আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধি: ইতালির বিভিন্ন শহরের প্রায় সময় খুন-হত্যার কথা শোনা যায়, যার মধ্যে বাংলাদেশিরা অন্যতম। ইতালির রোমসহ, বিভিন্ন প্রভিন্সে মাঝেমধ্যে বাংলাদেশিদের খুন হওয়ার ঘটনা শোনা যায় গতকালও ইতালিতে বাংলাদেশি যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের বিভিন্ন মিডিয়ার বরাতে জানানো হয়েছে যে, মোহাম্মদ ইব্রাহিম (২৫) নামের একজন বাংলাদেশি যুবক ইতালির তোরিনো (Torino) শহরে তার নিজ বাসায় গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৮ জুন ২০২১, মঙ্গলবার রাতে তোরিনোর (Torino) করসো ফ্রান্সিয়া (Corcio Francia) রোডে একটি ভবনের তৃতীয় তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানাগেছে তোরিনো শহরের একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন ইব্রাহিম। তার বাড়ি বাংলাদেশের কোন জেলায় তা এখনো জানা যায়নি। নিহতের রুমমেটের বরাত দিয়ে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ইব্রাহিমের এক রুমমেট কাজ শেষে বাসায় ফিরে মেঝেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে ইব্রাহিমের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার দিন বাসায় কেউ ছিল না। তার রুমমেটরা সবাই কাজে চলে যান। ওই দিন ইব্রাহিমের ছুটি ছিল। এই ফাঁকে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা পুলিশের।
পুলিশ আরও ধারণা করছে, ডাকাতির উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটার পর এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনার তদন্তের সমন্বয় করেছেন প্রসিকিউটর ভালেনতিনা সেলারো।
উল্লেখ থাকে যে, ২০১৯ ডিসেম্বরে উহান থেকে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবে প্রায় দুই বছরের বেশি হতে চলেছে। এ পর্যন্ত পৃথিবীর অনেক দেশেই অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে চাকরি হারিয়েছেন এখন লাখো মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে হাজার হাজার ফ্যামিলি। তার ব্যতিক্রম ইতালিতেও নয়।
একদিক দিয়ে ইতালিতে প্রতিদিন এই অবৈধ অভিবাসীদের আগমনের ঢল, ইতালিতে বিভিন্ন দেশের বর্ডার দিয়ে নৌপথে অবৈধদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াতে, চাকরির বাজার খুব মন্দা। মিল কারখানা ইন্ডাস্ট্রি, বার, রেস্টুরেন্ট, সিনেমা হল ইত্যাদি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান দু’বছর যাবৎ বন্ধ। বেকার হয়ে পড়েছে লাখো শ্রমিক। তাই হরহামেশাই খুন, রাহাজানি, ছিনতাই, লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। প্রায় প্রতিদিনই নিউজ প্রতিবেদনে জানা যায় যে, বিভিন্ন দোকানপাটে বড় ধরনের চুরি-ডাকাতি হরহামেশাই ঘঠছে। কোথাও কোথাও ব্যাংকের বুথ পর্যন্ত তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা, গাড়ি চুরির ঘটনাতো দিন দিন বাড়ছে। এমত অবস্থায় ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছেন এসব অপরাধ দমনে ।