লাতিকা দত্ত গোস্বামী, লস অ্যাঞ্জেলেস, যুক্তরাষ্ট্র থেকে: দশভুজা দেবী দুর্গা। স্বর্গের দেবতাদের সৃষ্ট দশ হাত বিশিষ্ট নারী। প্রতিটি হস্ত রণক্ষেত্রে শত্রু নিধনের অস্ত্রে সজ্জিত। অস্ত্রের কৌশলে অসুরকুলকে পরাহত করে মানবজীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। দেবী দুর্গা অস্ত্র প্রয়োগে শুধু অসুরই পরাস্ত করেননি, সংসার জ্ঞ্যানে অপরিপক্ক তাঁর স্বামী মহাদেব যখন নিজের স্তুতি শুনে মুগ্ধ হয়ে অসুরকুলকে চিরজীবী হওয়ার আশীর্বাদ দিয়েছিলেন তখন পতিব্রতা নারীর মতো অন্ধ সমর্থক না হয়ে তাঁকে তিরস্কার করতেও কুণ্ঠিত হননি।
জগত-সংসার রক্ষায়, ন্যায় আর সুন্দরের প্রতিষ্ঠায়, কোমল আর কঠিনের সংমিশ্রণে দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল বহুকাল আগে। সেটা হিন্দু ধর্ম থেকে পাওয়া। প্রতি বছর শরতের এক বিশেষ দিনে মাটির তৈরি সেই দেবীর প্রতীকীকে আবাহন করা হয় মানবকণ্ঠ নির্গত সুরেলা কথার পঙক্তিতে, যাকে আমরা বলি মহালয়া।
মহালয়ার ১৫ দিন পর মন্ত্র পাঠে মাটির মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে দেবী বন্দনা চলে চারদিন। ৫ম দিনে মন্ত্র শেষে দেবী বিসর্জন।
প্রতি বছরই এমনটি ঘটে। গ্রীষ্মের তীব্রতা শেষে, বর্ষার উত্তাল নদীর উন্মাত্ততাও যখন অনেকটা স্থির হয়ে যায়, ঠিক সেই সময়টায় বইতে থাকে ঝিরঝির বাতাস আর চোখে পড়ে লালচে, কমলা রঙের সরু বোঁটায় বিকশিত শিউলি ফুলের ছোট ছোট সাদা পাঁপড়ি। মনে কেমন একটা উৎসবের দোলা লাগে, শারদীয় দুর্গোৎসব!
নতুন জামাকাপড়, হরেক রকমের খাওয়া-দাওয়া, আত্মীয়-বন্ধুর সঙ্গে মিলন, গল্প-গুজব, গান-বাজনা, পূজাম-পে আরতি, নারকোলের নাড়ুর প্রসাদ, সব কিছু মিলিয়ে হই-হই রই রই। আনন্দের এই সুরটাই হঠাৎ করে ক্ষনিকের তরে কেমন যেন করুণ হয়ে মনে বাজতে থাকে। অনেক প্রিয়জন, বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে যারা আগলে রাখতেন তাদের অনেকেই আমাদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। হারিয়ে যাওয়া সেই মুখগুলো একটু যেন আনমনা করে ফেলে।

খুব ছোট বেলায়, ছোট্ট শহর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পারে আমাদের বাসা ছিল। রোজ দুপুরে একা একা নদীর পারে যেতাম প্রতিমা গড়া দেখতে, দেবীর প্রতিটি অঙ্গ থেকে আরম্ভ করে চক্ষু স্থাপন প্রত্যক্ষ করার জন্য। রঙতুলির ছোঁয়ায় অপরূপ দেবীজ্যোতি বিচ্ছুরণে উদ্ভাসিত আমার মন তখন আনন্দে পুলকিত হত! পুজার সাতদিন আগে ভোর রাতে বাবার ডাকে ঘুম ভাঙ্গা কানে ভেসে আসত বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের হৃদয় স্পর্শ করা মহালয়া!
শীতলক্ষ্যার অপর পাড়ের এক গ্রাম থেকে আমার ঠাকুমা, দাদু আর আমার এক খুড়তুতো বোনের আগমন হত অষ্টমী তিথিতে। প্রতিবারই আমার বাবা তাঁর বাবা মাকে নতুন বস্ত্র আর মিষ্টি খাইয়ে এবং প্রণাম জানিয়ে আমাদের ভাই বোনদের জন্য পূজার আনন্দেও উদ্বোধন করতেন। তারপর চলত আমাদের নতুন জামা কাপড় পরে দেবী মন্দির পরিদর্শন, হইহুল্লোড় এবং সেটা চলত নবমী পূজা পর্যন্ত। আমার দাদু এবং ঠাকুমা কয়েক ঘণ্টা আমাদের সঙ্গে থেকে অষ্টমী পূজার দিনই নিজ বাড়িতে ফিরে যেতেন দেবী বন্দনার জন্য।
একবারের কথা আমার খুব মনে পড়ে- অনেক কাকুতি মিনতি করেও যখন ব্যর্থ হয়েছিলাম ঠাকুমা আর দাদুকে আমাদের বাড়িতে ধরে রাখতে, তখন তাঁদের পিছু নিয়েছিলাম নদীর ঘাট পর্যন্ত। তারপর ওঁরা নৌকোতে ওঠার পরই এপারে দাঁড়িয়ে থাকা আমার কান্নাকাটি শুরু হয়ে গেলো আর ঠাকুমা হাতের ইঙ্গিতে, মুখের নির্দেশে আমায় বাসায় ফিরে আসার তাগিদ দিতে থাকলেন।
মাঝি যখন নৌকো বেয়ে একটু দূরে গেল তখন আমার কান্নার জোরও বাড়তে থাকলো। মনে হল এ কান্নার জোরে নৌকো বাঁক নিয়ে আমার দিকে চলে আসবে। কিন্তু তা হয়নি!
মানুষগুলোকে যখন আর ঠাহর করতে পারছিলাম না তখন চোখ মুছে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম ভগ্ন হৃদয়ে!
তারপর সব ভুলে যথারীতি আনন্দেই অষ্টমীর রাত আর নবমীর দিন কেটে গেল। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখলাম আমার ঠাকুমা আমার খুড়তুতো দিদিকে নিয়ে আমাদের বাড়ি এসে হাজির। আমাকে দেখে বললেন, ‘তুই এত কাঁদলি, বাড়িতে গিয়া আর শান্তি পাই নাই তাই আইসা পড়ছি। ‘আমার যে কী আনন্দ হল ওদের দেখে! তারপর একটু বেলা গড়াতেই মায়ের হাতে গড়া নারকেলের নারু, অমৃতি আর লাড্ডু খেয়ে ছাদে উঠে প্রতিমা বিসর্জনের আরতি দেখা। সে এক অপূর্ব অনুভূতির স্মৃতি!
১৯৬৪-র পর সে আনন্দে ছেদ পড়েছে। বাংলাদেশে (তখন পূর্ব পাকিস্তান) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ভস্মিভুত আস্তানা, জমিজমা রেখে পরদেশে (ভারত) নতুন আবাস গড়তে পাড়ি জমাল আমার প্রিয় ঠাকুমা, দাদু, কাকা-কাকি আর আমার খুড়তুতো-দিদি। শুধু আমার মা-বাবা ভাইবোন ছাড়া বাকি আত্মীয় স্বজন, যারাই গ্রাম বা মফস্বল শহরের বাসিন্দা সবাই দেশ-ছাড়া হয়ে গেল।
বহুদিন আমার স্বল্প পরিচিত পৃথিবীতে ছোটবেলার প্রিয় মানুষ হারানোর বেদনায় গুমরে গুমরে কেঁদেছি। পূজার দিনে সে বেদনা খুব বড় হয়ে বাজত। তারপর স্কুল-কলেজের বন্ধুরা এবং প্রতিবেশীরা খালি হয়ে যাওয়া হৃদয়ের স্থানগুলো ভরে দিয়েছে। পূজা মানে তখন আমার কাছে শুধু সাজগোজের ব্যাপার ছিল না। পূজা মানেই বন্ধুদের বাড়িতে আনাগোনা আর গপ্প এবং বন্ধুদের আমার বাড়িতে সময় কাটানো আর রাতভর গপ্প।
ছোট বেলার শেকড় ছিঁড়ে এই দেশে শেকড় গেড়েছি তিন যুগেরও আগে। এদেশে আসার প্রথম দিকে আপনজন বলতে নিজের পরিবার ছাড়া রক্তের সম্পর্কের কেউ ছিল না। সেই সময় স্কাইপিতে মুখ দেখার ভাবনা ছিল আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো অকল্পনীয়। ফোনে কথা বলতেই বুকিং দিয়ে সাতদিন পর লাইন পাওয়া যেত। শুধু ছিল চিঠির প্রত্যাশায় দিন গোনা। মনে হত কত স্বার্থপর হলে মানুষ নিজের দেশ, আর অতি কাছের মানুষগুলোকে ছেড়ে অন্য একটি দেশে শিকড় গেড়ে বসতে পারে!
পূজার সময় যেন দেশ ছেড়ে আসার পুরনো ঘায়ে একটা নতুন খোঁচা পড়ত। শিউলি ফুল নেই, ভোর রাতে বাতাসে ভেসে আসা দেবী আবাহনের স্তুতি নেই, জমজমাট করে ঢাক বাজে না, পূজা ম-পে ধুনুচি নাচ নেই, বিজয়ার আরতি নেই।
সবচেয়ে বড় কথা নতুন পোষাকে আপনজনেরা নেই। এদেশে প্রথম প্রথম পূজার উৎসবে গিয়ে পেয়েছি অনেক অচেনা মুখ, বছরের পর বছর দেখতে দেখতে সেই অচেনা মুখই হয়ে গেছে বড় চেনা তারপর তারাই হয়েছে বন্ধু। প্রত্যেকবারেই তাদেরকে দেখা এবং সময় কাটানোর জন্য থাকে তীব্র প্রতীক্ষা।
প্রথমদিকে বোস্টনে ছিলাম তারপর সানফ্রানসিসকো। দু-জায়গায়ই দুর্গা পূজায় হয়েছে খাওয়া দাওয়া আর স্থানীয়দের কল্যাণে কয়েক ঘণ্টার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তারপর সাত/আট বছর ছিলাম লাস ভেগাস। আমাদের নিয়ে তিন ঘর বাঙালি তখন লাসভেগাসে।
আড়ম্বরে দুর্গা পূজার কথা ভাবাই যেত না। লাস ভেগাস ছেড়ে চলে এসেছি লস অ্যাঞ্জেলেস কুড়ি বছর আগে। এই কুড়ি বছরে লাস ভেগাস এর তিন ঘর বাঙালি বেড়ে হয়েছে তিরিশ ঘর।
ধুমধাম করে এখন দুর্গা পূজা হয় সেখানে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের যেখানে থাকছি আমি কুড়ি বছর ধরে সেখানে বাংলাদেশি এবং ভারতীয়দের পূজা চলে সমান তালে। তবে প্রথম দিকে শুধু ভারতীয় বাঙালিদের পূজাই ছিল। গত বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশিরাও ভিন্নভাবে এই পূজার আয়োজন আরম্ভ করেছেন। এখন ‘দক্ষিণী বেঙ্গলি’ নামে কোলকাতার বাঙালিদের পূজায় যেমন যাই তেমনি বাংলাদেশের ‘সনাতন বেঙ্গলি’ আয়োজিত পূজাতেও যাই।
এখানে দুর্গা পূজা হয় কোনও স্কুল বা কমিউনিটি সেন্টারে। শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত দেবীবন্দনা তারপর সিঁদুর খেলা শেষে দেবীবিদায়। দক্ষিণী’তে প্রথম দিকে পূজার আকর্ষণ ছিল খাওয়া-দাওয়া। এখন পূজা পর্বের আরো আকর্ষণ স্বনামধন্য চিত্র নায়ক-নায়িকা আর গায়ক-গায়িকাদের উপস্থিতি এবং তাঁদের শিল্পকর্মের অবলোকন। একবার অপর্ণা সেনকেও দেখেছিলাম যতটুকু মনে পড়ে।
গত কয়েক বছরে অপেক্ষাকৃত কিছু তরুণ কর্মীর হাতে লস অ্যাঞ্জেলেসের দক্ষিণী’র পূজা উৎসবের অনেক পরিবর্তন ঘটলো। এ পরিবর্তনে সবার ভিতরে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হল। নব উদ্দীপনায় জীর্ণ, শীর্ণ, মানুষকেও যখন রোগ-পীড়া উপেক্ষা করে সকলের সঙ্গে আনন্দের জোয়ারে সামিল হতে দেখি তখন মনে হয় ভাগ্যিস অপেক্ষাকৃত কিছু তরুণ দায়িত্বটুকু হাতে নিয়ে নিজের শ্রম, সময় আর নিষ্ঠা দিয়ে এই পরিবর্তন এনেছিল! কবিগুরুর ভাষায় ‘আধ-মরাদের ঘা মেরে’ বাঁচানোর মতোই এই পরিবর্তন।

সাম্প্রতিক কালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভারত থেকে গায়ক-গায়িকার সমাগমের সাথে স্থানীয় কিশোর-কিশোরী আর কচিকাঁচাদের আধো আধো বাংলায় গীতিনাট্য উপহার দেখে মনে হয় এ যেন শরতে শ্যাম বাংলার নরম হাওয়ার সাথে ভেসে আসা পূজার আনন্দ সুর।
ছোটদের কর্মক্ষমতা দেখলে বোঝা যায় নতুন দেশে নিজের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াসে বাবা বিশেষ করে মায়েরা কি অপরিসীম ধৈর্য্য আর অক্লান্ত পরিশ্রমের পরীক্ষা দিচ্ছেন! আর বড়দের নাটক, অনেক ক্ষেত্রে পেশাদারকেও যেন হার মানায়!
শুক্রবার রাত, শনি এবং রোববারের দুপুর আর রাতের খাবারের জন্য বাড়িতে হাড়ি চড়াতে হয় না। কিছু চাঁদার বিনিময়ে এ পর্বটি পূজ মন্দিরেই আয়োজিত হয়। অনেক সময় ক্যাটারিং হয় ভারতীয় বা বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ থেকে। আবার কখনো স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবিরাই রান্নাবান্নাটা করে ফেলেন। এখানে বেশির ভাগ সময়েই পূজার রান্নাটা পুরুষরাই করে থাকেন। তাদের রান্না করা খিচুড়ি, পাঁচমিশেলি সবজি আর চাটনিটাই হয়ত বা আমাদের অনেকের কাছে পূজার বড় আকর্ষণ! শেষ পাতে মিষ্টি, পূজার পুরো আড়ম্বরকে আরও মিষ্টি করে তোলে!
আমরা অনেকেই মনে করি একটা অদৃশ্য মহাশক্তি বিরাজমান এই পৃথিবীতে। অনেকের মতে এই মাটির মূর্তিতে কয়েক দিনের জন্য অদৃশ্য এই শক্তির উৎস বিরাজিত হয়। কেউ কেউ তাকে বন্দনা করে আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে জীবনের পথটা মসৃণ করতে চান। সেটা একটা বিশ্বাস এবং প্রত্যেকের নিজস্ব ব্যাপার। সে বিশ্বাসে শ্রদ্ধা রেখে আরও একটা জিনিষ আমার মনে হয়, সেটা হচ্ছে দুর্গা পূজা হচ্ছে এক নারীরূপী মহাশক্তিকে বন্দনা করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। কিন্তু দেবীকে বন্দনা করে একটা আত্মশুদ্ধিরও যে পথ খোলা থাকে সেটা থেকে আমরা অনেকেই নিজেকে বঞ্চিত করি। এখনো সমাজের আনাচে কানাচে (বিশেষ করে অনুন্নত স্থানে) কত নারী নির্যাতন! আমার ধারনায়, আত্মশুদ্ধি হচ্ছে প্রচলিত অন্ধবিশ্বাস থেকে নিজেকে মুক্ত করা। রাজা রামমোহন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো অনেক মনীষী যারা নারীকে মানুষের মূল্য দিয়ে তার যাত্রা পথটা কিছুটা সহজ করেছেন তাঁরা আমার কাছে দেবতুল্য এবং তাদের পথ যাঁরা অনুসরণ করেন তাঁরা আমার কাছে নমস্য। কিন্তু যারা অন্য পথে চলেন, তাদের কাছে নারী হচ্ছে পুরুষের চাইতে নিকৃষ্ট মানের একটি মানুষ এবং পুরুষকে তুষ্ট করার জন্যই তার জন্ম। বংশপরাম্পর ধরে চলছে এই উৎকৃষ্টতার লালন। গলাবাজি করে শক্তির দম্ভ করে নিজেকে কেউই ছোট বানান না, তা ঠিক, কিন্তু এই দম্ভের বহি:প্রকাশ ঘটে অতর্কিতে, তাদের আচার-আচরণে, সংসারের সংকটময় মুহূর্তে। এটা শুনতে শুনতে অনেক নারীও নিজেকে তাই পুরুষের তুলনায় নিকৃষ্ট ভাবতে আরম্ভ করেন। মেধাকে বাইরের জগতে কাজে লাগানোর যে সুযোগ পুরুষ জাতি পান ততোটুকু সুযোগ বেশীরভাগ নারীই পান না বা নেন না। প্রতিটি সংসারে কারোর মাতা, কারোর স্ত্রী কারোর হয়ত বা কন্যা, কমনীয় এবং রমণীয় রূপে কখনো বা নিজের অস্তিত্ব আর যশের কথা ভুলে দুটি হাত দিয়েই দশভূজার মতো সব দিক সামাল দিয়ে নিজের সংসারটিকে শ্বাপদমুক্ত করে এগিয়ে চলছেন।
যে নারী তার স্বামী, পুত্র, পিতা বা ভাইকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তিনি কি করে অবলা আর নিম্ন মানের মানুষ? বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিজের ঘরের দুর্গাকে সন্মান জানাতে ঘরের পুরুষকুল এমনকি নারীকুলেরও আত্মসন্মানে বড় বাঁধে। দুর্গা প্রতিমা, যিনি নারী প্রতিকৃতি, তাঁকে নতজানু হয়ে বন্দনা করে আমাদের আত্মশুদ্ধি থেকে নিজেকে যেন বঞ্চিত না করি। নিজ ঘরের দুর্গাকে প্রাপ্য সন্মানটুকু যেন দিতে শিখি। আমাদের পরবর্তী বংশধররাও তা দেখে শিখবে এবং সুন্দর সংসার এবং সমাজ গড়ে তুলবে-এই প্রত্যাশা।