আখি সীমা কাওসার, রোম ইতালি প্রতিনিধি:
এক সময় ইতালিয়ানরা বাংলাদেশিদেরকে সুনজরে দেখতো। ছোট অপ্রাসঙ্গিক কিছু ঘটনা ছাড়া ইতালিতে বাংলাদেশিদের অনেক সুনাম ছিল। ডিপার্টমেন্টাল ব্যবসা, ছোট ছোট গার্মেন্টস, ফোন সেন্টার সহ অন্যান্য ব্যবসা কৃষি কাজে বাংলাদেশের অনেক সুনাম ছিল, পরিশ্রমী এবং নিরীহ জাতি হিসেবে সুপরিচিত ছিলো বাংলাদেশিরা ইতালিতে । কিন্তু অত্যান্ত দুঃখজনক হলেও চরম সত্য হলো আজ বাংলাদেশী মানেই হত্যা, ধর্ষণ, দূর্নীতি, চোরাকারবারী ইয়াবা, মাদক এবং নিকৃষ্ট মানের জাতি নামে পরিচিত ইতালিতে। যা বাংলাদেশি হিসেবে অনেকেই লজ্জাবোধ করছে। পাড়া-প্রতিবেশী তাহলে বন্ধুদের কাছে নিজেদেরকে অনেক অপরাধী বোধ করছে শুধুমাত্র কিছু সংখ্যক মানুষের জন্য।
গত দুই মাস থেকে ইতালিয়ান মিডিয়ার হেডলাইন দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশিরা। যার কারণে ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা বিপাকে পড়েছে, অনেকে চাকরি ক্ষেত্রে নানান রকম কথা শুনছে। ছেলেদের কাছ থেকে অবহেলার শিকার হচ্ছে সর্বক্ষেত্রে। এটি অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম নষ্ট হওয়ার পথে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের । করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে তুমুল কান্ড ঘটতে না ঘটতেই আবারও হত্যাকান্ডের খবর ইতালিয়ান মিডিয়াতে। গত ১৮ জুলাই শনিবার রাতে ইতালির বাণিজ্যিক রাজধানী মিলানের একটি পার্কে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন রশিদ হাওলাদার (৪৪) নামে এক বাংলাদেশি। তাঁর বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। খুনী ছয় বাংলাদেশিকে ধরতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। চারজন খুনি ধরা পড়লেও দুজন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। খবর নিয়ে জানা গেছে খুব শীঘ্রই বাকি দুজনও ধরা পড়বে ।

উক্ত ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মিলান মহানগরের প্রাণকেন্দ্রে স্তাদেরা এলাকায় মন্তেগানি রোডে পৌর বাজারের সামনে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২০ মিনিটে ট্রাজেডির সূত্রপাত। বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে ৬ জন বাংলাদেশির একটি সংঘবদ্ধ দল হাতুড়ি ও চেইন দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করে রশিদ হাওলাদারকে। পুলিশের প্রথম গাড়ি এবং এম্বুলেন্স আসার আগেই খুনিরা দ্রুত পালিয়ে যায় ঘটনাস্থল থেকে। স্থানীয় San paolo হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই কর্তব্যরত ডাক্তার রশিদ হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরপর ঘটনাগুলো ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।