা করোনা থেকেও শক্তিশালী। ইতালির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বরাত দিয়ে জানা গেছে লন্ডন থেকে আসা যাত্রীর মাধ্যমে ইতালিতেও পাওয়া গেছে ওই শক্তিশালী করোনা ভাইরাস এর নমুনা। যার কারণে ইতালির সরকার আরো কঠোর নিয়ম জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে দেশের জনসাধারণের সুবিধার কথা ভেবে, সুস্থ থাকার কথা ভেবে, জনগণকে ভালো স্বাস্থ্য সেবার আওতায় রাখার জন্য এই কঠোর নিয়ম কানুন জারি করেছেন। ইতালির সরকারের কঠোর এই নিয়ম কানুন জারি সাধারণ জনগণ সাধুবাদ জানিয়েছে। জনগণ বুঝতে পেরেছে সরকারি এই নিয়ম-কানুনগুলো যদি সবাই মিলে পালন করে, তাহলে অচিরেই করোনার হাত থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাবে ইতালির জনগণ।

অবশেষে সব জল্পনা কল্পনার পরিশেষে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পার্লামেন্টের সব মেম্বারগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন, সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মোকাবেলা করবে। ইউরোপের সবগুলো দেশেই সবচাইতে করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবে ক্ষতি বেশি। মৃত্যুর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন মনে করে ইউরোপের দেশগুলোতে অনেক দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক বড় রকমের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। করোনা কবে নাগাদ শেষ হয় তার কোন ঠিক নেই। সামনে আরও বড় বিপর্যয় ঘটবে অর্থনীতিতে। তাই সকলকে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
এসব দিকগুলো চিন্তা করে জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে ইউরোপের সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা করোনা প্রশ্নে একাত্মতা ঘোষণা করে। ইতালির সরকার মনে করে একটি আশার আলো হলো, কয়েকটি দেশ করোনার টিকা পেয়ে গেছে এবং তাদের দেশের জনগণকে প্রাধান্য ভিত্তিতে পুশ করা শুরু করেছে সেসব দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ। ইউরোপের দেশগুলোতে খুব শীঘ্রই করোনার ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হবে। জানা গেছে ইউরোপের মধ্যে সর্বপ্রথম ফাইজার কোম্পানির ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগ করবে। সাধারণ জনগণ অপেক্ষায় দিনক্ষণ গুনছে কখন শুরু হবে করোনার ভ্যাকসিন। ইতালি জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে ভিডিও কনফারেন্সে ইউরোপ পার্লামেন্ট মেম্বারদের সাথে গতকাল কথা বলে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেন। কখন নাগাদ ইতালিতে করোনা নির্মূলে ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হবে- এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ প্রথম ভ্যাকসিন দেয়ার কার্যক্রম শুরু করবে ইতালির স্বাস্থ্য বিভাগ। এই ভ্যাকসিন কারা কারা পাবেন এমন একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যারা জরুরী চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত তাদের এবং বয়স্কদের প্রাধান্য দেয়া হবে।