প্রবাস মেলা ডেস্ক: ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে ভয়াবহ বোমা হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষ আটকে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ হামলাকে ‘ভয়াবহ নৃশংসতা’ আখ্যা দিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামে অন্তত ৯টি তিন হাজার কেজি ওজনের আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা বোমা আঘাত হানে বলে আঞ্চলিক প্রধান মিখাইলো সেমিকিন জানিয়েছেন। এতে পাঁচজন আহত হন। হামলার পর প্রাথমিকভাবে ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছিল।
জেলেনস্কি বলেন, মানবিক সহায়তার কাজে ব্যবহৃত স্থানীয় একটি স্কুলে প্রথম হামলার পর, মানুষ যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়। সোমবারের হামলায় সৃষ্ট বিশাল গর্তের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি। এতে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকর্মীদের তল্লাশি চালাতে দেখা যায়।
বিবিসি বলছে, হামলার পর প্রথমে নিহতের সংখ্যা ১৮ বলে জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি। পরে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা ডিএসএনএস জানায়, দুই উদ্ধারকর্মী ও চার পুলিশ সদস্যসহ ২৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পরে সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে দেয়া ভিডিওবার্তায় জেলেনস্কি বলেন, এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, সোমবার কোমিশুভাখায় অবস্থান করা স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতি সপ্তাহে ওই জায়গা থেকে মানবিক সহায়তা নিতেন—এ বিষয়টি রাশিয়ার অজানা থাকার কথা নয়।
জেলেনস্কি বলেন, ‘এটি আরও একবার প্রমাণ করে দিলো যে রাশিয়া উত্তেজনা কমাতে চায় না।’
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময় রাশিয়ার দখলে থাকা দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওলেশকি থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যৌথ অভিযান সফল হয়েছিল। জেলেনস্কি বলেন, ‘এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে রাশিয়া ঠিক বিপরীত বার্তা দিচ্ছে। আর তা হলো—রাশিয়া আরও হত্যাকাণ্ডের ওপরই ভরসা করছে।’
এদিকে সেমিকিন রুশ হামলাকে গ্রামটির জন্য ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেন, ‘এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে রয়েছেন’। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছে। তবে ওই এলাকায় রুশ ড্রোন হামলার কারণে কয়েকবার উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছে।
মঙ্গলবার পুরো জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্থগিত হয়ে যাওয়া শান্তি আলোচনা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আবার শুরু হওয়ার কথা। এতে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এরই মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা প্রতিরোধক ব্যবস্থা প্রায় ফুরিয়ে আসায় ইউক্রেনের ওপর হামলা বাড়িয়েছে মস্কো।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সম্ভাব্য ওই আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে না।